নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: শেক্সপিয়র বলেছিলেন, ‘নামে কী এসে যায়?’ পরিবর্তনের সরকার অবশ্য মনে করছে নামে অনেক কিছুই এসে যায়। তাই তো এবার হুগলি জেলার সমস্ত উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর। আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিতে নতুন নাম লিখতে হবে ‘আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির’। রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর ইতিমধ্যেই সেই নির্দেশ জেলায় পাঠিয়েছে। তার ভিত্তিতে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরও ব্লকগুলিকে চলতি মাসের মধ্যেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির নাম পালটে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে। নতুন যেসব স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরি হচ্ছে, সেখানেও লিখতে হবে আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির। কোন রঙে লিখতে হবে নতুন নাম, তাও নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে।
হুগলি জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, জেলায় গ্রাম ও শহর মিলিয়ে প্রায় এক হাজার সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নাম পরিবর্তন হবে। রাজ্যের নির্দেশমতো আমরা ব্লকগুলিকে দ্রুত তা করতে বলেছি। এজন্য ব্লকগুলি রিপোর্টও পাঠাবে।
ভোট মিটেছে কয়েক মাস আগেই। সেই সময় অনেক জায়গায় ভোটের প্রচারে দেওয়াল লিখন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগেও দেওয়াল লিখনে ডাক পড়েছিল শিল্পীদের। সরকার পরিবর্তন হতেই এখন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নাম বদলানোর জেরে ডাক পড়েছে দেওয়াল লেখকদেরও। বিভিন্ন ব্লকে নতুন নাম লেখানোর জন্য শিল্পীদের ডাকা হচ্ছে বলে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকরা জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরশুড়ায় ২৬টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নতুন নাম লিখতে হবে। আরামবাগ ব্লকেও ৪৬টি কেন্দ্রের নাম পরিবর্তন করে লিখতে হবে আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির। এছাড়া গোঘাট-১ ব্লকেও ২৬টি উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নামের বদল ঘটতে চলেছে। প্রায় সব ব্লকেই সম্প্রতি নাম বদলের কাজ শুরু হয়েছে। তবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে চিকিৎসা পরিষেবার পরিকাঠামো নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। অনেক জায়গাতেই চিকিৎসক নেই। তাছাড়া প্রয়োজনীয় ওষুধের ঘাটতিও রয়েছে। অনেক কেন্দ্রে আবার কমিউনিটি হেলথ অফিসারের পদও খালি। নাম পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে চিকিৎসার মানের বদল ঘটবে? সেই প্রশ্ন উঠছে।
পুরশুড়ার বিজেপি বিধায়ক বিমান ঘোষ বলেন, তৃণমূলের আমলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বেহাল হয়ে পড়েছিল। আমাদের সরকার স্বাস্থ্য বিভাগকে ঢেলে সাজতে তৎপর হয়েছে। চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার মাধ্যমে জনসেবার কাজ হবে। তাই স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির নাম বদলে আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির করা হচ্ছে। সব কেন্দ্রেই তা হবে। একইসঙ্গে আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরের পরিকাঠামোরও উন্নতি হবে। সেখানে প্রয়োজনীয় কর্মী নিয়োগও হবে ধাপে ধাপে।
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ভবনগুলিতে আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির লেখার পাশাপাশি অশোক স্তম্ভের ছবি থাকবে। ন্যাশনাল হেলথ মিশনের লোগো লিখতে হবে নির্দিষ্ট স্থানে। এছাড়া লেখা হচ্ছে ‘আরোগ্যম পরমম্ ধনম্’। তারপর জায়গা, ব্লকের নামও লেখা হচ্ছে। হলুদ রঙের ব্যাক গ্রাউন্ডের উপর। স্বাস্থ্যদপ্তরের এক কর্তার দাবি, অন্যান্য রাজ্যে নাম বদল হয়ে গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে সম্প্রতি নির্দেশ এসেছে। তার ভিত্তিতে কাজ শুরু হয়েছে।