নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থায় কীভাবে কাজ পেলেন একজন বাংলাদেশি! তাই নিয়ে ইস্কো শিল্পাঞ্চল জুড়ে শুরু জোর চর্চা। তারই মাঝে বাংলাদেশি সন্দেহে গ্রেপ্তার হওয়া সুশান্ত বিশ্বাসের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জোগাড় করতে নদীয়ার ধানতলায় গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে হীরাপুর থানার পুলিস। পুলিস জানতে পেরেছে, বাংলাদেশ থেকে সীমান্ত টপকে এখানেই এসেছিলেন সুশান্ত। ঘটনাস্থলে তদন্ত যাওয়া পুলিস আধিকারিকদের দাবি, স্থানীয় মানুষ সুশান্তকে নিজেদের এলাকার ছেলে হিসাবেই জানেন। তদন্তে উঠে এসেছে, ছোট থেকেই সুশান্তর বাবা ও মা বাংলাদেশে মারা যান। তারপরই তিনি গোপনে সীমান্ত পেরিয়ে ধানতলায় দিদির বাড়িতে চলে আসেন। সেখান থেকেই পড়াশোনা শেষ করে ইস্কোয় কাজ পেয়েছিলেন।
১২ বছর আগে বিয়ে হয় সুশান্তর। তাঁর স্ত্রী শিক্ষিকা। তাঁদের একটি ১১ বছরের পুত্র সন্তানও রয়েছে। কয়েক বছর ধরেই সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। শেষে সুশান্তর স্ত্রীই মুখ্যমন্ত্রী সহ প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে অভিযোগ করেন স্বামীর নামে। সেখানে তিনি জানান, স্বামী বাংলাদেশি। স্কুল শিক্ষিকা স্ত্রীর অভিযোগে আলোড়ন পড়ে প্রশাসনিক মহলে। হীরাপুর থানার পুলিস সুশান্ত বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করে তদন্ত শুরু করেছে।
এসিপি ঈপ্সিতা দত্ত বলেন, পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আমাদের অফিসাররা নদীয়ায় গিয়েও তদন্ত করছেন।
শনিবার হীরাপুর থানার পুলিস ইস্কো কর্মী সুশান্ত বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করে। ওই থানা এলাকার ছোটদিঘারীতে ইস্কোর কোয়ার্টারেই তিনি থাকতেন। সব কিছুই স্বাভাবিক ছিল। স্ত্রী, ছেলেও প্রথমে থাকত। পরবর্তী কালে তাঁরা কলকাতা চলে যান।
স্থানীয় কাউন্সিলার কাঞ্চন মুখোপাধ্যায় বলেন, আমরা ভাবতেও পারছি না এই ঘটনা। এখানে সবাই বাইরে থেকে কাজ করতে আসেন। কার কী ইতিহাস, বোঝা কঠিন। ইস্কোর উচিত সঠিকভাবে যাচাই করে কর্মী নিয়োগ করা।
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিস জানতে পারে, নদীয়া জেলার ধানতলা থানার কশাইপুর গ্রামে তাঁর ছোটবেলা কেটেছে। এরপরই সেখানে তদন্তে যায় পুলিস। পুলিসি জেরায় সুশান্ত জানিয়েছিল, অনেক ছোটবেলায় তিনি ভারতে এসেছেন। ঘটনাস্থলে তদন্তে গিয়ে পুলিস জানতে পারে, সেখানে তাঁর দিদির বাড়ি রয়েছে। একেবারে ছোট থেকেই দিদির বাড়িতে তিনি মানুষ হয়েছেন। জানা যায়, এখানে এসে কারসাজি করে নকল স্কুলের শংসাপত্র সংগ্রহ করা হয়। চতুর্থ শ্রেণির সেই জাল শংসাপত্র দেখিয়েই পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি করা হয় সুশান্তকে। তারপর একে একে তৈরি করা হয় ভোটার কার্ড, আধার কার্ড। স্ত্রী পর্দা ফাঁস না করলে তাঁকে ধরা সম্ভব ছিল না বলেই প্রশাসনিক মহলের দাবি।
পুলিস সূত্রে জানানো হয়েছে, নির্বাচন কমিশনও সুশান্ত বিশ্বাসের নামে নকল শংসাপত্রকে আসল দেখানোর জন্য প্রতারণার অভিযোগ করেছে।