সংবাদদাতা, ঘাটাল: ঘাটাল মহকুমায় বন্যার জল কিছুটা কমেছে। তবে এই বন্যায় প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ পর্যালোচনা করতে রাজ্যের সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া শনিবার সন্ধ্যায় ঘাটালে আসেন। প্রশাসনিক আধিকারিকদের কাছ থেকে পরিসংখ্যান নেন। তিনি জানান, এমাসের দুর্যোগে চন্দ্রকোণা-১ ও চন্দ্রকোণা-২ ব্লক মিলিয়ে ছ’টি পঞ্চায়েত, ঘাটাল ব্লকের ১০টি পঞ্চায়েত, দাসপুর-১ ব্লকের দু’টি পঞ্চায়েত, ঘাটাল পুরসভার ১২টি ওয়ার্ড, ক্ষীরপাই পুরসভার কিছু অংশ এবং খড়ার পুরসভার তিনটি ওয়ার্ড জলমগ্ন হয়েছে। সব মিলিয়ে ৩২৭টি গ্রাম সম্পূর্ণ জলমগ্ন এবং এক লক্ষ ২৮হাজার ৬৫৩ জন মানুষ জলবন্দি হয়ে পড়েছেন। ১৩৮টি বাড়ি সম্পূর্ণ এবং ১৩৯২টি বাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার জেরে কৃষিক্ষেত্রে প্রভাব পড়েছে। ৩৩৪ হেক্টর জমির পাট, ৯০ হেক্টর জমির সব্জি ও ৫৭হেক্টর জমির আমন ধানের বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চাষিদের নতুন করে বীজতলা তৈরি করে এই মরশুমে ধান রোপণ করা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, বন্যায় তিনজনের প্রাণহানি হয়েছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন ঘাটাল থানার দু’জন এবং দাসপুর থানার একজন।
বন্যা পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তর দিনরাত এক করে কাজ করেছে বলে মন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, প্রশাসন এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ত্রাণ ও উদ্ধারকার্যে নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে ৩৩টি ত্রাণশিবির চালু রয়েছে। যেখানে এক হাজার ১৬৩ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। জলবন্দি মানুষকে খাবার দিতে ৩৩টি কমিউনিটি কিচেন চলছে। জলবন্দি দু’হাজার ৬৫৫জনকে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। সরকারিভাবে ২২টি নৌকা এবং পূর্তদপ্তর ঘাটাল পুরসভার ১নম্বর চাতালে চারটি অতিরিক্ত নৌকা মানুষের যাতায়াতের জন্য বরাদ্দ করেছে। উদ্ধারকার্যে আটটি স্পিডবোট মোতায়েন করা হয়েছে। জলবন্দি মানুষজন যাতে শারীরিক সমস্যায় না পড়েন তারজন্য মহকুমায় ৫৬টি মেডিক্যাল টিম প্রতিদিন প্লাবিত এলাকায় কাজ করছে। আশা কর্মীরাও ডিঙি নৌকায় করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্য পরিষেবা দিচ্ছেন। গবাদি পশুর সুরক্ষাতেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। প্রাণিসম্পদ ক্যাম্পে গবাদি পশুকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।
ত্রাণসামগ্রী বিলির ক্ষেত্রেও প্রশাসন সক্রিয় রয়েছে। ৩০হাজার ৫০০টি ত্রিপল, ২৫ হাজার ২৫০টি জামাকাপড়, ৫৮মেট্রিক টন চাল এবং ২৫মেট্রিক টন পশুখাদ্য বিভিন্ন এলাকায় বিলি করা হয়েছে। এছাড়াও, ৫২০টি ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট কিট বিলি করা হয়েছে। পানীয় জলের সমস্যা মোকাবিলায় ২৩৮টি ট্যাঙ্কে করে প্রতিদিন বিভিন্ন প্রান্তে জল সরবরাহ করা হচ্ছে। ২ লক্ষ ৫০ হাজার জলের পাউচ দেওয়া হয়েছে। নিমতলায় একটি মোবাইল ট্রিটমেন্ট ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার জলের পাউচ তৈরি হচ্ছে।
বন্যার কারণে সাপের উপদ্রব বেড়েছে। প্রশাসন ৫৭৫টি সাপ উদ্ধার করেছে। সাপে কাটা ১১৫জন রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সময়মতো এভিএস প্রয়োগের ফলে সকলেই সুস্থ হয়ে উঠেছেন। কোনও প্রাণহানি ঘটেনি। ২৪৫জন গর্ভবতী মহিলাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অনেকে সন্তান প্রসব করেছেন এবং অনেকে ঘাটাল হাসপাতালের ভর্তি রয়েছেন। প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম চালু আছে।-নিজস্ব চিত্র