Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রানাঘাটের সিদ্ধেশ্বরী মা-ই কি রানা ডাকাতের আরাধ্যা ‘ডাকাত কালী’?

ঘন জঙ্গলে ঘেরা এক এলাকা, তারমাঝে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কয়েকটি বাড়ি। আজকের রানাঘাট যেন এক অজানা ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে রয়েছে।

রানাঘাটের সিদ্ধেশ্বরী মা-ই কি রানা ডাকাতের আরাধ্যা ‘ডাকাত কালী’?
  • ১৩ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: ঘন জঙ্গলে ঘেরা এক এলাকা, তারমাঝে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কয়েকটি বাড়ি। আজকের রানাঘাট যেন এক অজানা ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে রয়েছে। ইতিহাস বলছে, এই এলাকার প্রাচীন নাম ছিল ‘ব্রহ্মডাঙা’। পরে এক রহস্যময় ডাকাত ‘রানা’ বা ‘রনা’র নামেই শহরের নতুন নামকরণ হয় ‘রানাঘাট’। শোনা যায়, চূর্ণী নদীর ধারে ‘রানার ঘাট’ থেকেই এই নামের উৎপত্তি। যদিও ইতিহাসবিদদের একাংশ এনিয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন। রানাঘাটের ইতিহাসে যেমন নদী ছিল জীবনরেখা, তেমনি ভয়ঙ্কর আতঙ্কের উৎসও। সেইসময় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে চূর্ণী নদী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। নদীপথে মালপত্র পরিবহণের পাশাপাশি এর মাধ্যমেই চলত লুণ্ঠন আর ডাকাতি। ব্যবসায়ীদের মুখে মুখে তখন ফিরত একটিই নাম- রানা ডাকাত। চূর্ণী মানেই রানা ডাকাতের ভয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, সেই রানা ডাকাতই ছিলেন একনিষ্ঠ কালীভক্ত। কথিত আছে, ডাকাতি করতে যাওয়ার আগে তিনি মন দিয়ে আরাধ্যা দেবী সিদ্ধেশ্বরী কালীর পুজো করতেন। সেই স্থানেই নাকি স্থাপিত হয় আজকের রানাঘাটের বিখ্যাত সিদ্ধেশ্বরীতলার কালীমন্দির।

Advertisement

লোকমুখে প্রচলিত এবং স্থানীয় ইতিহাস বলছে, ডাকাতের মৃত্যুর পর বা তাঁর জীবনের শেষদিকে দেবীমূর্তি অনাদরে পড়ে থাকে। পরে নদীয়ারাজ কৃষ্ণচন্দ্র সেই বিস্মৃত দেবীকে উদ্ধার করে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার স্বপ্নাদেশ পান। 
তাঁর উদ্যোগেই সিদ্ধেশ্বরী কালীমূর্তি পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়। আর বর্ধমানের এক ব্রাহ্মণ পরিবারকে এই পুজোর দায়িত্ব দেওয়া হয়। মনে করা হয়, প্রাচীনকালে এই পুজো মূর্তিতে নয়, বরং ঘটে বা বেদীতে সম্পন্ন হতো। পরে দেবীর স্থায়ী মূর্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। যে স্থানে এখন মন্দিরটি রয়েছে, একসময় সেটি ছিল ঘন জঙ্গলে ঘেরা নির্জন স্থান। কাছেই ছিল একটি খাল, যা চূর্ণী নদীতে গিয়ে মিশেছে। লোকমুখে প্রচলিত, এই জঙ্গলের ধারে খালপাড়েই রানা ডাকাত দেবীর পুজো করতেন। তারপর সেই খালপথ ধরে যেতেন নদীতে ডাকাতি করতে।  বর্তমানে সেই স্থানেই দাঁড়িয়ে আছে রানাঘাটের শ্রদ্ধার প্রতীক-সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির। 
কালীপুজোয় এই মন্দিরে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়ই যেন প্রমাণ করে, ইতিহাস যাই হোক, এই দেবীর সঙ্গে রানাঘাটবাসীর সম্পর্ক বহু শতাব্দীর। তবে আজও প্রশ্ন রয়েই যায়, সত্যিই কি এই সিদ্ধেশ্বরী কালী রানা ডাকাতের পূজিতা ‘ডাকাত কালী’? ইতিহাসবিদদের মত ভিন্ন, যুক্তিও নানা রকম। তবে একথা অনস্বীকার্য, সিদ্ধেশ্বরী কালী রানাঘাটের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের সঙ্গে এমনভাবে মিশে গিয়েছেন যে, তাঁকে বাদ দিয়ে শহরের অতীত কল্পনা করা কার্যত অসম্ভব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ