সংবাদদাতা, সিউড়ি: আগামী বর্ষার আগেই তিলপাড়া জলাধারের সম্পূর্ণ সংস্কার সম্পন্ন করতে উদ্যোগী সেচদপ্তর। সেজন্য দপ্তরের তরফে একাধিক পদক্ষেপ করা হচ্ছে। কবে থেকে কাজ শুরু হবে, কত টাকা খরচ হবে-তা এখনও পরিষ্কার নয়। তবে বিশেষজ্ঞরা দফায় দফায় ওই জলাধার পরিদর্শন করেছেন। এখন নকশা তৈরির কাজ চলছে। দপ্তরের আধিকারিকরা জানান, সেই নকশা জমা দেওয়ার পর তার ভিত্তিতেই পরবর্তী পর্যায়ের কাজ হবে।
তিলপাড়া জলাধারের বয়স প্রায় ৭৫বছর। কয়েকবছর ধরে এই জলাধারের সংস্কার নিয়ে নানা স্তরে আলোচনা চলছিল। এবছর প্রবল বর্ষায় জলাধারের একাধিক জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বেশ কয়েকটি জলবিভাজিকায় ফাটল ধরে। জলাধারে যেদিক দিয়ে জল বেরিয়ে আসে, সেই জায়গাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ব্যাপক সমস্যা দেখা দেয়। সেকারণে জলাধারের উপর জাতীয় সড়ক দিয়ে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এরপরই সেচদপ্তর তড়িঘড়ি জলাধার সংস্কারে উদ্যোগী হয়। আইআইটি রুরকির অধ্যাপক তথা জলাধার বিশেষজ্ঞ জুলফিকার আহমেদের সাহায্য নেওয়া হয়। তাঁর দেখানো পথেই সংস্কার শুরু হয়। পাথরের বোল্ডার ফেলে ও বালি দিয়ে ভরাট করে সাময়িকভাবে জলাধারের ক্ষতি রোধ করা হয়। তারপর দুর্গাপুজোর আগে জাতীয় সড়ক দিয়ে যান চলাচলে ছাড় দেওয়া হয়। তবে এখনও তাতে কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, এখনও অবধি জাতীয় সড়ক দিয়ে ছোট গাড়ি, বাস, জরুরি পরিষেবার গাড়ি যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া আছে। ফাঁকা ডাম্পার বা ট্রাকও চলাচল করতে পারে। তবে বালিপাথর বোঝাই ডাম্পার বা অন্য গাড়ি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
সেচদপ্তর জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে তিলপাড়া ব্যারেজের যে সংস্কার হয়েছিল, সেটা শুধু অতিবর্ষণে জলাধারকে টিকিয়ে রাখার জন্য। জলাধারের আমূল সংস্কার প্রয়োজন। পুজোর পর সেই কাজ করার পরিকল্পনা আগেই জানিয়েছিল সেচদপ্তর। উৎসবের মরশুম শেষ হতেই আইআইটি রুরকির অধ্যাপক জুলফিকার আহমেদ সহ বিশেষজ্ঞদের দল জলাধারের কোথায় কোথায় সংস্কার প্রয়োজন, কীভাবে তা করা যাবে-সেবিষয়ে বিশদে সমীক্ষা করেন। সেই রিপোর্ট মৌখিকভাবে জেলা সেচদপ্তরকে জানানোও হয়েছে। সেচদপ্তরের এক আধিকারিক জানান, সেইমতো আইআইটি রুরকিতে জলাধারের নকশা তৈরি করা হচ্ছে। সেই নকশা সেচদপ্তরের কাছে জমা দেওয়া হবে। তারপরই ডিটেইলড প্রজেক্ট রিপোর্ট বা ডিপিআর তৈরি করবে সেচদপ্তর। আগামী বর্ষার আগে এই কাজ সম্পূর্ণ করার টার্গেট নেওয়া হয়েছে।