Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাজপাড়ায় ফাঁকা জমিতে পড়ে থাকা ভগ্নমূর্তি কি জৈন তীর্থঙ্কর পার্শ্বনাথের? বিনপুরে মাটি খুঁড়লে মেলে হাড়গোড়, মুদ্রা ভর্তি রহস্যময় কলস

বিনপুরের এরগোদা গ্ৰাম পঞ্চায়েতের রাজপাড়ার ফাঁকা মাঠে পড়ে রয়েছে মাকড়া পাথরের তৈরি একাধিক নিবেদন শিলা।

রাজপাড়ায় ফাঁকা জমিতে পড়ে থাকা ভগ্নমূর্তি কি জৈন তীর্থঙ্কর পার্শ্বনাথের? বিনপুরে মাটি খুঁড়লে মেলে হাড়গোড়, মুদ্রা ভর্তি রহস্যময় কলস
  • ৩ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রদীপ্ত দত্ত, ঝাড়গ্ৰাম: বিনপুরের এরগোদা গ্ৰাম পঞ্চায়েতের রাজপাড়ার ফাঁকা মাঠে পড়ে রয়েছে মাকড়া পাথরের তৈরি একাধিক নিবেদন শিলা। শিলার গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখা আছে একটি প্রাচীন ভগ্ন মূর্তি। স্থানীয় মানুষ মূর্তিটিকে সত্যনারায়ণ দেব রূপে পুজো করেন। তবে, মূর্তিটি জৈন তীর্থঙ্কর পার্শ্বনাথের বলে দাবি করছেন গবেষকরা। ওই স্থানে মাটি খুঁড়লে হাড়গোড়, তামার মুদ্রা, চামচ ভর্তি কলস পাওয়া যায়। গ্ৰামবাসীদের কাছে যা আজও রহস্যময়।

Advertisement

বিনপুর-২ব্লকের এরগোদা গ্ৰাম পঞ্চায়েতের রাজপাড়া একটি প্রাচীন জনপদ। পড়িহাটী ও রাজপাড়ার মধ্যে দিয়ে বাঁশিখাল বয়ে গিয়েছে। একসময় এই এলাকায় জৈন সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস ছিল। প্রায় হাজার বছর আগে তাঁরা জায়গাটি ছেড়ে চলে যান বলে অনুমান করা হয়। রাজপাড়ায় খোলা আকাশের নীচে মাকড়া পাথরের তৈরি একাধিক নিবেদন বা মানত শিলা পড়ে রয়েছে। শিলাগুলির মাঝেই ভগ্ন কালো পাথরের তৈরি মূর্তিটি রয়েছে। মূর্তিটির পুরোহিত হলেন আদিবাসী সম্প্রদায়ের শবর দেহরী। আগে মূর্তির সামনে ছাগবলি হতো। এখন বলি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। গবেষকদের দাবি, মূর্তিটি জৈনদের ২৪তম তীর্থঙ্কর পার্শ্বনাথের‌। বৈশিষ্ট্য, মূর্তিটির মাথার পিছনে পঞ্চমুখী সাপের মুখ রয়েছে। বর্ষার সময় বাঁশিখালে জল বাড়লে বালি মাটি ধুয়ে নীচ থেকে সরা ঢাকা কলস বের হয়ে পড়ে। উদ্ধার হওয়া কলসের ভিতরে হাড়গোড়, তামার মুদ্রা ও চামচ পাওয়া গিয়েছে। গবেষকদের অনুসন্ধানে জানা যাচ্ছে, সুদূর অতীতে এই স্থানে জৈন দেউল ছিল। দেউলের পাশে ছিল শ্মশানভূমি। জৈনরা দেবতাদের উদ্দেশে নিবেদন শিলা উৎসর্গ করতেন। দেহাবশেষ, মুদ্রা, চামচ ও অন্য সামগ্ৰী কলসে ভরে মাটির পাঁচ ফুট গভীরে পুঁতে দেওয়া হতো। স্থানীয় বাসিন্দা মুকুন্দরাম চক্রবর্তী বলেন, এখানে মাকড়া পাথরের একাধিক স্তম্ভ ও একটি ভগ্ন মূর্তি পড়ে রয়েছে। স্থানীয় মানুষজন মূর্তিটিকে সত্যনারায়ণ রূপে পুজো করেন। জায়গাটি ‘গ্রামথান’ নামে পরিচিত। এই এলাকায় মাটি খুঁড়লে কলস পাওয়া যায়। তার ভিতরে হাড়গোড়, তামার মুদ্রা, চামচ থাকতে দেখেছি। মাটির নীচে এমন ধরনের কলস থাকার কারণ আমাদের কাছেও স্পষ্ট নয়। গবেষক ও প্রত্নতাত্ত্বিক সুশীলকুমার বর্মন বলেন, পড়িহাটী, বিনপুরের নদী তীরবর্তী এলাকায় জৈন সম্প্রদায়ের মানুষজন বসবাস করতেন। এই এলাকায় তাঁদের তৈরি জৈন দেউল দেখতে পাওয়া যায়। রাজপাড়া এলাকায় যে জৈন মন্দির বা দেউল ছিল, সেবিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। জৈনরা তাঁদের দেহাবশেষ মাটির কলসিতে ভরে মাটিতে পুঁতে রাখতেন। তার উপরে দু’-পাঁচ ফুটের নিবেদন বা মানত শিলা পুঁতে দেওয়া হতো। তবে, এই এলাকা ছেড়ে জৈনদের চলে যাওয়ার কারণ আজও অজানা। তাম্রলিপ্ত বন্দরের অবক্ষয়, পরবর্তীকালে রাজনৈতিক অস্থিরতা বা বৈষ্ণব ও শৈব আন্দোলনের প্রভাবে জৈনরা এই এলাকা ছেড়ে চলে যেতে পারেন। তবে, ভগ্ন দেউল ও কলসগুলি আজও সুদূর অতীতের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ