সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: রাস্তা ও পানীয় জল প্রকল্পের কাজে অনিয়ম করলে বরদাস্ত করা হবে না। কেন্দ্রীয় বঞ্চনা সত্ত্বেও আমাদের মুখ্যমন্ত্রী এত কষ্ট করে টাকা জোগাড় করছেন। আর ঠিকাদাররা পার্সেন্টেজ খাইয়ে নিম্ননামের কাজ করে গুড় খেয়ে চলে যাবে, সেটা হবে না। কোনওরকম গাফিলতির প্রমাণ মিললে সেই ঠিকাদারকে ব্ল্যাক লিস্টেড করা হবে। শনিবার বিষ্ণুপুরে এমনই হুঁশিয়ারি দেন পূর্ত, জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের বিধানসভার স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান তপন দাশগুপ্ত।
এদিন বিষ্ণুপুরে মহকুমা শাসক কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত প্রশাসনিক বৈঠকে তিনি বলেন, আমরা ঝাড়গ্রাম থেকে ফেরার পথে সিমলাপালের একটি রাস্তার বেহাল দশা দেখে নেমেছিলাম। দেখলাম, রুটির মতো পাতলা পিচের আস্তরণ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমার কাছে মোটেই ভালো ঠেকেনি। আমি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের ব্যাপারে খোঁজ নিতে বলেছি। তাদের বিরুদ্ধে বিধানসভায় রিপোর্ট করব। তপনবাবুর নেতৃত্বে স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যরা শুক্রবার ঝাড়গ্রাম সফর সেরে বাঁকুড়ায় আসেন। আসার পথে বিভিন্ন রাস্তা ও পানীয় জল প্রকল্পের কাজ খতিয়ে দেখেন। শনিবার বিষ্ণুপুরে প্রশাসনিক বৈঠক করেন। উপস্থিত ছিলেন বাঁকুড়ার জেলাশাসক সিয়াদ এন, জেলা পরিষদের সভাধিপতি অনুসূয়া রায় সহ প্রশাসন ও দুই দপ্তরের আধিকারিকরা। বৈঠকে দপ্তরের আধিকারিকরা জেলার কাজের খতিয়ান তুলে ধরেন। জেলাশাসক নিজে জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের কয়েকটি প্রকল্পের কাজ নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হবে কি না, তা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন। ইন্দাসের বিধায়ক নির্মল ধাড়া ইন্দাসের কয়েকটি রাস্তার বেহাল দশার কথা তুলে ধরেন। বাঁকুড়া জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ অর্চিতা বিদ যানজট এড়াতে বড়জোড়ায় ফোর লেনের রাস্তার প্রস্তাব দেন। ছাতনা থেকে কুস্থলিয়া রাস্তার মধ্যে থাকা তিনটি বেহাল সেতুর সংস্কারের প্রয়োজন বলে জানান। এছাড়াও তিনি জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের বিরুদ্ধে পাইপ লাইন বসানোর পর গর্ত না বোজানোর অভিযোগ তোলেন। জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের আধিকারিকরা অবশ্য নির্দিষ্ট সময়ের আগেই প্রকল্পের সিংহ ভাগ কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেন।
তবে অনেক জায়গায় স্থানীয়স্তরে পাইপ বসানোর ক্ষেত্রে বাধার সম্মুখীন হওয়ায় কাজে কিছুটা দেরি হচ্ছে বলে তাঁরা জানান। তপনবাবু বলেন, আগামী বিধানসভা ভোটের আগে প্রতিটি বাড়িতে বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছতে হবে। ঝকঝকে রাস্তা চাই। তার জন্য দুই দপ্তরকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। কোনও ঠিকাদার কাজ না করলে সরাসরি রাজ্যে রিপোর্ট করতে হবে। আর প্রতিটি দপ্তরের আধিকারিকদের পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতিকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে। তাহলে কাজে গতি আসবে। তাছাড়া লোকাল সমস্যা হলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তা সহজেই মিটিয়ে দিতে পারবেন।
জেলাশাসক বলেন, বিধানসভার স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যরা আমাদের জেলার রাস্তা ও পানীয় জল প্রকল্পের কাজে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। দু’-একটি ক্ষেত্রে কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আমরা তা মেনে দ্রুত পদক্ষেপ নেব। -নিজস্ব চিত্র