সংবাদদাতা, কালনা: নতুন সরকার আসার পর নাবালিকা বিয়ে আটকাতে আইনি কড়াকড়ি শুরু হতেই আশ্চর্যজনকভাবে কমতে শুরু করেছে নাবালিকা প্রসবের ঘটনা। এমনই অবাক হওয়ার মতো ঘটনা কালনা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। হাসপাতাল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী আগষ্ট মাসে কালনা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নাবালিকা প্রসবের সংখ্যা ৫০ জন হলেও অদ্ভুতভাবে চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ১৫ দিনে হাসপাতালে নাবালিকা সন্তান প্রসবের সংখ্যা মাত্র দুই। হঠাৎ করে নাবালিকা প্রসবের গ্রাফ এতটা নিম্নমুখী হওয়ার ঘটনা ভাবাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
নাবালিকা বিয়ে আইনত দণ্ডণীয়। পকসো সহ অন্যান্য আইনি ধারায় স্বামী সহ পরিবারের লোকেরা যেমন গ্রেপ্তার হয়ে শ্রীঘরে রাত কাটবে। তেমনি বিয়েতে সহযোগিতা করা পুরোহিত, মৌলবি, ডেকরেটর, ক্যাটারিং, ঘটক সহ অন্যান্যদেরও শাস্তির আওতায় এসে শ্রীঘরে রাত কাটাতে হবে। বিশিষ্ট ব্যাক্তিদের মতে মোবাইল আসার পর সংখ্যাটা বৃদ্ধি পেয়েছে। নাবালিকা বিয়ে আটকাতে সরকারি ও বেসরকারিভাবে স্কুলে ও ভ্রাম্যমান সচেতনতার প্রচার চলালেও আটকানো যাচ্ছে না। গত আগষ্ট মাসে কালনা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ৫৫জন নাবালিকা অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ভর্তি হয়। তার মধ্যে ৫০জন সন্তানের মা হয়। বর্তমান সরকার সম্প্রতি এই বিষয়ে আইনি কড়া পদক্ষেপ ঘোষণা করে। অদ্ভুতভাবে চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ১৫ দিনে কালনা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ২৬জন নাবালিকা অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ভর্তি হলেও মাত্র দুইজন সন্তানের জন্ম দেন। বাকিরা বাড়ি ফিরে যায়। বৃহস্পতিবার মন্তেশ্বর থানার পুলিশ এক নাবালিকা প্রসূতির স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে। কালনা মহকুমা আদালতে তুলে তিনদিনের হেপাজতে নেয়।
বাড়ি ফিরে যাওয়া নাবালিকা প্রসূতিরা প্রসব করাতে কোথায় ভর্তি হচ্ছে সেই প্রশ্ন এখন উঠছে। তারা রাজ্যে কোনো হাসপাতাল, বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে সন্তান জন্ম দিচ্ছে, নাকি আইনি কড়াকড়িতে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিচ্ছে?
কালনা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের এক আধিকারিক বলেন, হাসপাতালে কোনো অন্তঃসত্ত্বা নাবালিকা প্রসবের জন্য ভর্তি হলে আমরা পুলিশকে জানাই। পাশাপাশি নাবালিকার চিকিৎসা পরিষেবা চালু থাকে। আগষ্ট মাসে হাসপাতালে ৫০জন নাবালিকা মা হয়েছে। সব ক্ষেত্রেই পুলিশকে জানানো হয়েছে। অদ্ভুতভাবে চলতি মাসে মাত্র দুইজন নাবালিকা প্রসূতি সন্তান জন্ম দিয়েছে। হঠাৎ করে কেন এতটা কমে গেল আমরা ভেবে পাচ্ছি না। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
হাসপাতালের স্ত্রী রোগ চিকিৎসক অভয় চন্দ্র নাগ বলেন, নাবালিকার সন্তান প্রসবে মা ও শিশুর জীবনের ঝুঁকি থেকে যায়। সন্তান জন্মানোর পর মা ও সন্তান দুইজনকেই অপুষ্ঠি সহ অন্যান্য রোগের শিকার হতে হয়। কঠোরভাবে আইনি পদক্ষেপ ও সচেতনতার প্রচারই পারে নাবালিকা বিয়ে আটকাতে। অভিভাবকদেরও সন্তানদের প্রতি নজর রাখা বা বোঝানো উচিত।