নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বারাসতে মোড়ে মোড়ে মনীষীদের মূর্তি। কিন্তু প্রায় কোনো মূর্তিরই যথাযথ যত্ন নেওয়া হয় না। ধুলোর আস্তরণ, চারপাশ আগাছায় ঢেকেছে। কোথাও আবার মূর্তির পাদদেশে জমেছে আবর্জনা। শহরের বিভিন্ন প্রতীক্ষালয়ে মনীষীদের ছবির অবস্থাও তথৈবচ। কোথাও ধুলোয় ঢাকা, কোথাও ছবি ছিঁড়ে ঝুলছে। জায়গায় জায়গায় মণীষীদের মূর্তির এই অবস্থা দেখে শহরবাসীর প্রশ্ন, মনীষীদের স্মরণ করা কি শুধু মূর্তি বসানো এবং বিশেষ দিনে মালা দেওয়াতেই শেষ?
বারাসত শহরের ব্যস্ত মোড়গুলির কোথাও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কোথাও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, নেতাজি সুভাষসহ বহু বিশিষ্টজনের মূর্তি রয়েছে। অথচ নিয়মিত পরিচর্যার অভাবে সেগুলি এখন কার্যত দৃশ্যদূষণের কারণ হয়ে উঠেছে। আগাছার জঙ্গলে ঢেকেছে কোনো কোনো মূর্তি। চাঁপাডালি, বনমালীপুর, কালিকাপুর, হেলাবটতলার মতো জায়গাগুলিতে যাত্রী প্রতীক্ষালয়ের দশা আরও করুণ। যাত্রীদের বসার জন্য তৈরি জায়গার উপর ছিঁড়ে পড়ে রয়েছে কোনো মনীষীর ছবি। প্রায় সর্বত্র ছবির উপর ধুলোর পুরু আস্তরণ পড়েছে। নীচে জমেছে আবর্জনা। সেখানেই কোনোরকমে দাঁড়িয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করছে মানুষ।
নাগরিকদের প্রশ্ন, শহর পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব কার? মনীষীদের মূর্তি ও ছবির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা কোথায়? বিশেষ দিনে মালা পরিয়ে ছবি তোলা হলেই কি দায়িত্ব শেষ? বছরের বাকি দিনগুলিতে মূর্তি ও ছবিগুলির দিকে নজর দেওয়ার প্রয়োজন নেই?
বারাসতের বাসিন্দা, অধ্যাপক রূপক দে বলেন, ‘শহরের সৌন্দর্যায়ন নিয়ে নানা পরিকল্পনা হলেও মনীষীদের মূর্তির জায়গাগুলিতে নজরদারির অভাব স্পষ্ট। শুধু আবর্জনা সরালেই হবে না। প্রতীক্ষালয় সংস্কার করতে হবে এবং মূর্তিগুলির চারপাশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।’
সাহিত্যিক সুভাষ গুহর কথায়, ‘বারাসতের উন্নয়ন নিয়ে কথা হচ্ছে। কিন্তু মনীষীরা আজ যেন অবহেলিত। জন্মদিন বা মৃত্যুদিনে মালা দেওয়া বা শ্রদ্ধা জানানোতেই দায়িত্ব শেষ! নিয়ম করে এগুলি রক্ষণাবেক্ষণের কোনো উদ্যোগ নেই কারও।’ নিজস্ব চিত্র