Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলার বাড়িতে অনিয়ম! শোকজ অফিসারদের

‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে অনিয়মের হদিশ পেল পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন। পাকা বাড়ি থাকার পর বেশকিছু পরিবারকে প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

বাংলার বাড়িতে অনিয়ম! শোকজ অফিসারদের
  • ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে অনিয়মের হদিশ পেল পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন। পাকা বাড়ি থাকার পর বেশকিছু পরিবারকে প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। যে অফিসাররা সুপার চেকিং করে তাদের নাম তালিকায় রেখেছিলেন, তাঁদের শোকজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সমীক্ষার পাশাপাশি যাঁরা সুপার চেকিংয়ের কাজ করেছেন, তাঁদেরও শোকজ করা হবে। ঠিকমতো জবাব পাওয়া না গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জেলাশাসক আয়েশা রানি এ বলেন, যাঁরা কাজে গাফিলতি করেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনও পাকা বাড়ির মালিক এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।

Advertisement

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমান-১ ব্লকে সবথেকে বেশি অনিয়ম ধরা পড়েছে। পুলিশে কর্মরত সদস্য রয়েছেন, এমন পরিবারও প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছে। কীভাবে তাঁদের নাম থেকে গেল, তা নিয়ে প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে। কোনও প্রভাবশালীর মদত রয়েছে কি না, সেটাও খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। সোমবার থেকেই আধিকারিকদের শোকজ নোটিশ দেওয়া শুরু হয়েছে। সুপার চেকিংয়ের জন্য তাঁরা আদৌ এলাকায় গিয়েছিলেন কি না, তা নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। বাংলার বাড়ি প্রকল্পে সুবিধা দেওয়ার আগে একাধিকবার চেকিং করার জন্য বলা হয়। প্রথমে ব্লকস্তরের কর্মী বা আধিকারিকরা চেকিং করেন। পরে মহকুমা স্তরের আধিকারিকরা চেকিং করেন। তারপরও কীভাবে দোতলা বাড়ির মালিকদের নাম তালিকায় থেকে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, জেলায় প্রথম ধাপে প্রথম কিস্তির টাকা পেয়েছিল ৭৯ হাজার ১০৪টি পরিবার। তার মধ্যে সময়ে কাজ শুরু না করার জন্য ২৪৪টি পরিবারের কাছ থেকে টাকা ফেরত নেওয়া হয়। বাড়ি তৈরির জন্য তাঁদের একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তারপরও তাঁরা কাজ শুরু না করায় টাকা ফেরত নেওয়া হয়। দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়া হয় ৭৭ হাজার ৮৩৬টি পরিবারকে। ৭৩ হাজার ৯১৬টি বাড়ি তৈরি হয়ে গিয়েছে। পরের ধাপে নতুনদের তালিকা তৈরি করা হয়। এক আধিকারিক বলেন, নতুনভাবে যাঁরা বাড়ির টাকা পাচ্ছেন, তাঁদের কাছ থেকে একশ্রেণির প্রভাবশালী টাকা হাতানোর চেষ্টা করছে। কেউ যাতে টাকা না দেয়, তার জন্য প্রতিটি এলাকায় নোটিশ বিলি করা হবে। কোনও প্রভাবশালী টাকা চাইলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাকা বাড়ির মালিকদের নাম বাদ দিয়ে আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলিকে সুবিধা দেওয়া হবে। উপভোক্তাদের নামের তালিকা আগেই তৈরি হয়েছিল। সেগুলি যাচাই করে প্রকৃত উপভোক্তা চিহ্নিত করতে বলা হয়। তারপরও জেলার কয়েকটি জায়গায় বিপত্তি হয়েছে।
জেলাশাসক বলেন, টাকা পাওয়ার পর উপভোক্তাদের বাড়ি তৈরি করতে হবে। এই টাকা অন্য কোনও কাজে ব্যয় করা যাবে না। বাড়ি তৈরি না করলে টাকা ফেরত নেওয়া হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ