সংবাদদাতা, বালুরঘাট: সার বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগে তিন ব্যবসায়ীকে সাসপেন্ড করল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা কৃষি দপ্তর। বেশকিছু সার ব্যবসায়ীকে সতর্ক করা হয়েছে। বিক্রিতে নানা নিয়মও বেঁধে দিয়েছে দপ্তর। ধানচাষ শুরু হতেই জেলাজুড়ে সার বিক্রিতে নানা অনিয়ম হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। এই অনিয়ম বন্ধ করতে আজ, বৃহস্পতিবার জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক, সার ডিলার এবং জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করবে জেলা কৃষিদপ্তর। বৈঠকে সার বিক্রির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট দাম এবং নিয়ম বেঁধে দেওয়া হবে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।
জেলা কৃষিদপ্তরের মুখ্য কৃষি অধিকর্তা অমিত চট্টোপাধ্যায় বলেন, সার বিক্রি ঠিকঠাক হচ্ছে কি না, হলে তা সঠিক নিয়মে হচ্ছে কিনা, তা দেখতে জেলাজুড়ে অভিযান চলছে। তিন সার বিক্রেতাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। সারের কালোবাজারি নিয়ে অভিযোগ তুলে আগেই সরব হয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা কৃষক সমিতি। সংগঠনটির সম্পাদক সঞ্জয় মণ্ডল বলেন, সার বিক্রিতে অনিয়ম হচ্ছে। নির্ধারিত দামের থেকে বেশি দামে সার নিতে হচ্ছে কৃষকদের। গত মাসেই আমরা এনিয়ে ডেপুটেশন দিয়েছিলাম। এখনও আমাদের সব দাবি পূরণ হয়নি। ইতিমধ্যে সার ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেছে ডিস্ট্রিক্ট ফার্টিলাইজার অ্যান্ড এগ্রি ইম্পোর্টস ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের জেলা সাধারণ সম্পাদক অমল বসাক বলেন, নির্ধারিত দামের বেশি যাতে কেউ না নেয়, আমরা সমস্ত ডিলারকে সতর্ক করেছি। কৃষি দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জেলায় সার বিক্রির দোকান প্রায় ১৩২৪ টি। সার বিক্রির ক্ষেত্রে ই-পস মেশিন ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দোকানগুলি থেকে নির্ধারিত দামে সার পাওয়ার কথা কৃষকদের। কিন্তু অনেক জায়গাতেই নির্ধারিত দামে সার মিলছে না বলে অভিযোগ। দপ্তর সূত্রে খবর, মাসখানেক আগে নয়জন সার ব্যবসায়ীকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। পরে সাসপেনশন অর্ডার তুলে নেওয়া হয়। চলতি সপ্তাহে আরও তিনজন ব্যবসায়ীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে নানা অভিযোগ পেয়ে। বহু ব্যবসায়ীকে সতর্কও করা হয়েছে।