ঢাকা: বাংলাদেশ সেনার একাংশের সাহায্য নিয়ে কি ফের ঢাকা দখল করতে চাইছে পাকিস্তান? এমনই এক চক্রান্ত সম্প্রতি ভেস্তে গিয়েছে বলে খবর মিলেছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ সেনার লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফইজুর রহমান বাহিনীর অন্দরে বিদ্রোহের পরিকল্পনা করেছিলেন। ফইজুর বর্তমানে কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল পদে রয়েছেন। শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাঁকে সেনা গোয়েন্দা শাখা ডিজিএফআইয়ের প্রধানের দায়িত্বও দেওয়া হয়। ওই সূত্রটির দাবি, ক্ষমতার সুযোগ নিয়ে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানকে হটিয়ে বাহিনীর শীর্ষস্থান দখলই ছিল তাঁর মূল উদ্দেশ্য। ফইজুর দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানি সেনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে চলেন। জামাতের সঙ্গেও তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে। সেই বিষয়টিকেই কাজে লাগাতে চেয়েছিল ইসলামাবাদ। কিন্তু ফইজুরের পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যায়। তারপরেই ওই শীর্ষ আধিকারিককের প্রতিটি পদক্ষেপের উপর কড়া নজরদারি রাখার নির্দেশ দিয়েছেন ওয়াকার।
হাসিনার পদত্যাগের পর থেকেই বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমশ অবনতি হয়েছে। প্রতিদিন ধর্ষণ, খুন, লুটপাটে সন্ত্রস্ত সাধারণ মানুষ। এই পরিস্থিতিতে সেনার অন্দরে বিদ্রোহ হলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ হাতের বাইরে চলে যেত বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। সূত্রের খবর, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ফইজুর বেশ কয়েকবার জামাত নেতা ও পাকিস্তানের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন। ওই বৈঠকের পর ফইজুর সেনার একাধিক ডিভিশনাল কম্যান্ডারের সঙ্গেও বৈঠক করেন। চলতি মার্চের প্রথম সপ্তাহে ওই বৈঠকগুলি হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। উদ্দেশ্য ছিল, সেনার অন্দরে নিজের সমর্থন বৃদ্ধি করা ও ওয়াকার-উজ-জামানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উস্কে দেওয়া। কিন্তু বৈঠক করেও ফইজুর নিজের পক্ষে পর্যাপ্ত সমর্থন জোগাড় করতে পারেননি। প্রাথমিকভাবে ফইজুরের এই কার্যকলাপের খবর সেনাপ্রধানের কাছে ছিল না। বৈঠকের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেনা প্রধানের দপ্তর থেকে সেনার শীর্ষ আধিকারিকদের কাছে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। এরপর ওই আধিকারিকরা ফইজুরের সঙ্গে বৈঠক এড়িয়ে যান।
এদিকে, হাসিনার উপর চাপ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে মহম্মদ ইউনুসের তত্ত্বাবধায়ক সরকার। হাসিনা সহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের ১২৪টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ও বোন শেখ রেহানা, রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক সহ আরও আনেকে। এছাড়া হাসিনার পরিজনদের স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এর মধ্যে হাসিনার বাসভবন সুধা সদনও রয়েছে। হাসিনা সহ পরিবারের সদস্যদের বিদেশ সফরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।