Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তিস্তাপল্লি রক্ষায় নদীর পাড় বাঁধাবে সেচদপ্তর, বাসিন্দারা পাবেন বাংলার বাড়ির টাকা

তিস্তার পর মহানন্দার গ্রাসের মুখে তিস্তাপল্লি! তাই বর্ষা মরশুমের আগে তিস্তাপল্লিতে মহানন্দা নদীর ভাঙন রোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেচদপ্তর।

তিস্তাপল্লি রক্ষায় নদীর পাড় বাঁধাবে সেচদপ্তর, বাসিন্দারা পাবেন বাংলার বাড়ির টাকা
  • ২ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: তিস্তার পর মহানন্দার গ্রাসের মুখে তিস্তাপল্লি! তাই বর্ষা মরশুমের আগে তিস্তাপল্লিতে মহানন্দা নদীর ভাঙন রোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেচদপ্তর। তারা এজন্য রাজ্য সরকারের কাছে প্রায় দু’কোটি টাকার প্রকল্প পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গ্রামের বাসিন্দাদের বাংলার বাড়ি প্রকল্পে ঘর প্রদান করা হবে। এজন্য চলতি মাসেই তাঁদেরকে প্রকল্পের প্রথম কিস্তির টাকা প্রদান করা হবে বলে খবর।

Advertisement

বিগত দু’বছরে তিস্তা নদীর থাবায় জলপাইগুড়ি জেলার মানচিত্র থেকে কার্যত মুছে গিয়েছে দু’টি গ্রাম লালটং ও চমকডাঙি। বহু চেষ্টা করার পর বেশ কয়েক মাস আগে গ্রাম দু’টির গৃহহীন বাসিন্দাদের বসানো হয় শিলিগুড়ি শহর সংলগ্ন মহানন্দা নদীর পাড়ে ডাবগ্রাম মৌজায়। সংশ্লিষ্ট গ্রামের নাম তিস্তাপল্লি রাখেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্তমানে মহানন্দা নদীর ভাঙনে সংশ্লিষ্ট গ্রাম কার্যত বিপণন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তিস্তার গর্ভে চাপা পড়া লালটং ও চমকডাঙির ১৩২টি পরিবারকে তিস্তাপল্লিতে বসানো হয়েছে। ইতিমধ্যে তাঁদেরকে জমির পাট্টা প্রদান করা হয়েছে। তাঁরা নিজেদের মতো করে বাঁশ, কাঠ, টিন দিয়ে ঘর বানিয়ে রয়েছেন। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, বেশ কয়েক বছর ধরেই এখানে পাড় ভাঙছে মহানন্দা নদী। গত বর্ষায় এখানে নদী ভাঙন মারাত্মক আকার নিয়ে ছিল। এখন তিস্তাপল্লি থেকে নদীর দূরত্ব প্রায় ১৫০ মিটার। তাই নদীর ভাঙন রোধ করার দাবি সেচদপ্তরের কাছে জানানো হয়েছে।
এজন্য বুধবার সেচ দপ্তরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার দেবাশিষ মল্লিক, দপ্তরের শিলিগুড়ির চিফ ইঞ্জিনিয়ার শ্যামল মণ্ডল, শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব সহ ডাবগ্রাম-১গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যররা এলাকাটি পরিদর্শন করেন। 
সেচদপ্তরের আধিকারিকরা বলেন, সংশ্লিষ্ট এলাকার ভাঙনের বিষয়ে বহুদিন আগে রাজ্য সরকারের  কাছে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। তিস্তাপল্লির সুরক্ষায় এখানে নদীর পাড়ের প্রায় ১৬০০ মিটার এলাকার তারজালি ও বোল্ডার দিয়ে মেরামত করা হবে। এজন্য খরচ হবে প্রায় দু’কোটি টাকা। রাজ্য সরকার প্রকল্পটি অনুমোদন করলেই ভাঙন রোধের কাজে হাত দেওয়া হবে।
মাঝুয়াবস্তির পাশেই তিস্তপল্লি। নদী, জঙ্গল ও পাহাড়ের দৃশ্য গ্রামটির সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলেছে। ডাবগ্রাম-১ পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তৃণমূল কংগ্রেসের অভিরাম বৈশ্য বলেন, আমাদের গ্রামকে বাঁচিয়ে রেখেছেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। তিনি বর্ষার মরশুমের আগে এখানে নদী ভাঙন রোধের কাজ শুরুর নির্দেশ সেচদপ্তরকে দিয়েছেন। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলিকে বাংলার বাড়ি প্রকল্পে ঘর প্রদানের কথা জানিয়েছেন। চলতি মাসেই প্রকল্পের ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার মধ্যে ৬০ হাজার টাকা প্রদান করা হবে পরিবারগুলিকে। গ্রামটিকে সাজিয়ে তোলা এবং গ্রামীণ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন মেয়র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ