Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অবশেষে একাধিক নতুন লোকাল ট্রেনের স্টপেজ পেল ঈশানচণ্ডী

অবশেষে একাধিক নতুন লোকাল ট্রেনের স্টপেজ পেল বর্ধমান-আসানসোল শাখার আসানসোল ডিভিশনের ঈশানচণ্ডী হল্ট স্টেশন।

অবশেষে একাধিক নতুন লোকাল ট্রেনের স্টপেজ পেল ঈশানচণ্ডী
  • ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মানকর: অবশেষে একাধিক নতুন লোকাল ট্রেনের স্টপেজ পেল বর্ধমান-আসানসোল শাখার আসানসোল ডিভিশনের ঈশানচণ্ডী হল্ট স্টেশন। দীর্ঘদিন ধরে এখানে সারাদিনে মাত্র দু’জোড়া ট্রেন দাঁড়াত। ফলে গলসির ঈশানচণ্ডী স্টেশন সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা অসুবিধায় পড়তেন। অবশেষে তাঁরা নতুন ট্রেন পেয়ে খুশি। এলাকার বাসিন্দারা বলেন, রেলের কাছে বহুবার কয়েকটি লোকাল ট্রেনের স্টপেজের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। আমাদের অসুবিধার কথা একমাত্র নিয়মিতভাবে ‘বর্তমান’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। অবশেষে নতুন পাঁচটি ট্রেনের স্টপেজ পাওয়ায় আমরা খুশি। ‘বর্তমান’ পত্রিকাকে ধন্যবাদ। লোকাল ট্রেন দাঁড়ানোয় যাতায়াতের অসুবিধা অনেকটাই মিটল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৩ সালের ৩১ জুলাই ঈশানচণ্ডীতলায় হল্ট স্টেশনটির উদ্বোধন হয়। উদ্বোধনের আগে থেকেই ওই স্টপেজে সকাল-বিকেল আপ ও ডাউনে দু’জোড়া করে ট্রেন দাঁড়াত। কিন্তু স্টেশন উদ্বোধনের পরও ছবিটা বদলায়নি। অনেকেই তখন ভেবেছিলেন আরও কয়েকটি লোকাল ট্রেনের স্টপেজ দেওয়া হবে। কিন্তু তারপরও এতদিন ধরে দু’জোড়া ট্রেনই থামছিল স্টেশনে। অথচ খানো, পিলগ্রাম, জয়কৃষ্ণপুর, তারানগর, উড়া, বড়সোনা, ছোটমুড়িয়া, ডালিমগড়িয়া, ভুড়ি সহ একাধিক গ্রামের বাসিন্দারা এই স্টেশনের উপর নির্ভরশীল। স্থানীয়রা মনে করছেন, সব লোকাল ট্রেনের স্টপেজ দিলে যাত্রীর সংখ্যাও বাড়বে, রেলের আয় হবে।রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ঈশানচণ্ডী হল্ট স্টেশনে কয়েকদিন আগে নতুন দু’টি আসানসোলগামী মেমু প্যাসেঞ্জারের স্টপেজ দেওয়া হয়েছে। একটি ৬৩৫০৭ লোকাল ভোর ৫টা ২৪ মিনিটে এবং অন্যটি ৬৩৫২৫ রাত ৮টা ২৪ মিনিটে এখানে দাঁড়াচ্ছে। এবার আরও তিনটি ট্রেনের স্টপেজ দেওয়া হচ্ছে। ৬৩৫১০ ঝাঝা-বর্ধমান মেমু সন্ধ্যা ৬টা ২২ মিনিটে, ৬৩৫৫০ অণ্ডাল-বর্ধমান মেমু সন্ধ্যা ৭টা ২২ মিনিটে ও ৬৩৫৪৯ বর্ধমান-আসানসোল মেমু দুপুর ১২টা ৫৮ মিনিটে এখানে দাঁড়াবে।

Advertisement


স্থানীয় বাসিন্দা সুফল ঘোষ, রতন বাগদি বলেন, এতদিন সকাল ও বিকেলে আসানসোলগামী দু’টি এবং বর্ধমানগামী দু’টি লোকাল ট্রেন থামত। ফলে ট্রেনে দুর্গাপুর বা বর্ধমান যেতে দুর্ভোগ পোহাতে হত। এবারে বর্ধমান থেকে আসানসোল যাওয়ার প্রথম ও শেষ ট্রেনের স্টপেজ দেওয়া হয়েছে। দুপুরেও একটি ট্রেন দাঁড়াচ্ছে। এতে এলাকার বাসিন্দারা উপকৃত হবেন। অনেকেরই সন্ধ্যার পর কাজ সেরে বাড়ি ফিরতে বাস বা বাইকের উপর নির্ভর করতে হত। সেই সমস্যা মিটল। পাশাপাশি, বর্ধমান যাওয়ারও সুবিধা হল। এতদিন বর্ধমান যাওয়ার মাত্র দু’টি ট্রেনেরই স্টপেজ ছিল। তাঁরা আরও বলেন, এখানে ট্রেন না থামায় প্রায় চার কিলোমিটার দূরে খানা জংশন স্টেশনে গিয়ে গাড়ি ধরতে হয়। সেচখালের বাঁধের উপর দিয়ে সাইকেলে বা হেঁটে যাতায়াত করতে হয়। এলাকার অনেকেই বর্ধমান হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে যান। কিন্তু বর্ধমানগামী লোকাল ট্রেন না থামায় বিপাকে পড়তে হত। পড়ুয়া, ছানা ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ যাত্রী সকলেই সমস্যায় পড়তেন। একাধিক লোকাল ট্রেনের স্টপেজ দেওয়ায় এলাকার সঙ্গে বর্ধমানের যোগাযোগ বাড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ