Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ইঁদুরের জ্বালায় নবান্নের মেঝেয় পা রাখা দায়, মূষিক সমস্যা মেটাবে কে? জোর তরজা পূর্ত দপ্তরের দুই বিভাগের

হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালাকেই খুঁজছে নবান্ন! জার্মান শহর হ্যামলিনকে ইঁদুরের উপদ্রব ও ভয়াবহ প্লেগের হাত থেকে সেদিন রক্ষা করেছিল অদ্ভুত এক বাঁশিওয়ালা।

ইঁদুরের জ্বালায় নবান্নের মেঝেয় পা রাখা দায়, মূষিক সমস্যা মেটাবে কে? জোর তরজা পূর্ত দপ্তরের দুই বিভাগের
  • ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রীতেশ বসু, কলকাতা: হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালাকেই খুঁজছে নবান্ন! জার্মান শহর হ্যামলিনকে ইঁদুরের উপদ্রব ও ভয়াবহ প্লেগের হাত থেকে সেদিন রক্ষা করেছিল অদ্ভুত এক বাঁশিওয়ালা। যার বাঁশির সুর অনুসরণ করে শহর ছেড়ে গিয়েছিল মূষিককূল। কিন্তু এ তো মধ্যযুগের জার্মান লোকগাথা! তাহলে এই একবিংশ শতকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগে কেন রাজ্য সরকারের প্রধান সচিবালয়কে হ্যমিলিনের বাঁশিওয়ালার খোঁজ করতে হচ্ছে? কারণ, আর কিছুই নয়! মূষিক কূলের উপদ্রবে জেরবার নবান্নের আধিকারিক থেকে কর্মীরা। 

Advertisement

কয়েকদিন আগের ঘটনা। টানা দু’ঘণ্টা মিটিং সেরে বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ নবান্নে নিজের অফিসে এসে বসেছেন এক আধিকারিক। মিটিংয়ে পাওয়া টিফিনের প্যাকেট টেবিলের উপর রেখে চোখেমুখে জল দিতে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে দেখেন, প্যাকেটের দখল নিয়েছে দু’টি ধেড়ে ইঁদুর! এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে নামলেই ১৪ তলা নবান্নের অধিকাংশ তলই চলে যাচ্ছে ইঁদুরের দখলে। পরিস্থিতি এতটাই সঙ্গীন যে সন্ধ্যার পর কাজ করতে গেলে বেশিরভাগ সময় চেয়ারের উপর পা তুলে বসতে হচ্ছে। ভুক্তভোগী আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, নবান্নের সবক’টি তলেই ইঁদুরের কমবেশি দৌরাত্ম চললেও পাঁচ-ছ’তলা পর্যন্ত সন্ধ্যার পর কার্যত তাদের মুক্তাঞ্চলে পরিণত হয়। ইঁদুরের জ্বালায় বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে খোদ বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরই। সম্প্রতি তাদের অধীনে থাকা ইমার্জেন্সি কন্ট্রোল রুমের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হতে বসেছিল মূষিক তাণ্ডবের কারণে। নবান্নের তিনতলায় অবস্থিত এই কন্ট্রোল রুমে ইন্টারনেট সংযোগের জন্য রয়েছে ‘ইন্টিগ্রেটেড অ্যান্ড ডেডিকেটেড ফাইবার লিঙ্ক’। সেই কেবল বারবার কেটে দিচ্ছে ইঁদুর। সমস্যায় তিতিবিরক্ত পূর্তদপ্তরের আইটি সেল ১৫ সেপ্টেম্বর বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরকে চিঠি দিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ইঁদুর সমস্যার পাকাপাকি সমাধান না করলে তাদের পক্ষে নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট পরিষেবা দেওয়া সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে তারা পূর্তদপ্তরের সিভিল সেলকে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শও দিয়েছে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইঁদুরের দাপাদাপির বিষয়টি তাদের অজানা নয়। নবান্নের একতলায় ক্যান্টিন। বাইরে রান্নাঘর। রাতে কেউ এলেই টের পাবে, তিন-চারটি তল কীভাবে ইঁদুরের রাজত্বে পরিণত হয়। কিন্তু এর থেকে রেহাই পাওয়ার উপায় কী? জানা গিয়েছে, অনেকদিন ধরেই ইঁদুর-সমস্যায় ভুগছে নবান্ন। তবে ইদানিং তা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগে মাঝেমধ্যে রাতের দিকে খাঁচা পাতা হতো ইঁদুর ধরার জন্য। এখন আঠা লাগানো ম্যাট পাতা হয়। কিন্তু তাতেও ইঁদুর সমস্যায় ইতি টানা যাচ্ছে না বলেই খবর। অগত্যা এক আধিকারিকের সরস মন্তব্য, ‘আমরা এখন হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালাকেই খুঁজছি। এছাড়া আর তো কোনও রাস্তা দেখছি না!’ কার্টুন: সুব্রত মাজী

সম্পর্কিত সংবাদ