নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: এবার থেকে পাহাড়ে কতটা বৃষ্টি হচ্ছে, তার রেকর্ড পাবে রাজ্যের উত্তর-পূর্ব সেচবিভাগ। কালিম্পং পাহাড়ে ৪২টি রেইন গজ স্টেশন থেকে তাদের কাছে চটজলদি পৌঁছে যাবে বৃষ্টিপাত সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য। এতে পাহাড়ি নদীতে হড়পা বান হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে স্থানীয়দের সতর্ক করার কাজে অনেকটাই সুবিধা হবে বলে মনে করছেন সেচদপ্তরের আধিকারিকরা।
বছর তিনেক আগে বিজয়া দশমীতে প্রতিমা ভাসান দিতে গিয়ে ডুয়ার্সের মাল নদীতে হড়পা বানের কবলে পড়েন অনেকে। ওই ঘটনায় মৃত্যু হয় আটজনের। জখম হয়েছিলেন বেশ কয়েকজন। এরপর থেকে হড়পা বান মোকাবিলায় একাধিক পদক্ষেপ নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা হয়। যার মধ্যে অন্যতম ছিল পাহাড়ে বৃষ্টির পূর্বাভাসের পাশাপাশি রেকর্ড পাওয়া।
এতদিন কালিম্পং জেলার ন’টি রেইন গজ স্টেশন থেকে বৃষ্টিপাতের তথ্য পেত উত্তর-পূর্ব সেচবিভাগ। কিন্তু তা পর্যাপ্ত ছিল না। কারণ, পাহাড় থেকে বহু নদী ও ঝোরা নেমে এসেছে ডুয়ার্সে। স্বাভাবিকভাবে হাতেগোনা কিছু রেইন গজ থেকে পাওয়া তথ্যের উপর নির্ভর করে ডুয়ার্সের নদীগুলিতে হড়পা বানের মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হতো না বলে জানিয়েছেন সেচদপ্তরের আধিকারিকরা। এবার ৪২টি রেইন গজ স্টেশন থেকে সেচদপ্তরের কন্ট্রোল রুমে সরাসরি কালিম্পং পাহাড়ের কোথায়, কত বৃষ্টি হতে পারে, তার পূর্বাভাস এবং বৃষ্টিপাতের তথ্য চলে আসবে। তারই ভিত্তিতে প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে হড়পা মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সেচদপ্তরের কর্তারা।
এদিকে, শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত দার্জিলিং পাহাড়ে ৭৬ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হয় সমতলে। মাঝেমধ্যে ছিটেফোটা বৃষ্টি হলেও জলপাইগুড়ি অবশ্য এদিনও গরমে পুড়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ভারী বৃষ্টি হতে পারে জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের দু’একটি জায়গায়।