নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: মন্ত্রী মানস ভুঁইয়ার কড়া বার্তার পর নড়েচড়ে বসল বাঁকুড়া সেচদপ্তর। মঙ্গলবার বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের আধিকারিক ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে দপ্তরের কর্তারা বৈঠক করেন। বাঁকুড়া জেলা কালেক্টরেটের কনফারেন্স হলে রাত পর্যন্ত ওই বৈঠক চলে। বৈঠকে জেলার মজে যাওয়া নদনদী, সেচখাল ও ক্যানেল সংস্কারের দাবিতে জনপ্রতিনিধিরা সরব হন। সেচদপ্তর ও প্রশাসনের আধিকারিকরা ওইসব দাবিদাওয়া লিপিবদ্ধ করেন। অর্থ মঞ্জুরের আবেদন সহ তা রাজ্যস্তরে পাঠানো হবে। সেচ দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, সুষ্ঠুভাবে চাষিরা যাতে সেচের জল পান, তারজন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জনপ্রতিনিধিদের দাবিদাওয়া গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী বলেন, মজে যাওয়া শীলাবতী ও গন্ধেশ্বরী নদী সংস্কারের দাবি বৈঠকে জানিয়েছি। অন্তত ১৬ জায়গায় শীলাবতী নদীর দুর্বল পাড় ভেঙে পড়ার আশঙ্কার কথা মন্ত্রীকে জানানো হয়েছিল। বৈঠকেও বিষয়টি তোলা হয়। নদীগর্ভ সংস্কার ও পাড় বাঁধানোর কাজ কীভাবে করা হবে, তা দপ্তরের আধিকারিকদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
বড়জোড়ার বিধায়ক অলোক মুখোপাধ্যায় বলেন, আমার বিধানসভা এলাকায় বহু ক্যানেল মজে গিয়েছে। দুর্গাপুর ব্যারেজ ও গাংদুয়া ড্যাম থেকে ওইসব ক্যানেলের মাধ্যমে খাঁড়ারি, ন’পাড়া, মালিয়ারা সহ অন্যান্য এলাকায় চাষের জমিতে জল পৌঁছয়। ক্যানেল মজে যাওয়ায় চাষিদের জল পেতে সমস্যা হচ্ছে। আমি বৈঠকে ক্যানেল সংস্কারের দাবি জানিয়েছি। ক্যানেলের পাশাপাশি বেলিয়াতোড় থানার ভৈরবডাঙায় ভেঙে পড়া কজওয়ে সংস্কারের দাবিও জানানো হয়েছে।
বাঁকুড়া জেলা পরিষদের কৃষি-সেচ কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বরূপা সেনগুপ্ত বলেন, কংসাবতী সেচ বিভাগের আওতায় খাতড়া, রাইপুর, রানিবাঁধ, সারেঙ্গা এলাকায় থাকা ক্যানেলের বাঁধের অবস্থা ভালো নয়। বৈঠকে এলাকার জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি জানিয়েছেন। ভূমিক্ষয়জনিত কারণে দ্বারকেশ্বর নদের পাড়ের একাংশ ভেঙে পড়ছে। ফলে শ্মশানঘাট, জমিতে নদের জল ঢুকে পড়ছে। এদিন আধিকারিকদের নিয়ে আমি পাতাকোলা শ্মশান ও সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শন করেছি।
উল্লেখ্য, সপ্তাহ খানেক আগে সেচমন্ত্রী বাঁকুড়া সার্কিট হাউসে আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে জেলা সেচ দপ্তরের আধিকারিকদের ভূমিক নিয়ে মন্ত্রী উষ্মা প্রকাশ করেন। রাইপুরের শ্যামসুন্দপুর অঞ্চলে কংসাবতী সেচ ক্যানেলের বাঁধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত হওয়ার ঘটনায় সেচ দপ্তরের আধিকারিকদের একাংশের বিরুদ্ধে নজরদারিতে উদাসীনতার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের তরফে তোলা গাফিলতির অভিযোগের বিষয়টি রাজ্যস্তরেও পৌঁছয়। বিধানসভা ভোটের আগে জঙ্গলমহলের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় সরকারি দপ্তরের উদাসীনতার বিষয়টি যে সরকার ভালোভাবে নেয়নি, তা বৈঠকে বোঝা গিয়েছিল বলে জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। সেই কারণেই সেচ দপ্তর ও প্রশাসনের আধিকারিকরা তড়িঘড়ি ‘ড্যামেজ কন্ট্রোলের’ চেষ্টা করছেন
বলে ওয়াকিবহাল মহলের
অভিমত। -নিজস্ব চিত্র