Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিজেপির প্রভাবশালী যোগেই কি বালি মাফিয়ায় চুপ ইডি, সিবিআই

বর্ধমানের বালি মাফিয়াদের সঙ্গে বাঁকুড়ার বিজেপি নেতার সাগরেদদের যোগ পেয়েছে পুলিশ।

বিজেপির প্রভাবশালী যোগেই কি বালি মাফিয়ায় চুপ ইডি, সিবিআই
  • ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৫:০২
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বর্ধমানের বালি মাফিয়াদের সঙ্গে বাঁকুড়ার বিজেপি নেতার সাগরেদদের যোগ পেয়েছে পুলিশ। ওই বিজেপি নেতার নির্দেশেই ‘পাল’ লোকজনদের দিয়ে বিভিন্ন ঘাট থেকে তোলা আদায় করত বলে অভিযোগ। জেলার বাসিন্দাদের দাবি, কিছু বিজেপি নেতার সঙ্গে গলসি, খণ্ডঘোষের বালি মাফিয়াদের যোগ থাকার কারণেই ইডি বা সিবিআই মুখ ফিরিয়ে রয়েছে। জেলায় বালির চোরাচালান নিয়ে অতীতে বহুবার অভিযোগ উঠেছে। গলসির এক মাফিয়ার বিরুদ্ধে নকল চালান তৈরি করে কেটি কোটি টাকা লুটেরও অভিযোগ রয়েছে। তারপরও ইডি ঘটনার তদন্ত করেনি। অথচ নকল চালান তৈরির জন্য ঝাড়গ্রামের এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ময়দানে নেমেছে। 
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গলসির গোহগ্রাম এলাকায় ওই ব্যবসায়ী বালি মজুত করে। ঝাড়গ্রামের ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ গোহগ্রামে অবৈধ বালি মজুতের তথ্য পায়। তদন্ত করে দেখার জন্য আধিকারিকরা গোহগ্রামে এসেছিলেন। কিন্তু এখানকার কোনো বালি মাফিয়ার বিরুদ্ধে তাঁরা ব্যবস্থা নেননি। তবে, ‘তোলাবাজি’র ঘটনায় পুলিশ শিকড় পর্যন্ত পৌঁছাতে চাইছে। যেসব বালি মাফিয়া বা ব্যবসায়ীদের কাছে থেকে ‘পাল’ লোক পাঠিয়ে তোলা আদায় করেছিল, তাদের অনেকের নাম তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন। তাদের বয়ানও লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে।

Advertisement


এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, তোলাবাজির ঘটনা আড়াল করতে বিভিন্ন কৌশল নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারপরও তারা রেহাই পাবে না। ‘পাল’কে জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি বিজেপির কথায় চলে। যেসব মাফিয়া ওদের দলীয় নেতৃত্বকে তোলা দেয়, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে না। এটাই স্বাভাবিক। গলসি, খণ্ডঘোষ ছাড়াও বাঁকুড়ার বিভিন্ন বালির ঘাট থেকে বিজেপির ওই নেতা তোলা আদায় করে বলে আমাদের কাছে খবর রয়েছে। কেন্দ্রীয় সংস্থার ভয় দেখিয়েই তারা তোলা আদায় করে। তবে পুলিশ ছাড়বে না। ওরা যে কৌশল নিক না কেন, তোলাবাজরা রক্ষা পাবে না। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, নদীর ঘাট থেকে তোলাবাজির ঘটনায় তৃণমূলের নেতারাই যুক্ত রয়েছে। অবৈধ বালি কারবারিদের বিরুদ্ধে পুলিশের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ইডি কোনো ঘটনার তদন্ত করলেই তৃণমূল ষড়যন্ত্র দেখতে পায়।স্থানীয়রা বলেন, দেড় বছর ধরে অবৈধ বালি মাফিয়াদের রমরমা অনেকটাই কমেছে। পুলিশ কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু আগে গলসি, খণ্ডঘোষ, জামালপুর এবং মঙ্গলকোট এলাকায় বালি মাফিয়ারা রাজ চালাত। এখন একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অন্য কৌশলে বালি লুট করে। তারা যতটা এলাকা লিজ পেয়েছে, তার থেকে অনেকটা বেশি জায়গা থেকে বালি তুলছে। সেই সুযোগকেই বিজেপি নেতা কাজে লাগাচ্ছেন। তোলা না দিলে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে দিয়ে তদন্ত করানোর হুঁশিয়ারি দিয়েই তিনি বাজিমাত করেছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ