Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জল জীবন মিশন প্রকল্প: টাকা দিচ্ছে না কেন্দ্র, ক্ষোভ

কেন্দ্রের বঞ্চনার তালিকায় এবার যুক্ত হল পানীয় জল। জল জীবন প্রকল্পে মুর্শিদাবাদে বকেয়া টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে সাড়ে তিনশো কোটিতে।

জল জীবন মিশন প্রকল্প: টাকা দিচ্ছে না কেন্দ্র, ক্ষোভ
  • ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বহরমপুর: কেন্দ্রের বঞ্চনার তালিকায় এবার যুক্ত হল পানীয় জল। জল জীবন প্রকল্পে মুর্শিদাবাদে বকেয়া টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে সাড়ে তিনশো কোটিতে। বকেয়া টাকা না মেলায় প্রকল্পের কাজ থেকে হাত গুটিয়ে নিয়ে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরে সামনে ধর্না, বিক্ষোভে বসেছেন মুর্শিদাবাদ ডিস্ট্রিক্ট কনট্রাক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের প্রায় চারশোজন ঠিকাদার। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে ধর্না বিক্ষোভ আন্দোলন। আজ ২৪ তারিখ বিকেল ৫টা পর্যন্ত তা চলবে। এর আগে ১৬ ও ১৮ সেপ্টেম্বর দু’ দিন দুপুর ১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পিএইচই দপ্তরের দুই ডিভিশনের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারকে ঘেরাও করে রাখা হয়েছিল। অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, বকেয়া বাড়তে বাড়তে তাঁদের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে। টাকার অভাবে তাঁরা কাজ থেকে হাত গোটাতে বাধ্য হয়েছেন। ঠিকাদার সংস্থাগুলি কাজ থেকে হাত গুটিয়ে নেওয়ায় কার্যত কেন্দ্রের ‘হর ঘর জল’ প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়েছে। মুর্শিদাবাদ ডিভিশনের পিএইচই দপ্তরের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রাজ্য সরকার নিজের শেয়ারের থেকে অনেক বেশি টাকা দিয়েছে। কিন্তু কেন্দ্র বরাদ্দ বন্ধ করে দেওয়ায় বিপুল অঙ্কের টাকা বকেয়া পড়ে রয়েছে।

Advertisement

২০১৯ সালে ঢাক পিটিয়ে প্রচার করে কেন্দ্র সরকার ‘হর ঘর জল’ প্রকল্প বাজারে এনেছিল। জল জীবন মিশনে কেন্দ্র ও রাজ্যের শেয়ার সমান সমান। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের পর কেন্দ্র সরকার অজ্ঞাত কারণে বরাদ্দ বন্ধ রেখেছে। রাজ্য সরকার ২০২৫ সালের মার্চ মাসে নিজের শেয়ারের থেকে অনেক বেশি টাকা দিয়ে ঠিকাদারদের পাশে দাঁড়ায়। তারপর থেকে বকেয়া জমতে জমতে পাহাড় হয়েছে। টাকার অভাবে ঠিকাদার সংস্থাগুলি মেনটেনেন্স থেকে শুরু করে সমস্ত কাজ বন্ধ রেখেছেন। অথই জলে পড়েছে কেন্দ্রের ‘হর ঘর জল’ প্রকল্প। মুর্শিদাবাদ ডিস্ট্রিক্ট কনট্রাক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় বিশ্বাস বলেন, আমরা কাজ বন্ধ করতে চাইনি। কিন্তু ঋণ করতে করতে আমাদের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে। অনেকে স্ত্রীর গয়না বন্ধক দিয়ে ছাড়াতে পারছেন না। টাকার অভাবে বহুজন চিকিৎসা করাতে পারছেন না। পুজোর আগে পরিবারের চাহিদা পূরণ করতে না পেরে অনেকে মানসিক অবসাদে ভুগছেন। এই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই আমরা কাজ বন্ধ রেখে আন্দোলনে নেমেছি। এদিকে বকেয়া দিতে না পারায় চরম বিপাকে পড়েছেন জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের মুর্শিদাবাদ ও বহরমপুর -১ ডিভিশনের আধিকারিকরা। পুজোর আগে বকেয়ার কিছু অংশ মেটানোর দাবি তুলেছে ঠিকাদার সংস্থাগুলি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ