Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ব্যবসায়ীদের জেলযাত্রাই রেওয়াজ! লোকসভার স্পিকারের সামনে ক্ষোভ

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাঝেমধ্যেই অভিযোগ করেন, ইডি, সিবিআই বা আয়করের মতো দপ্তরকে দিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

ব্যবসায়ীদের জেলযাত্রাই  রেওয়াজ! লোকসভার স্পিকারের সামনে ক্ষোভ
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাঝেমধ্যেই অভিযোগ করেন, ইডি, সিবিআই বা আয়করের মতো দপ্তরকে দিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে যাতে কেউ মুখ না খোলে, তার জন্যই এই ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। এবার কার্যত মুখ্যমন্ত্রীর সেই কথারই প্রতিধ্বনি শোনা গেল বণিকসভার এক অনুষ্ঠানে। সেখানে উপস্থিত লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে উদ্দেশ করে বণিকসভার এক কর্তা বললেন, ‘বিচার ব্যবস্থায় জামিন পাওয়াই রেওয়াজ, জেলে যাওয়া নয়। কারণ জেলযাত্রা ব্যতিক্রমী ঘটনামাত্র। কিন্তু তা বদলে গিয়ে এখন জেলযাত্রাই রেওয়াজ হয়ে গিয়েছে। ব্যতিক্রম হয়ে দাঁড়িয়েছে জামিন পাওয়া।’ শিল্পমহল মনে করছে, সরাসরি নরেন্দ্র মোদি প্রশাসনের নাম না নেওয়া হলেও লোকসভার স্পিকারকে সামনে রেখে এই বক্তব্য আসলে কেন্দ্রের শাসক দলের কথা মাথায় রেখেই করা। 

Advertisement

সোমবার ভারত চেম্বার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওম বিড়লা। সেখানে এই বণিকসভার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট তথা সেখানকার ১২৫তম বর্ষ উদযাপন কমিটির চেয়ার‌ম্যান এন জি খৈতান এই বক্তব্য রাখেন। পাশাপাশি তিনি জিএসটি সংক্রান্ত একটি মামলার প্রসঙ্গও তোলেন। বলেন, ‘বিচারপতি মনমোহন তাঁর একটি রায়ে সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, কর প্রশাসকরা ব্যবসায়ীদের সবসময় করখেলাপি হিসেবেই দেখেন। এই মানসিকতার বদল হওয়া জরুরি। ব্যবসায়ীদেরও সম্মান করতে হবে।’ তাঁর আরও বক্তব্য, ‘দেশ যদি এগিয়ে যেতে চায়, তাহলে ব্যবসায়ীদের সম্মান করতেই হবে।’ বণিকসভার কর্তার ওই বক্তব্য যে অত্যন্ত বাস্তববাদী, তা জানিয়েছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রের এই মনোভাবের বিরুদ্ধে বারবার সোচ্চার হয়েছেন। যেভাবে ইডি, সিবিআইকে নিজেদের স্বার্থে কেন্দ্রীয় সরকার কাজে লাগাচ্ছে, তার বিরুদ্ধে লাগাতার প্রতিবাদ করে যাচ্ছেন তিনি। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে তদন্তের নামে তাঁদের গতিবিধির উপর নজরদারি চলছে। স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, সবাই তো অসাধু ব্যবসায়ী নয়। অথচ সব ক্ষেত্রেই আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা যেখানে লগ্নি করবেন, সেই জায়গা যদি কেন্দ্রের শাসক দলের পছন্দ না হয়, তাহলেই তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা কোথায় কোন রাজ্যে ব্যবসা করবেন, তা তাঁদের স্বাধীনতা। সেই স্বাধীনতা খর্ব করে ভয় দেখাচ্ছে কেন্দ্র।’ 
এদিন ওম বিড়লা তাঁর বক্তব্যে দাবি করেন, বিনিয়োগকারীদের অভিমুখ এখন ভারতের দিকে। কারণ এখানে শিল্পবান্ধব পরিকাঠামো গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘প্রশাসনিক জটিলতা কাটানোর লক্ষ্যেই কেন্দ্র মিনিমাম গভর্নমেন্ট ম্যাক্সিমাম গভর্ন্যান্স-এর নীতি এনেছে। আগামী দিনে তা আরও ভালোভাবে বোঝা যাবে।’ 

সম্পর্কিত সংবাদ