Bartaman Logo
২৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

উন্মুক্ত আকাশের নীচেই রাত কাটাতে হয় রোগীর পরিজনদের, ডোমকল সুপার স্পেশালিটিতে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় বেহাল প্রতীক্ষালয়

ডোমকল সুপার স্পেশালিটিতে রোগীর পরিজনদের জন্য প্রতীক্ষালয় বন্ধ, খোলা আকাশের নীচে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। বিস্তারিত পড়ুন।

উন্মুক্ত আকাশের নীচেই রাত কাটাতে হয় রোগীর পরিজনদের, ডোমকল সুপার স্পেশালিটিতে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় বেহাল প্রতীক্ষালয়
  • ২৬ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ডোমকল: রাত বাড়লেই হাসপাতালের চত্বরে গাছতলা, বারান্দা কিংবা খোলা আকাশের নীচেই বিছানা পেতে শুয়ে পড়েন রোগীর পরিজনেরা। কেউ মশারি টাঙিয়ে, কেউ বা চাদর পেতে কাটান রাত। চারপাশে কুকুর-বেড়াল আর মশার উৎপাত। অথচ হাসপাতালের গেটের ঠিক পাশেই পড়ে রয়েছে রোগীর আত্মীয়দের জন্য তৈরি দ্বিতল প্রতীক্ষালয়। বহু বছর ধরে সেটি বন্ধ অবস্থায় থাকায় ডোমকল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের পরিজনদের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়েছে এই দুর্ভোগ। অভিযোগ, পরিকাঠামো থাকলেও শুধুমাত্র সদিচ্ছার অভাবেই দিনের পর দিন এই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাঁদের।

Advertisement

হাসপাতালের গেটে ঢুকলেই বাঁদিকে চোখে পড়ে দু’তলা প্রতীক্ষালয়টি। যার পোশাকি নাম ‘আশ্রয়’। স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় দশ বছর আগে তৎকালীন ডোমকলের বাম বিধায়ক আনিসুর রহমানের তহবিল থেকে রোগীর আত্মীয়দের রাত্রিবাসের জন্য ভবনটি তৈরি করা হয়েছিল। প্রথম দিকে তা চালু থাকলেও গত ছ’বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় ভবনটির অবস্থাও বেহাল হয়ে পড়েছে। কয়েক মাস ধরে ভবনের একাংশে ‘মা ক্যান্টিন’ চালু হয়েছে। কিন্তু যে উদ্দেশ্যে প্রতীক্ষালয়টি তৈরি হয়েছিল, সেই সুবিধা থেকে এখনও বঞ্চিত রোগীর পরিজনেরা।
ডোমকল মহকুমার একমাত্র সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল এটি। মহকুমার চারটি ব্লক ছাড়াও নদিয়ার একাংশ থেকে প্রতিদিন শত শত রোগী চিকিৎসার জন্য এখানে আসেন। কিন্তু এত বড় হাসপাতালেও রোগীর আত্মীয়দের রাত কাটানোর কোনো নির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেই। ফলে রোগীরা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন থাকলেও তাঁদের পরিজনদের হাসপাতাল চত্বরে খোলা আকাশের নীচে রাত কাটাতে হয়। কেউ শেডের নীচে, কেউ গাছতলায়, আবার কেউ হাসপাতালের বারান্দায় আশ্রয় নেন। বছরের পর বছর ধরে এভাবেই দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তাঁরা।
লুৎফর শেখ নামে রানিনগরের এক যুবক বলেন, স্ত্রী অসুস্থ। তাই প্রায় ২০ কিলোমিটার দূর থেকে নিয়ে এসে এই হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করিয়েছি। স্ত্রী ওয়ার্ডে রয়েছে। তবে বাইরে আমাদের থাকার মতো কোনো জায়গা না থাকায় শেড লাগানো রাস্তার উপরে মশারি টাঙিয়েই রাত কাটাতে হচ্ছে। অন্তত রাতের বেলা প্রতীক্ষালয়টা খুলে দিলে এত কষ্ট করতে হত না।
সুরজিৎ মণ্ডল নামে এক রোগীর আত্মীয় বলেন, বোন সদ্য প্রসূতি হয়েছেন। এখনও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে ওষুধপত্র লাগতে পারে, তাই বাড়ি যেতে পারিনি। কিন্তু হাসপাতালে থাকার কোনো ব্যবস্থা নেই। সারা রাত মশার কামড় খেয়ে কাটাতে হচ্ছে। প্রতীক্ষালয়টি ফের চালু করা হলে আমাদের মতো বহু মানুষের উপকার হবে।
ডোমকলের বাম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে রানা বলেন, ওই প্রতীক্ষালয়টিকে মা ক্যান্টিন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। হাসপাতালের জন্য আলাদাভাবে রোগীর আত্মীয়দের থাকার জন্য একটি নতুন প্রতীক্ষালয় তৈরির জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এখন দেখা যাক সেটা কখন বাস্তবায়িত হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ