তেহরান: ইরানের বিক্ষোভে ইন্ধন জুগিয়েছে আমেরিকা। শুরু থেকেই এমন দাবি করে এসেছে সেদেশের সরকার। এবার সেই দাবিতে সিলমোহর দিলেন আন্দোলনকারীরাই। ইরান ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক মন্তব্যে মোটেও খুশি হননি তাঁরা। আমেরিকার সুর নরম করাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সরাসরি ট্রাম্পকে দুষছেন বিক্ষোভকারীদের একাংশ।
গত ডিসেম্বর থেকে জ্বলছে ইরান। মূল্যবৃদ্ধিকে সামনে রেখে শুরু হওয়া বিক্ষোভ গনআন্দলনে পরিণত হয়। কড়া হাতে সেই বিক্ষোভ দমন করে ইরান প্রশাসন। শুরু হয় নির্বিচারে হত্যা। এই আবহে আসর নামেন ট্রাম্প। সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক পোস্টে ইরানের জনগণের প্রতি তাঁর সমর্থনের কথা জানান। একইসঙ্গে হুঁশিয়ারি দেন, অবিলম্বে হত্যালীলা বন্ধ না হলে চুপ করে বসে থাকবে না আমেরিকা। অবশ্য পরে আচমকা দু’পক্ষই সুর নরম করে পিছু হঠে। বন্দিদের ফাঁসি রদ করে ইরান বুঝিয়ে দেয় তারা যুদ্ধে জড়াতে রাজি নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্টও জানান, ইরান সরকার তাঁর কথা মেনেছে। তাই সামরিক অভিযানের প্রয়োজন নেই। আর এতেই অবাক হয়েছেন ইরানের বিক্ষভকারীরা। মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবেই চিহ্নিত করছেন অনেকে। তাদের দাবি, ‘ট্রাম্পের অভয়বাণী শুনে বহু মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন। কিন্তু এখন স্বয়ং ট্রাম্প নিজের অবস্থান বদলে নিলেন।’ তেহরানের এক ব্যবসায়ীর অভিযোগ, ‘১৫হাজার মৃত্যুর জন্য ট্রাম্পই দায়ী।’ উল্লেখ্য, স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী ইরানে অন্তত ১৫হাজার বিক্ষভকারীর মৃত্যু হয়েছে। একইসঙ্গে সামনে এসেছে আরও এক বিস্ফোরক দাবি। শোনা যাচ্ছে, বিক্ষোভ দমনে ইরাক থেকে অন্তত ৫০০০ জঙ্গিকে দেশে এনেছিলেন খামেনেই। ছদ্মবেশে তাঁরাই হত্যালীলা চালিয়েছেন। কারণ, শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করছেন এমন আন্দলনকারীদের খুন করতে চায়নি সে দেশের নিরাপত্তা রক্ষীদের একাংশ। তবে হঠাৎ করেই ইরান নিয়ে সুর বদল করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। খামেনেই শাসন ইতি টানার কথা বলেছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ইরানে ‘নতুন নেতৃত্বের সময় এসেছে’। এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, ‘প্রায় চার দশক ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই যে শাসন চালিয়ে যাচ্ছেন তা হিংসা, ভয় ও দমননীতির উপর দাঁড়িয়ে আছে। এই ধরনের নেতৃত্ব কোনো দেশের ভবিষ্যৎ গড়তে পারে না।’