Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘ভারতরত্ন’ সম্মানের নথি কি গ্রাহ্য? অর্মত্য-ইস্যুতে মুখে কুলুপ কমিশনের

বাঙালির গর্ব নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন পেয়েছিলেন দেশের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ‘ভারতরত্ন’।

‘ভারতরত্ন’ সম্মানের নথি কি গ্রাহ্য? অর্মত্য-ইস্যুতে মুখে কুলুপ কমিশনের
  • ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: বাঙালির গর্ব নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন পেয়েছিলেন দেশের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ‘ভারতরত্ন’। ভারতের নাগরিকত্ব প্রমাণে সেই সম্মানের নথি গ্রহণযোগ্য কি না, তা নিয়ে মুখ খুললেন না জাতীয় নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিরা! তাঁদের এই ‘নীরবতা’ অবাক করেছে শান্তিনিকেতনের প্রতীচী ট্রাস্টের সদস্য ও অর্মত্যবাবুর আত্মীয়দের। বিস্মিত বোলপুরের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে আশ্রমিকরাও।

Advertisement

নোবেলজয়ীকে শুনানির নোটিস ধরানো হয়েছিল ৭ জানুয়ারি। তা নিয়ে তোলপাড় হয় বাংলার রাজনীতি। প্রতিবাদে গর্জে উঠেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার দুপুরে নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি দল শুনানির জন্য তাঁর শান্তিনিকেতনের বাড়িতে হাজির হয়। শুনানি প্রক্রিয়াতে অমর্ত্য সেনের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা নোবেলজয়ীর অন্যান্য কাগজপত্র তুলে দেওয়ার পাশাপাশি জানতে চেয়েছিলেন, ‘ভারতরত্ন’-এর নথি নাগরিকত্ব প্রমাণে গ্রাহ্য হবে কি না? জবাবে মুখে কুলুপ এঁটেছিলেন কমিশনের প্রতিনিধিরা।

প্রতীচী ট্রাস্টের সদস্য গীতিকণ্ঠ মজুমদার এদিন বলেন, ‘আমরা অধ্যাপক অমর্ত্য সেনের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে তাঁর যাবতীয় নথি কমিশনের হাতে তুলে দিয়েছি। তিনি ভারতরত্ন পেয়েছিলেন। তার নথি লাগবে কি না জানতে চেয়েছিলাম কমিশনের অফিসারদের কাছে। কিন্তু, তাঁরা কিছু বলতে পারেননি। আমরা নোবেলজয়ীর পাসপোর্ট, তাঁর মায়ের ডেথ সার্টিফিকেট, আধার কার্ড, ভোটার তালিকার ফটোকপি জমা দিয়েছি। তবে, নোটিস পাঠানোর জন্য প্রতীচীর তরফে আমরা প্রতিবাদ জানাই।’ মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ বলেন, ‘ওঁরা অমর্ত্য সেন কে? তাঁর গুরুত্ব কি? এসব কিছুই বোঝেন না। তাই সমস্ত মানুষের সঙ্গে গুণীজনদের ব্যতিব্যস্ত করে ছাড়ছে এসআইআর।’

অমর্ত্যবাবু এখন বিদেশে। নোটিস পাঠানোর দিন অর্থাৎ, ৭ জানুয়ারিও তিনি শান্তিনিকেতনে ছিলেন না। তাঁর মামাতো ভাই শান্তভানু সেন ও গীতিকণ্ঠবাবু কমিশনের নোটিস গ্রহণ করেন। এদিনও তাঁরা উপস্থিত ছিলেন। শান্তিনিকেতনের প্রতীচী বাড়িতে দুপুর ১২ টা ৩৫ মিনিট নাগাদ আসেন বোলপুরের এইআরও তানিয়া রায়, বিএলও সোমব্রত মুখোপাধ্যায় সহ  কমিশনের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল। অমর্ত্য সেন ২৬৮ নম্বর বোলপুর বিধানসভার ভোটার। তিনি বোলপুর পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিনিকেতন স্টাফ ক্লাবে ভোট দেন। তারপরও ভারতরত্ন অর্থনীতিবিদকে এমন হেনস্তায় ধিক্কার জানান বোলপুরবাসী। এদিন সেই ‘ভারতরত্ন’-এর নথি নাগরিকত্ব প্রমাণে গ্রহণযোগ্য কি না, সেই প্রশ্নে কমিশনের নীরবতা দেখে ক্ষুব্ধ বোলপুরবাসী। প্রসঙ্গত, ১৯৯৯ সালে অমর্ত্যবাবুকে দেশের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ‘ভারতরত্ন’ প্রদান করেছিলেন রাষ্ট্রপতি।

অমর্ত্যবাবুকে পাঠানো নোটিসে বলা হয়েছিল, নোবেলজয়ীর ঘোষণা অনুযায়ী, তাঁর সঙ্গে বাবা অথবা মায়ের বয়সের পার্থক্য ১৫ বছর। যা ‘সাধারণত প্রত্যাশিত নয়’ বলেই নোটিসে উল্লেখ ছিল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ