একটা খুব জনপ্রিয় প্রবাদ রয়েছে। রোমান সাম্রাজ্য একদিনে গড়ে ওঠেনি। কিন্তু কেন এই কথাটা বললাম? তার কারণ হল, সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সকলেই এখন চাইছে পুজোর আগে ভুঁড়ি কমাতে। সুঠাম পেশিবহুল দেহের অধিকারী হতে। কিন্তু এক মাসের মধ্যে সেটা কি সম্ভব? নিজেকেই একবার প্রশ্ন করে দেখুন? সিংহভাগের ক্ষেত্রেই বিষয়টি কঠিন মনে হবে। সেই ভাবনা ভুল নয়। তাড়াহুড়ো বড় বিপদও ডেকে আনতে পারে। তাহলে কি সব ছেড়েছুড়ে হতাশ হয়ে বসে পড়বেন? একদমই নয়। সুস্থ শরীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবার পুজোর আগে সেই লক্ষ্যেই কাজ শুরু করলেন। যেটা উৎসবের মরশুমের পরও অব্যাহত থাকবে।
ডায়েট: আপনার লক্ষ্য অর্জনের ৭০ শতাংশই নির্ভর করে ডায়েটের উপর। ৩০ শতাংশ এক্সারসাইজ বা ব্যায়াম নির্ভর। এক্ষেত্রে প্রায়ই দেখা যায়, দ্রুত ওজন কমাতে গিয়ে অনেকেই খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেন। কেউ কেউ লিক্যুইড ডায়েট ফলো করতে থাকেন! ফলে ফিটনেস সিকনেসে পরিণত হয়ে যায়। এমনটি কখনই কাম্য নয়। আপনি পুজোয় মানুষকে ইমপ্রেস করবেন বলে ওজন কমালেন আর ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে মাথা ঘুরে পড়ে গেলেন! তাহলে আর ওজন কমিয়ে লাভ হল কই?
সুতরাং ভুঁড়ি কমাতে হলে প্রথমেই ডায়েট থেকে কার্বোহাইড্রেট কমাতে হবে। বাড়াতে হবে প্রোটিনের পরিমাণ। উষ্ণ জল খেয়ে সকাল শুরু করুন। এরপর দুটো থেকে চারটে কাজুবাদাম, আখরোট কিংবা অঙ্কুরিত ছোলা খেতে পারেন। টিফিনে কিন্তু ডালিয়ার খিচুড়ি, ওটস, পোহা, নোনতা সুজি খুব কার্যকরী। এরমধ্যে মরশুমি সব্জি যুক্ত করে দিতে পারেন। তাতে স্বাদের সঙ্গে পুষ্টিগুণও বাড়বে। সঙ্গে একটা ডিম সিদ্ধ খাওয়া যেতে পারে। খিদে পাওয়ার আগেই কিছু খেয়ে নিন। তাহলে খেতে বসে পরিমিত আহার করতে পারবেন। বেশি খেয়ে আইঢাই হবে না। দুপুরে পাঁচমিশালি সব্জি ও এক বাটি ডাল দিতে ৫০ গ্রাম ভাত খান। তর সঙ্গে এক পিস মাছ, বাড়িতে বাটা টক দই খুবই ভালো। এর ঘণ্টাখানেক বাদে একটা পেয়ারা খেতে পারেন। বিকেলের দিকে ছোলার চাট বা মাখানা কিংবা শুকনো চিঁড়ে ভাজা আর চিনি ছাড়া চা চলতে পারে। মুড়ি এড়িয়ে চলাই ভালো। রাতের দিকে দুটো রুটি বা এক কাপ ভাত খেতে পারেন। সেই সঙ্গে সবজি ডাল। সবজি দিয়েই পেট ভরাতে হবে। একটু স্যালাডও খান। তবে ডায়েট থেকে চিনি, অতিরিক্ত তেল, ভাজাভুজি বাদ দিতেই হবে। না হলে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতেই পারবেন না।
ব্যায়াম: জিমে গিয়ে অতিরিক্ত ব্যায়াম করলে পেশিতে চোট লেগে যেতে পারে। অন্যান্য সমস্যাও দেখা দেবে। তাই সবটাই সাবধানে করতে হবে। বাড়িতে থেকেও ওজন কমানো যায়। খাওয়া-দাওয়ার পর ৩০ মিনিট একটু হাঁটাহাটি করুন। নৈশভোজের পরই শুয়ে পড়বেন না। এই প্রবণতা খুবই অস্বাস্থ্যকর। সকালে বা বিকেলে মিনিট ২০ হাঁটতে পারেন। অনেকের চাকরির চাপে একেবারেই সময় পান না। অফিসে কাজের ফাঁকে পায়চারি করুন। লিফটের বদলে সিঁড়ি দিয়েই ওঠানামা করতে পারেন। কর্মস্থলে বাড়ির খাবারই খান। জাঙ্কফুড এড়িয়ে চলুন। বাড়ি ফেরার সময় দু’তিন স্টপেজ আগেই নেমে যান। বাকি রাস্তা হেঁটে ফিরুন। সাবধানতা: সকলকে একটা অনুরোধ, প্রকৃতির বিরুদ্ধে যাবেন না। তার ফল মারাত্মক হতে পারে। সত্যি বলতে, তিন-চার সপ্তাহে মেদ একদম কমিয়ে ফেলা সম্ভব নয়। বিকল্প হিসেবে অনেকেই নানা ধরনের ওষুধ বা কৃত্রিম পন্থা গ্রহণ করেন। সেই পথ কিন্তু আত্মঘাতী। এক্ষেত্রে ধীর ও সঠিক পথেই এগতে হবে।