Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কো-অপারেটিভের জমি বিক্রিতে অনিয়ম, অভিযুক্ত বিধায়ক সমর

রতুয়া ১ ব্লকের সামসি কো-অপারেটিভ মার্কেটিং সোসাইটির জমি অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগ উঠল রতুয়ার বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে।

কো-অপারেটিভের জমি বিক্রিতে অনিয়ম, অভিযুক্ত বিধায়ক সমর
  • ২০ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, চাঁচল: রতুয়া ১ ব্লকের সামসি কো-অপারেটিভ মার্কেটিং সোসাইটির জমি অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগ উঠল রতুয়ার বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বুধবার বিধায়কের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন সোসাইটির চেয়ারম্যান সহ সদস্যরা। তাঁদের দাবি, ২০২১ সালে সোসাইটির স্পেশাল অফিসারের দায়িত্বে থাকাকালীন রতুয়ার বিধায়ক চাঁচলের সিঙ্গিয়া মৌজায় ১৩ শতক জমি কম দামে বিক্রি করেন। সোসাইটির দাবি, কয়েক কোটি টাকার জমি মাত্র ২১ লক্ষ টাকায় বিক্রির পর সেই অর্থ দুই বছর সোসাইটির অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়নি। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে এক ব্যক্তি আরটিজিএসের মাধ্যমে সেই টাকা কো-অপারেটিভের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দেন। সেই টাকার উৎস অস্পষ্ট থাকায় সোসাইটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হয়। সেখান থেকেই জমি বিক্রির হদিশ মেলে।

Advertisement

সোসাইটি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট জমির মালিকানায় ভাগ রয়েছে সভ্য, সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতি ও রাজ্য সরকারের। তাই সোসাইটির রেজ্যুলেশন ছাড়া জমি বিক্রি অবৈধ। সবাইকে অন্ধকারে রেখে জমি বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ। পরবর্তীতে জমির দলিলের নকল কপি তুলে বিষয়টির সত্যতা জানতে মালদহ রেঞ্জের ডেপুটি রেজিস্ট্রার অফ কো-অপারেটিভ সোসাইটির কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে সোসাইটি। তখন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে সমবায় দপ্তর। প্রাক্তন স্পেশাল অফিসার হিসেবে কোনওরকম সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ও সোসাইটির বোর্ডকে অন্ধকারে রেখে জমি বিক্রি হয়েছিল বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে। জমিটি রেজাউল আলম নামে এক ব্যক্তি কিনেছিলেন বলেও তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। সেই রিপোর্ট সম্পর্কে ডিআরসিএস সুতনুকা চক্রবর্তী বলেন, রিপোর্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জমা দেওয়া হয়েছে। এর বেশি কিছু বলতে পারব না।
অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন বিধায়ক। তিনি বলেন, সেই সময় আমার পারিবারিক পরিস্থিতি খারাপ ছিল, ছেলে মারা যায়। যদি কেউ জালিয়াতি করে থাকেন, সেটা আমার জানা নেই। জমি বিক্রির বিষয়ে কিছুই জানি না। সামসি কো-অপারেটিভ মার্কেটিং সোসাইটির বর্তমান চেয়ারম্যান সাধন চক্রবর্তীর অভিযোগ, আমি দায়িত্ব পাওয়ার পরেই জমি বিক্রির ঘটনাটি সামনে আসে। দলিল সংগ্রহ করে জানতে পারি, সোসাইটির তৎকালীন স্পেশাল অফিসার তথা বিধায়ক জমিটি কমদামে বিক্রি করেছেন। এর সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত থাকতে পারেন। জমি ফেরত সহ দোষীদের শাস্তির দাবিতে প্রশাসনিকসহ সর্বস্তরে অভিযোগ জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হব।
সোসাইটির প্রাক্তন ম্যানেজার ইনচার্জ সুবীর গুপ্ত বলেন, ২০২৩ সালে সোসাইটির অ্যাকাউন্টে হঠাৎ ২১ লক্ষ টাকা জমা পড়ে। পরে জানতে পারি সেটি জমি বিক্রির টাকা। ডিআরসিএস ম্যাডামের সঙ্গে আলোচনা করে সেই টাকা ফেরত দিয়ে দেওয়া হয়। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ