পক্ষে
পক্ষে
তুষার বন্দ্যোপাধ্যায়
বাঙালি ভ্রমণপিপাসু। তবে পুজোয় পাড়ায় হাজিরা আমার অগ্রাধিকার। সপ্তমীর সকালে নদীতে ঘট ভরতে যাব, সন্ধিপুজোয় থাকব, দশমী সকালে ঘট বিসর্জনের সুসজ্জিত মিছিলেও পা মেলাব। পুজোর ক’দিন মণ্ডপের সামনে আড্ডার ভিড়ে থাকব। কারও কাছে ‘তুই’, কারও কাছে ‘তুমি’ বা ‘আপনি’ সম্বোধন শুনব। শিকড় ভুলে যাওয়া যাবে না। সারা বছরের রসদ বুকে প্রাত্যহিকতায় ফের ফিরব।
অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক আধিকারিক
সুকন্যা দাস
পুজো মানে আমার কাছে নতুন কোনো জায়গায় ঘুরতে যাওয়া নয়, বরং নিজের চেনা শহর কলকাতার পুজোকে নতুন করে উপভোগ করা। ছোটোবেলা থেকে যে পাড়ায় বড়ো হয়েছি, সেখানকার মণ্ডপ, আশপাশের পুজো, বন্ধুদের সঙ্গে ঠাকুর দেখা, পরিবারের সঙ্গে রাত জেগে ঘোরার মধ্যে যে অসংখ্য স্মৃতি ও নস্টালজিয়া তৈরি হয়েছে, তা অন্য কোথাও গিয়ে কখনো পাওয়া সম্ভব নয়। বরং পুজোর সময় নিজের পাড়ার অলিগলি, আলো, ভিড় আর পরিচিত মুখগুলিই মনে এক আলাদা আনন্দ তৈরি করে।
কলেজ ছাত্রী
সম্পা সেনগুপ্ত
পুজো মানেই শুধু কাঠ, খড়, মাটি ও রঙের প্রলেপ নয়; পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে কত মানুষের স্মৃতি ও আবেগ। সময়ের পরিবর্তনে, ইন্টারনেটের যুগে অনেক জায়গায় মায়ের রূপের পরিবর্তন হলেও পাড়ার মায়ের রূপ যেন একই থাকে। খুঁটি পুজো থেকে বিসর্জন পর্যন্ত মায়ের সঙ্গে যেন আমরা সবাই ছুঁয়ে ছুঁয়ে থাকি। বেড়াতে যাওয়ার জন্য ছুটি অন্য সময়েও পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু পুজোর ছুটিতে বেড়াতে যাওয়ার চেয়ে পাড়ায় থাকাই ভালো।
গৃহবধূ
মৌপ্রিয়া নৌরিন
উৎসব মানেই ঐক্যের বন্ধন, মিলনের সুর। দুর্গাপুজো সেই মিলনের শ্রেষ্ঠ উপলক্ষ্য। আজকের যুগে সবাই ব্যস্ত। একই পাড়ায় থাকি, একই গলিতে হাঁটি, তবুও দু’দণ্ড কুশল বিনিময়ের সময়টুকুও হয় না। এভাবেই বছর কেটে যায়। পুজোর ক’টা দিন সেই শূন্যস্থান পূরণ করে দেয়। তখন পাড়ার প্যান্ডেলটাই আমাদের ড্রয়িংরুম হয়ে ওঠে। এই মেলবন্ধনের যে অক্সিজেন, তা কোনো পাহাড় বা সমুদ্র দিতে পারে না।
ছাত্রী
বিপক্ষে
সৃজন সাহা
পুজোর ছুটি সাধারণত বেশ লম্বা হয়, তাই এই সময়টাকে কাজে লাগিয়ে নতুন কোনো জায়গা, সেখানকার সংস্কৃতি ঘুরে দেখা একটি দারুণ সিদ্ধান্ত। আমরা সারাজীবন আমাদের স্থানীয় ঐতিহ্য দেখে এসেছি, কিন্তু অন্য রাজ্যে বা শহরে উৎসব কীভাবে পালিত হয়, সেখানকার মানুষের জীবনযাত্রা কেমন— তা জানার জন্য ভ্রমণই সেরা বিকল্প। ভ্রমণ আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রসারিত করে। পাড়ার গণ্ডিতে আটকে থাকলে এই ধরনের অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত থাকব।
কলেজ পড়ুয়া
শুভদীপ বেরা
পুজো মানেই ছুটি, হইহুল্লোড়। পুজোতেও নিজের পাড়াতে থাকা মানে চেনা পরিসরের মধ্যেই আটকে থাকা। তাই এই ছুটির মধ্যে ক’টা দিন যদি ভ্রমণের জন্য বরাদ্দ থাকে, তাহলে তা সারাজীবনের অমূল্য স্মৃতি হয়ে থাকবে। প্রকৃতিই মেটায় আমাদের মনের তৃষ্ণা। তাই পুজোয় পরিবারের সঙ্গে বেরিয়ে পড়ুন। দৈনন্দিন স্বাদ বদলের নামই ভ্রমণ।
সহকারী শিক্ষক
ভূমিকা দেওয়াশী
দুর্গাপুজোয় অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেশি ছুটি পাওয়া যায়। তাই এটা বেড়াতে যাওয়ার সেরা সময়। নতুন নতুন জায়গা দেখার ফলে আমাদের জ্ঞান অর্জন হয়, যা বই পড়ে হয় না। জীবনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য ভ্রমণ জরুরি। তাই পুজোর ছুটিতে পাড়ার পরিচিত পরিবেশ বাদ দিয়ে বাইরের জগৎটা ঘুরে আসা যেতে পারে।
স্কুল ছাত্রী
সঙ্ঘমিত্রা সেন
বেড়ানো মানে একরাশ আনন্দ, মুক্তি আর আদিগন্ত মনের জানালা খুলে দেওয়া। পুজোর ক’দিন পাড়ায় থেকে পরিচিতদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে পুজো শেষে ছুটির বাকি ক’দিন বেড়াতে বেরলেই হল। পাড়ার আড্ডা সারা বছর কম বেশি পাওয়া যায়, কিন্তু বেড়ানোর আনন্দ তো সহজে
মেলে না।
শিক্ষিকা