নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: সুগন্ধি খিচুড়ির সঙ্গে সুস্বাদু তরকারি। থাকছে ভাজাভুজি, পায়েস, চাটনি। পুজোর ভোগ মানেই মণ্ডপের বাইরে দীর্ঘ লাইন। এক বাটি ভোগের প্রসাদ নিতে যেন হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। ভক্তদের জন্য রান্না করা ভোগে কোনও ধরনের ভেজাল নেই তো? স্বাস্থ্যসম্মতভাবে রান্নার কাজ হচ্ছে তো? এবার পুজোয় মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে সেই মান যাচাই করবে হাওড়া জেলার স্বাস্থ্যদপ্তর। ভোগের নমুনা সংগ্রহ করবে ফুড সেফটির বিশেষ দল। এমনকী, স্ট্রিট ফুড কর্নারগুলি থেকেও নমুনা সংগ্রহের কাজ চলবে। একইসঙ্গে ছোট ব্যবসায়ীদের রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনার জন্য উৎসাহিত করা হবে।
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, যে সমস্ত বারোয়ারি পুজোয় বহু মানুষের জন্য একসঙ্গে ভোগ রান্না হয়, সেখান থেকে এবার নমুনা সংগ্রহ করা হবে। শহর এলাকার পাশাপাশি বিভিন্ন ব্লকেও পুজোর সময় এই অভিযান চলবে। ভোগ রান্নায় ভেজাল মশলা, তেল ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। স্বাস্থ্যসম্মতভাবে ভোগের প্রসাদ দর্শনার্থীদের দেওয়া হচ্ছে কি না, তাও যাচাই করবেন তাঁরা। এই কাজের জন্য সহকারী মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক পদমর্যাদার সাতজন ফুড সেফটি অফিসার থাকবেন। একেকজন ফুড সেফটি অফিসারের অধীনে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক, পাবলিক হেলথ আধিকারিকদের নিয়ে একটি বিশেষ দল তৈরি করা হবে। প্রতিটি দল দু’টি করে ব্লকের মণ্ডপগুলিতে যাবে। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ কিশলয় দত্ত বলেন, ‘প্রতি বছরই পুজোর সময় এই কর্মসূচি পালন করা হয়। তবে ফুড কোয়ালিটি টেস্টিংয়ের উপর এবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রথমে বড় পুজো মণ্ডপগুলি থেকে ভোগের নমুনা সংগ্রহ করা হবে।’
পুজোর সময় শহরের ছোট-বড় রাস্তা থেকে শুরু করে অলিগলি ছেয়ে যায় অস্থায়ী ফুড স্টলে। রোল, চাউমিন, মোগলাই, কাবাব, বিরিয়ানির কাউন্টার তৈরি হয় অজস্র। সেখানে বাসি পনির, মাংস ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তেল-মশলায় ভেজাল রয়েছে কি না, সেসবও খতিয়ে দেখবে স্বাস্থ্যদপ্তরের ওই দলটি। পুজোর মধ্যে আচমকা অভিযান চালিয়ে দোকানগুলি থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। রিপোর্টে গড়মিল থাকলে সংশ্লিষ্ট দোকানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে স্বাস্থ্যদপ্তর। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কথায়, এই অভিযান চলাকালীন খাবারের ছোট বিক্রেতাদের রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আসার জন্য উৎসাহিত করা হবে। রেজিস্টার্ড ব্যবসায়ীর সংখ্যা বাড়লে নজরদারি করা সহজ হবে। মূলত বার্ষিক ১২ লক্ষ টাকার কম আয় হলে সেই ব্যবসায়ীদের রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আসতে হয়। আয় ১২ লক্ষ টাকার বেশি হলে লাইসেন্স করাতে হয়। স্পেশাল ড্রাইভ চালিয়ে ফুড কর্নার, ক্লাউড কিচেন মিলিয়ে জেলার প্রায় তিন হাজার খাবার দোকানিকে গত এক বছরে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনতে পেরেছে
স্বাস্থ্যদপ্তর। নিজস্ব চিত্র