নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: আইএনটিটিইউসি’র রাজ্য সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম সংগঠনের জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি তপন দে’র বিরোধ তুঙ্গে উঠল। ঋতব্রত আইএনটিটিইউসি’র জলপাইগুড়ি জেলা কমিটি অবৈধ বলে ঘোষণা করায় ‘শেষ দেখে ছাড়া’র হুমকি দিলেন তপন। একইসঙ্গে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর আদর্শ নন বলে সাফ জানিয়ে দিলেন তিনি। তপনের হুমকি, আমাকে ঘিরে যদি বিড়ম্বনা তৈরি হয়, বলে দিলে এক সেকেন্ডে ইস্তফা দেব। অন্যদিকে, তপনের বিরুদ্ধে রীতিমতো সরব হয়ে মঙ্গলবার তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ তথা আইএনটিটিইউসি’র রাজ্য সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, জলপাইগুড়ি জেলার ১৬টি সাংগঠনিক ব্লকের বেশিরভাগ সভাপতি তপনের নামে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এছাড়াও তাঁর নামে বেশকিছু গুরুতর অভিযোগ জমা পড়েছে। বিষয়টি দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে। বিধানসভা ভোটের মুখে ঋতব্রত বনাম তপনের এই বিরোধ ঘিরে আলোড়ন ছড়িয়েছে তৃণমূলের অন্দরে।
দিন কয়েক আগে সংগঠনের ৭৮ জনের জেলা কমিটি ঘোষণা করেন আইএনটিটিইউসি’র জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি তপন দে। ওই কমিটিতে তৃণমূলের জেলা সভানেত্রী মহুয়া গোপের সই না থাকায় বিতর্ক তৈরি হয়। সেইসঙ্গে জলঘোলা হয় আইএনটিটিইউসি’র জলপাইগুড়ি টাউন ব্লক সভাপতি পুণ্যব্রত মিত্রর নাম না থাকা ঘিরেও। এই পরিস্থিতিতে সোমবার জলপাইগুড়িতে এসে তপনের ঘোষণা করা জেলা কমিটি অবৈধ বলে জানিয়ে দেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইসঙ্গে পুণ্যব্রত মিত্রকে সংগঠনের জেলা সহ সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করেন তিনি। এরপরই ঋতব্রত বনাম তপনের বিরোধ প্রকাশ্যে এসে পড়ে। এদিন ফোনে যোগাযোগ করা হলে তপন বলেন, দলের বৈঠকে নেতৃত্ব আমাকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এক ব্যক্তি এক পদ। সেক্ষেত্রে পুণ্যব্রত মিত্রকে আইএনটিটিইউসি’র জেলা সহ সভাপতি করলে বাকি ১৫টি ব্লকের সভাপতিকেও ওই পদ দিতে হবে। এত সহজে আমিও ছাড়ার পাত্র নই। তাঁর হুমকি, আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে দল করি। তাঁরাই আমার আদর্শ। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় আমার আদর্শ নন। সুতরাং, আমার ঘোষণা করা কমিটি অবৈধ হলে তিনি আমাকেও অবৈধ বলে ঘোষণা করুন।
এদিন ফোনে তপন দে’কে বিঁধে ঋতব্রত বলেন, কমিটিতে কাদের নাম রাখা হয়েছে তার চেয়েও বড় কথা, সেখানে দলের জেলা সভানেত্রী মহুয়া গোপের সই নেই। ফলে ওই কমিটি কখনও বৈধ হতে পারে না। আইএনটিটিইউসি সূত্রে খবর, তপনের বিরুদ্ধে সংগঠনের রাজ্য সভাপতির কাছে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি আরএসএসের পোস্টে লাইক করছেন, এমন অভিযোগও রয়েছে। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ উড়িয়ে তপনের দাবি, শৃঙ্খলা মেনেই আমি কাজ করছি। অহেতুক আমার সেই কাজে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে।