সংবাদদাতা, ঘাটাল: ঘাটালের বাসিন্দা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক নিরুদ্দেশ। কয়েক মাস ধরে তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ঘাটাল থানার রাধাকান্তপুর গ্রামের এই মেধাবী ছাত্রের নাম শুকদেব বেরা। উচ্চশিক্ষার আঙিনায় উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে এক সময় গ্রামের গণ্ডি পেরিয়েছিলেন। বর্তমানে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে গবেষণা করছেন। কয়েক মাস হল তাঁর কোনও হদিশ পাওয়া যাচ্ছে না। যে বাবা-মা এক সময় ছেলের সাফল্যের খবরে আনন্দিত হতেন, তাঁরা এখন ছেলেকে ফিরে পেতে হন্যে হয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। যাদবপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, শুকদেবের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে ইতিমধ্যেই একটি ডায়েরি করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে সবরকম খোঁজ চালানো হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি নিজের পরিচিত বৃত্ত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শুকদেব অত্যন্ত মেধাবী। গেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি গবেষণার কাজ শুরু করেছিলেন। শক্তিপদ বেরা ও শ্যামলী বেরার দুই ছেলের মধ্যে শুকদেব ছোট। বড়ছেলে বাসুদেব ভিনরাজ্যে সোনার কাজ করেন। শক্তিপদবাবু বলেন, ছোট ছেলেকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল পরিবারের। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল ছেলে। কখনও তার ফোন বন্ধ থাকে, আবার কখনও ফোন বাজলেও ধরত না। দুশ্চিন্তায় পড়ে সম্প্রতি তাঁর বাবা-মা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে জানতে পারেন, শুকদেব সেখানেও অনিয়মিত। যে মেসে তিনি থাকতেন, সেখানেও তাঁর কোনও খোঁজ মেলেনি।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিভাগীয় প্রধান অনুপম দেবসরকার ওই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, শুকদেব অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিল। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে ও খুব অনিয়মিত হয়ে পড়েছিল। ওর গবেষণার গাইডও এ নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। আমরা পরিস্থিতি বুঝে ওর মা-বাবাকেও বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেকে পাঠিয়েছিলাম।
তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়মিত হওয়ার কারণে শুকদেবের স্কলারশিপের টাকাও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। বিভাগীয় প্রধানের অনুমান, সম্ভবত কোনও মানসিক টানাপোড়েন বা ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে ওর জীবনযাপনে পরিবর্তন এসেছিল, যা ওকে এমন কোনও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।
রাধাকান্তপুর গ্রামের বাড়িতে এখন শুধুই হতাশার ছবি। মা শ্যামলীদেবী দুয়ারে বসে পথের দিকে চেয়ে থাকেন, যদি ছেলেটা একবার ফিরে আসে। অভাবের সংসারে অনেক কষ্ট করে ছেলেকে পড়িয়েছিলেন শক্তিপদবাবু। আজ বার্ধক্যের সেই সম্বল হারিয়ে দিশেহারা বাবা কেবল প্রশাসনের দিকেই তাকিয়ে আছেন।