সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: নবদ্বীপের মহিশুড়া পঞ্চায়েতের মালিতাপাড়ায় ফসল বাঁচাতে বন্যা প্রতিরোধের জন্য বাঁধ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ওই এলাকায় নদী ভাঙন রুখতে সেই বন্যা প্রতিরোধের বাঁধের মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে সেচ দপ্তরের বিরুদ্ধে। এমনই দাবি স্থানীয় গ্রামবাসীদের। বিষয়টি জানাজানি হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। এই ঘটনায় বুধবার সকালে মালিতাপাড়া এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকদিন ধরেই ওই বাঁধের মাটি কেটে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলছে। এভাবে যদি বাঁধের মাটি কাটা হয়, তবে ভাগীরথীর জল বাড়লে এলাকার গ্রামগুলিতে সহজেই নদীর জল ঢুকে পড়বে। তখন কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে। ফলে সমস্যায় পড়তে হবে মালিতাপাড়া সহ আশপাশের গ্রামের কৃষকদের। নদী তীরবর্তী গ্রামের বাসিন্দা ইলিয়াস মালিতা বলেন, আমার ঘরের সামনেই নদী ভাঙছে। দু’দিন ধরে এই ভাঙনের জায়গায় মাটি ফেলা হচ্ছিল। আজ আচমকাই কাজ বন্ধ হয়ে যায়। জানতে পারি বাঁধের মাটি কেটে এনে এখানে ফেলা হয়েছে। আমরা চাইছি বাঁধের মাটি কেটে নয়, নতুন করে এখানে মাটি ফেলে নদী ভাঙন রোধ করা হোক।
এদিন বাঁধের মাটি কাটার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান নবদ্বীপ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি তাপস ঘোষ। তিনি গ্রামবাসীদের সঙ্গে এবিষয়ে কথা বলেন। এরপরই স্থানীয় বিডিও ও সেচ দপ্তরের আধিকারিদের সঙ্গেও কথা বলেন পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি। তাপসবাবু জানান, মহিশুড়া পঞ্চায়েতের মালিতাপাড়ায় বন্যার হাত থেকে চাষিদের ফসল বাঁচাতে নদী বরাবর ১০০ দিনের প্রকল্পে বাঁধের কাজ হয়েছিল। বন্যা প্রতিরোধে বাঁধ সহ রাস্তাও তৈরি হয়। কয়েকদিন ধরে সেই বাঁধ থেকেই মাটি কেটে ওই এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধের কাজ হচ্ছে। বিষয়টি স্থানীয় বিডিও, সেচ দপ্তর ও এসডিওকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে।
তাপসবাবুর আরও দাবি, ২০১৩-১৪ সালে বন্যার হাত থেকে জমির ফসল বাঁচাতে ১০০ দিনের প্রকল্পে এই বাঁধ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু যেভাবে বাঁধের মাটি কাটা হয়েছে, তার ফলে জল বাড়লেই ওই এলাকা প্লাবিত হবে। ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে ফসলের। যে অবস্থায় ওই বাঁধটি ছিল সেই অবস্থায় সেচ দপ্তরকে ফিরিয়ে দিতে হবে। তা না হলে ওই এলাকার চাষিরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন। এবিষয়ে কৃষ্ণনগর সদর মহকুমা শাসক শারদ্বতী চৌধুরী জানান, আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।
যদিও এই প্রসঙ্গে জেলা সেচ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, স্থানীয় গ্রামের প্রতিনিধিকে জিজ্ঞাসা করেই বাঁধের মাটি কাটা হয়েছে। তাঁরা যদি আগেই বলে দিতেন এই জায়গায় বাঁধ আছে, তাহলে কর্মীরা মাটি কাটতেন না। যাই হোক পরবর্তীকালে জানতে পেরে মাটি কাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভাঙন রোধের জন্য কোথা থেকে মাটি আনা হবে, তা গ্রামের লোকজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলে ঠিক করবেন।