


ভয় নয়, ভালোবাসা
লন্ডনের সবচেয়ে বড় কবরস্থানে শ্যুটিং করার সময় ভয় পাননি। কিন্তু নিষ্ঠুর এক সত্যকে লালন করার স্মৃতি বর্ণনা করতে গিয়ে আজও ঐন্দ্রিলার গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে। ঐন্দ্রিলা বলেন, ‘যখন দেখতাম, বাবা-মায়েরা পরম যত্নে তাঁদের সন্তানের কবর পরিচর্যা করছেন, খুব কষ্ট হতো। মনে হতো জল দিয়ে কবর ধুয়ে দিচ্ছেন না, যেন তাঁদের বাচ্চাকে স্নান করাচ্ছেন। এইসব দেখে ভূতের ভয়ের কথা মাথাতেই আসত না।’ টলিউডের পছন্দের জুটি অঙ্কুশ-ঐন্দ্রিলা তাঁদের ছবি ‘চন্দ্রবিন্দু’র প্রচারে তখন আড্ডায় মশগুল। রাজা চন্দ পরিচালিত ছবি প্রেম, প্রত্যাশা ও পরাবাস্তবতায় ভরপুর। অঙ্কুশের সংযোজন, ‘এটা কোনও ভূতের ছবি নয়। শ্যুটিংয়ের সময় কবরস্থানে আমরা এমন সব মানবিক দৃশ্য দেখেছি তাতে ভয় পাওয়ার জায়গাটাই ছিল না।’
সমান্তরাল জগৎ
গল্পের নায়ক অর্ণব এক দুর্ঘটনায় তার বাবা-মাকে হারায়। নায়িকা মীরা হারায় তার স্বামীকে। মৃত প্রিয়জনদের লন্ডনের এক বিস্তৃত কবরস্থানে সমাধিস্থ করা হয়েছে। ধরা যাক সেই কবরস্থানে মৃত ব্যক্তিদের একটা সমান্তরাল জগৎ আছে। ছবির কাহিনির আভাস দিয়ে অঙ্কুশ বলেন, ‘এটা একটা ইমাজিনারি সিচুয়েশন।’
‘ভূত’-এর কৃপা
বাংলা ছবিতে লক্ষ্মীর কৃপা পেতে গেলে কি ‘ভূত’ ছাড়া গতি নেই? এবার অভিনেতার খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এল অঙ্কুশের প্রযোজক সত্তা। তাঁর যুক্তি, ‘কোন ছবি চলবে আর কোন ছবি চলবে না, আমরা কেউই আগাম অনুমান করতে পারি না। আসলে কথা হল গল্পটা আমরা ভালো করে বলতে পারছি কিনা।’
কমার্শিয়াল ছবির সাফল্য
ইন্ডাস্ট্রি কতটা অঙ্কুশ-ঐন্দ্রিলার কথা ভাবে? মুচকি হেসে অঙ্কুশ বলেন, ‘আমাদের কাজ আমাদের করে যেতে হবে। ভালো, মন্দ মিলিয়েই জগৎ। এটা ঠিক পরিকাঠামোয় এখনও অনেক খামতি রয়েছে।’ ঐন্দ্রিলা বরং অনেক সোজাসাপটা, ‘হয়তো ছোট মুখে বড় কথা বলছি, কে কী করলেন সেটা না ভেবে, আমাদেরকে আমাদের জন্যই করতে হবে। কমার্শিয়াল ছবি সাফল্য পেলেই পরীক্ষামূলক ছবি করার রাস্তা তৈরি হবে।’
টিকিটের মূল্য
মাল্টিপ্লেক্সের টিকিটের দাম কি ক্রমশ দর্শকের কাছে আকাশছোঁয়া হয়ে যাচ্ছে? এই পরিস্থিতি স্বীকার করে নিয়ে অঙ্কুশের যুক্তি, ‘আমরা কি দামি রেস্তরাঁয় খেতে যাচ্ছি না? জেনেই যাচ্ছি খাবারের দাম বেশি। তাও যাচ্ছি কারণ খাবারটা খেতে ভালো। ফলে এমন ছবি বানাতে হবে যাতে মানুষ বাড়িতে বসে থাকতে পারবে না। না হলে, সব স্তরে টিকিটের দাম কমাতে হবে।’
প্রিয়ব্রত দত্ত