সংবাদদাতা, সিউড়ি: কোজাগরি লক্ষ্মীপুজোয় জোড়া ইলিশ কেনার রীতি বহু প্রাচীন। বিশেষত পূর্ববঙ্গ থেকে আসা মানুষের মধ্যে এই প্রথা রয়েছে। কোনও কোনও বাড়িতে পুজোয় ভোগে ইলিশ নিবেদনের প্রথাও রয়েছে। তাই সোমবার সিউড়ির বাজারে ইলিশের ব্যাপক চাহিদা দেখা গেল। বোম্বে ইলিশের পাশাপাশি দাম বেশি হওয়া সত্ত্বেও পদ্মার ইলিশও দেদারে বিক্রি হয়েছে। লক্ষ্মীপুজোর দিনেই লক্ষ্মীলাভ হওয়ায় খুশি মাছ বিক্রেতারা।
সিউড়ি শহরের মাছ বিক্রেতারা জানালেন, প্রতিবছর কোজাগরি লক্ষ্মীপুজোয় ইলিশের ব্যাপক চাহিদা থাকে। সোমবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এদিন সিউড়ির বাজারের পদ্মার ইলিশ ১৮০০থেকে দু’হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। বোম্বে ইলিশ ৭০০ থেকে একহাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। যাঁরা জোড়া ইলিশ কেনেন, তাঁরা সাধারণত কাছাকাছি ওজনের দু’টি ইলিশেরই সন্ধান করে থাকেন। তাই ৭০০-১২০০গ্রাম অবধি বিভিন্ন ওজনের ইলিশ জোড়ায় জোড়ায় প্রচুর বিক্রি হয়েছে। পদ্মার ইলিশের জোগান কিছুটা কম থাকায় সেই মাছের দাম দু’হাজার টাকা ছুঁয়েছে।
সিউড়ি শহরের মাছবিক্রেতা বিল্টু সাহানি, শিবনাথ কাহার জানান, চাহিদা থাকবে জেনে তাঁরা এদিন বেশি করে ইলিশ নিয়ে বাজারে এসেছিলেন। সকাল থেকেই ইলিশের ভালো চাহিদা ছিল। দুপুর গড়ানোর আগেই প্রচুর মাছ বিক্রি হয়ে যায়।
মূলত পূর্ববঙ্গ থেকে আসা মানুষের মধ্যে এই রীতির প্রচলন বেশি। অনেকে মনে করেন, সেখানে ইলিশকে সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে দেখা হতো। সম্ভবত সেকারণেই লক্ষ্মীপুজোয় জোড়া ইলিশ কেনার রীতি প্রচলিত হয়। মা লক্ষ্মী শস্য, ধনসম্পদের দেবী। সেজন্য তাঁর আরাধনার দিনে জোড়া ইলিশ মাছ কিনলে পরিবার সচ্ছল ও ঐশ্বর্যশালী থাকবে বলে অনেকে মনে করেন।
লক্ষ্মীপুজোয় জোড়া ইলিশ মাছ দেওয়ার রীতি এখনও মেনে চলছেন গোপালচন্দ্র দত্ত, কৃষ্ণা দত্ত, দেবশ্রী মিত্র সরকাররা। তাঁরা জানালেন, প্রতিবছর লক্ষ্মীপুজোয় ইলিশ কিনে নিয়ে যান। পুজো শেষে রাতে খাওয়ার সময় ইলিশ মাছ মুখে দেওয়ার রীতি রয়েছে। এবার পদ্মার ইলিশের দাম একটু বেশি। তাই একটু বেশি খরচ হলেও জোড়া ইলিশ নিয়েই বাড়ি ফিরেছেন তাঁরা। পুজোর পর ইলিশের মরশুম ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যাবে। তাই অনেকে দাম বেশি হওয়া সত্ত্বেও পদ্মার ইলিশ কিনেছেন।