Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ইউপিএসসির প্রথম দুই পশ্চিম ও পূর্ব বর্ধমানের 

ইউপিএসসির প্রথম দুই পশ্চিম ও পূর্ব বর্ধমানের 
  • ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সুমন তেওয়ারি, আসানসোল ও অনিমেষ মণ্ডল, কাটোয়া:  ইউপিএসসি’র ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল সার্ভিস (আইএসএস) পরীক্ষায় বাংলার মুখ উজ্জ্বল করলেন পশ্চিম ও পূর্ব বর্ধমানের দুই কৃতী। দু’জনেই টপার। একজন, আসানসোলের সিঞ্চন স্নিগ্ধ অধিকারী। তিনি প্রথম স্থানাধিকারী। অন্যজন, আউশগ্রামের বিল্টু মাঝি। তিনি হয়েছেন দ্বিতীয়। গুরুত্বপূর্ণ এই সরকারি চাকরির পরীক্ষায় দু’জনের এহেন নজরকাড়া সাফল্যে উচ্ছ্বসিত দুই বর্ধমানের সাধারণ মানুষ থেকে প্রশাসনিক মহল। ইউপিএসসিকে একেবারে পাখির চোখ করে এগিয়েছিলেন সিঞ্চন ও বিল্টু। সঙ্গে অদম্য অধ্যবসায়। তাতেই তাক লাগানো সাফল্য।    
Advertisement
সিঞ্চন আসানসোল রামকৃষ্ণ মিশনের প্রাক্তনী। বাড়ি শহরের মাদার টেরেজা সরণিতে। পরে কলকাতার আইএসআই থেকে স্ট্যাটিস্টিক্সে উপর মাস্টার্স করেন। মোটামুটি স্বচ্ছল পরিবার। বাবা প্রদীপ অধিকারী মাইন্স বোর্ড অব হেলথের কর্মী। মা সুজাতাদেবী গৃহবধূ। সাফল্যের পুরো কৃতিত্বটাই সিঞ্চন দিতে চান বাবা-মাকে। প্রদীপবাবু বলছিলেন, ‘ইউপিএসসিতে পাশ করা ওর স্বপ্ন ছিল। কিন্তু এভাবে দেশের মধ্যে প্রথম স্থান দখল করবে, তা ভাবিনি। খুব ভালো লাগছে।’ মিশনের প্রধান শিক্ষক গোবিন্দ  মহারাজ বলেন, ‘সিঞ্চন ছোটবেলা থেকেই খুব মেধাবী। ওঁর এই সাফল্যে আমরা গর্বিত।’ বিল্টুর গল্পটা একটু অন্যরকম। বাবা জয়দেব মাঝি সামান্য কৃষক। বাড়ি আউশগ্রাম-২ ব্লকের রামনগর পঞ্চায়েতের পাণ্ডুক গ্রামে। সাকুল্যে বিঘে দুই জমি। সেটাই চাষাবাদ করেন। বিল্টুর মা সুমিত্রাদেবী কাঁথাস্টিচের কাজ করেন। চার হাতের আয়ে কোনওরকমে সংসার চলে। তার মাঝে বড় মেয়ে বিউটির বিয়ে দিয়েছেন। সংসার সামলে একমাত্র ছেলে বিল্টুকে নামজাদা কোনও কোচিং সেন্টারে পড়াতে পারেননি। নিজেই প্রস্তুতি নিয়ে আইএসএস পরীক্ষায় দু’বার বসেছিলেন বিল্টু। অকৃতকার্য হন। কিন্তু হাল ছাড়েননি। তৃতীয়বারেই বাজিমাত। 
ছেলেবেলা থেকেই মেধাবী  বিল্টু। গ্রামেরই দীননাথপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাশ। বিশ্বভারতী থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও স্ট্যাটিস্টিক্সে অনার্স। ২০২০ সালে বিএসসি পাশ করে সংসারের হাল ফেরাতে চাকরির পরীক্ষা দেন। ওই বছরেই ভারতীয় ডাক বিভাগে কাজ পান। বোলপুরের রূপপুর গ্রামীণ পোস্ট অফিসে যোগ দেন। তারপরেই বিল্টুর একমাত্র ধ্যানজ্ঞান হয়ে ওঠে ইউপিএসসি।  
বিল্টু বলছিলেন, ‘আমি কোনওদিন বড় স্বপ্ন দেখার সাহস পাইনি। সাধারণ গ্রামের ছেলে। সরকারি চাকরি করার একটা ঝোঁক ছিল। ইউপিএসসি পরীক্ষায় অদম্য চেষ্টা করেছি। সাফল্যের পর বুঝতে পারছি, হাল ছাড়লে চলবে না। আমার কোনও কোচিং ছিল না। নিজেই পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছি।’ ছেলের সাফল্যে মায়ের চোখে আনন্দাশ্রু। সুমিত্রাদেবী বলছিলেন, ‘আমার সব কষ্টের মর্যাদা দিয়েছে ছেলে।’ জয়দেববাবুর কথায়, ‘আমি ইউপিএসসি সম্পর্কে কিছুই জানি না। ছেলে পরীক্ষায় পাশ করার পর জানলাম বড় চাকরি পাবে। বড্ড আনন্দ হচ্ছে আমার।’ বিল্টুকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন আউশগ্রাম -২ বিডিও চিন্ময় দাস।
সম্পর্কিত সংবাদ