গল: প্রচণ্ড গরম, জবজবে আর্দ্রতার সঙ্গে বৃষ্টির চোখরাঙানি। ভারত মহাসাগরের লাগোয়া গল স্টেডিয়ামে শনিবার ৬০০তম টেস্টে নামার সময় এমন আবহই সঙ্গী হচ্ছে টিম ইন্ডিয়ার। পাশাপাশি শুভমান গিল ব্রিগেডকে চিন্তায় রাখছে এখানে শ্রীলঙ্কার জয়ের রেকর্ডও। ১৯৯৮ থেকে ধরলে এখানে হওয়া ৪৯ টেস্টের মধ্যে ২৭টিতেই জয়ী হোমটিম। আর এই আধিপত্যের নেপথ্যে স্পিনের ঘূর্ণিজাল। মুত্তাইয়া মুরলীথরন, রঙ্গনা হেরাথরা অবসর নিলেও শ্রীলঙ্কার স্পিন ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন প্রভাত জয়সূর্য, রমেশ মেন্ডিসরা। ভারতীয় ব্যাটারদের যে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়বেন তাঁরা, তা নিয়ে কোনো নিঃসন্দেহ নেই। এমনিতেও ঘরের মাঠে সাম্প্রতিক অতীতে লাল বলের ঘরানায় মিচেল স্যান্টনার, সাইমন হার্মারদের স্পিনের সামনে ফুটে উঠেছে গিল ব্রিগেডের অসহায়তা। তবে পালটা টক্কর দেওয়ার মশলা অ্যাওয়ে টিমেও রয়েছে। রবীন্দ্র জাদেজা, কুলদীপ যাদবের সঙ্গে মানব সুথার— স্পিনার ত্রয়ীর উপর ভরসা রাখছে টিম ম্যানেজমেন্ট। মোদ্দা কথা, প্রথম টেস্টে স্পিন অস্ত্রে বাজিমাতের ভাবনায় উভয় শিবির। অবশ্য প্রকৃতি বাদ সাধলে অন্য কথা। ভারতের অনুশীলনই যেমন এদিন বৃষ্টিতে কাটছাঁট হয়ে গেল।
ঐতিহাসিক গল দুর্গকে পিছনে রেখে স্বাধীনতা দিবসে টস করতে যাওয়ার সময় ক্যাপ্টেন গিলকে চিন্তায় রাখবে টিম কম্বিনেশনও। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা নাকি গুরনুর ব্রার? ধ্রুব জুরেল নাকি সরফরাজ খান? ঋষভ পন্থের হালফিলের ফর্মও তো উদ্বেগের। কোনো সন্দেহ নেই, ভারতীয় ব্যাটিংয়ের নিউক্লিয়াস গিলই। তবে দুই ওপেনার লোকেশ রাহুল ও যশস্বী জয়সওয়ালের উপর অনেকাংশে নির্ভর করছে বড়ো ইনিংস। তিন নম্বরে দেবদূত পাদিক্কালের কাছে নিজেকে চেনানোর দুরন্ত সুযোগ এই সিরিজ। কিন্তু বড়ো রানের বোঝা বিপক্ষের ঘাড়ে চাপানোর জন্য মিডল অর্ডারে পন্থকে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে। যা আভাস, সরফরাজের চেয়ে দৌড়ে এগিয়ে জুরেল। একইভাবে গুরনুর নয়, খেলার সম্ভাবনা বেশি প্রসিদ্ধর। নতুন বলে তাঁর সঙ্গী হবেন মহম্মদ সিরাজ।
২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কায় শেষবার টেস্ট সিরিজ খেলতে এসেছিল ভারত। সেবার বিরাট কোহলির নেতৃত্বে জয় এসেছিল ৩-০ ব্যবধানে। সেই দলের থেকে এবারের স্কোয়াডের আমূল তফাত। ভাঙা-গড়ার মধ্যে দিয়ে চলছে টিম ইন্ডিয়া। রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, রবিচন্দ্রন অশ্বিনরা অবসর নিয়েছেন। চোটের জন্য নেই যশপ্রীত বুমরাহও। ভারতের সাপোর্ট স্টাফেও এসেছে পরিবর্তন। তার উপর নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হোম সিরিজে ল্যাজেগোবরে হওয়ায় আত্মবিশ্বাস তলানিতে। গৌতম গম্ভীরের ছাত্রদের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা তাই জোর ধাক্কা খেয়েছে। সেজন্যই শ্রীলঙ্কার মাটিতে দুই টেস্টের সিরিজ জিততে মরিয়া ভারত। কিন্তু কাজটা মোটেও সহজ নয়। গলের পিচে স্পিনারদের সাহায্য পাওয়ার কথা। খেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন ধরবে বাইশ গজে। ফলে নির্ভুল নিশানায় বল রাখা জরুরি। জাদেজা, সুথারদের ভূমিকা তাই গুরুত্বপূর্ণ। দুই স্পিনারই স্টাম্প আক্রমণ করে বল ছাড়েন।
গল স্টেডিয়ামে এটা আবার ৫০তম টেস্ট। যতই প্রতিদিনই বৃষ্টির আশঙ্কা থাক, উৎসবের বাতাবরণ তাতে দমছে না। ভারতীয়দের আবার সঙ্গী হচ্ছে দেশাত্মবোধের গনগনে আবেগ।
খেলা শুরু সকাল ১০টায়। সরাসরি সম্প্রচার সোনি স্পোর্টস নেটওয়ার্ক ও সোনিলিভ অ্যাপে।