সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: বাইরে ঝাঁ চকচকে পরিকাঠামো, অথচ ভিতরে রোগীর নিরাপত্তা নিয়েই বড়ো প্রশ্ন! স্বাস্থ্য কমিশনের পরিদর্শনে শিলিগুড়ির একের পর এক নার্সিংহোমের এমনই বেহাল চিত্র সামনে এল। কোথাও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন, কোথাও অপরিসর ও অন্ধকার করিডর, কোথাও অপরিষ্কার শৌচাগার। এমনকি চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত তথ্য নিয়েও ধরা পড়েছে অসংগতি। অবৈধ ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে রোগী। সব মিলিয়ে স্বাস্থ্য কমিশনের শনিবারের পরিদর্শনে শহরের বেসরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার পরিকাঠামো ও রোগী পরিষেবা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে শিলিগুড়ির সেভক রোডের একটি নার্সিংহোমে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই সেখানকার অগ্নিনিরাপত্তা ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এদিন সেখানে পরিদর্শনে গিয়ে একাধিক অনিয়ম খতিয়ে দেখে স্বাস্থ্য কমিশনের দল। বিশেষ করে আগুন লাগলে রোগী ও তাঁদের পরিজনদের নিরাপদে বেরিয়ে আসার ব্যবস্থা যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন কমিশনের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। অপরিসর করিডর ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। তাঁর বক্তব্য, এধরনের পরিবেশে যথাযথ চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া সম্ভব নয়। পাকুরতলা মোড়ের একটি নার্সিংহোম দেখে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, এভাবে চিকিৎসা পরিষেবা হতে পারে না।
এদিন চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বে শিলিগুড়ির বেশ কয়েকটি নার্সিংহোমে পরিদর্শন চালায় কমিশনের দল। ফায়ার সেফ্টি, জরুরি নির্গমন ব্যবস্থা, রোগী পরিষেবা, পরিকাঠামো, পরিচ্ছন্নতা এবং পানীয় জলের ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হয়। কয়েকটি নার্সিংহোমে চিকিৎসকদের নামের পাশে রাজ্য মেডিকেল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ না থাকার বিষয়টিও নজরে আসে। সেভক রোডের নার্সিংহোমটির এক ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসারের রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত নথি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এর পাশাপাশি অনুমোদনহীন পার্কিং এলাকায় চিকিৎসা পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হয়।
এর প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট নার্সিংহোমগুলির পুরসভা অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান চেয়ে পাঠিয়েছে কমিশন। কয়েকটি জায়গায় অপরিষ্কার শৌচাগার এবং রোগী ও পরিজনদের জন্য পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা না থাকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। পরিদর্শন শেষে বিশ্বজিৎ বসু বলেন, একাধিক অনিয়ম নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ত্রুটি দ্রুত সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সময়সীমার মধ্যে নির্দেশ কার্যকর না হলে পরবর্তী পর্যায়ে কড়া পদক্ষেপের সুপারিশ করা হবে বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে কমিশন।
স্বাস্থ্য কমিশনের এই অভিযানে প্রশ্ন উঠেছে- এতদিন ধরে এই অনিয়মগুলি নজরে এল না কেন? জেলাস্তরের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির নজরদারি নিয়েও এবার উঠছে প্রশ্ন।