সংবাদদাতা, লালবাগ: ‘জল ধর, জল ভরো’প্রকল্পকে বাস্তবায়িত করতে মজে যাওয়া ভৈরব নদের সংস্কারে উদ্যোগী রাজ্য সেচদপ্তর। সম্প্রতি ভৈরবের মাটির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য কলকাতায় মৃত্তিকা পরীক্ষা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। সেচদপ্তরের জিয়াগঞ্জ সেকশনের এক জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার বলেন, দপ্তরের নির্দেশে ভৈরবের মাটি সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। মাটি পরীক্ষার পর সবুজ সঙ্কেত মিলতেই পুরোদমে ভৈরব সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে। ভৈরব সংস্কার হলে পাট পচানোর দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে। পাশাপাশি এলাকার জেলেদের রুজিরোজগারের দিক খুলে যাবে। স্বাভাবিকভাবেই খুশি কৃষক ও মৎস্যজীবীরা।
মুর্শিদাবাদ জেলার নদ-নদীগুলির মধ্যে অন্যতম ভৈরব। পদ্মার মূল প্রবাহ থেকে ভৈরবের উৎপত্তি। ভৈরবকে কেন্দ্র করে অববাহিকার জনপদগুলি ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিতে সমৃদ্ধশালী হয়ে উঠেছিল। কয়েক হাজার মৎস্যজীবীর রুজিরোজগার ভৈরবের উপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু কয়েক দশক আগে ভগবানগোলা থানা এলাকা থেকে পদ্মা বাংলাদেশের দিকে সরে যাওয়ায় ভৈরব নাব্যতা হারাতে থাকে।স্বাভাবিকভাবেই ভৈরব অববাহিকার অঞ্চলগুলি অর্থনৈতিক, সামাজিক দিক থেকে কৌলিন্য হারাতে থাকে। ভৈরবের একটি শাখা বয়ে গিয়েছে হাবাসপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের রুহিমারি এলাকা থেকে রানিতলা হয়ে জলঙ্গির দিকে। বর্তমানে ওই শাখার চিহ্ন প্রায় নেই, কোথাও সুতোর মতোজলরেখা জানান দেয় ভৈরবের। অপর শাখাটি মহম্মদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নহরপাড়া হয়ে পলাশবাড়ি ঘাট দিয়ে বয়ে গিয়েছে মগড়াদহ বিলের দিকে। পরবর্তীতে আমডহরা হয়ে ইসলামপুর পেরিয়ে হরিহরপাড়া দিয়ে পড়েছে জলঙ্গি নদীতে। বর্যাকালে এই শাখাটিকে পদ্মার জলে বছর দশেক আগেও ফুলে ফেঁপে উঠত। তবে গত কয়েক বছরে সম্পূর্ণ মজে গিয়েছে। আর এই মজে যাওয়া ভৈরবের উপর সম্প্রতি নজর পড়েছে মাটি মাফিয়াদের। শুরু হয়েছে দখলদারি। ভৈরবের উপরে গজিয়ে উঠেছে বসত ভিটা। এই পরিস্থিতিতে ভৈরবকে রক্ষা করতে উদ্যোগী হয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদ। মাস দেড়েক আগে এই বিষয়ে জেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট দপ্তর সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়াকে ভৈরব নদ সংস্কারে আবেদন করে।তার ভিত্তিতেই সংস্কারের উদ্যোগ শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, ভগবানগোলার ১০ কিলোমিটারজুড়ে ভৈরবের সংস্কার করে স্থানীয় কৃষকদের সেচের ব্যবস্থা করতেই এই উদ্যোগ। ভগবানগোলার জেলা পরিষদের সদস্য আবু সায়েম রিপন বলেন, ভৈরবের সংস্কার হলে কৃষিকাজের পাশাপাশি মাছ চাষ এবং গোরু, ছাগল পালনের পরিবেশ গড়ে উঠবে। ভৈরবকে ঘিরে এলাকার অর্থনৈতিক পরিবর্তন ঘটবে। ভগবানগোলার বাসিন্দা পেশায় শিক্ষক আজমল হক বলেন, ভগবানগোলার মানুষের প্রধান কৃষিজ ফসল পাট। পাট পচানোর জলাশয়ের জন্য প্রতি বছর চাষিদের চরম সমস্যায় পড়তে হয়। জলের জন্য পাট কাটার পর মাঠে পড়ে থেকে নষ্ট হয়। ভৈরব সংস্কার হলে চাষিরা উপকৃত হবেন। আমডহরার বাসিন্দা জীবন হালদার বলেন, ভৈরব মজে যাওয়ায় মাছ পাওয়া যায়না। গত কয়েক বছর ধরে দিনমজুরের কাজ করছি। ভৈরব সংস্কার হলে এলাকার জেলেরাও উপকৃত হবেন।