Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

ভারতের জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে দিল ইরান, তেল-গ্যাসের আকাল কি এবার মিটবে? আশায় দেশবাসী

হামলার জবাবে অবরোধ! আমেরিকা ও ইজরায়েলের আক্রমণের মুখে এমনই নীতি নিয়েছিল ইরান। কার্যত অবরুদ্ধ করে দেওয়া হয় বিশ্বের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালী।

ভারতের জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে দিল ইরান, তেল-গ্যাসের আকাল কি এবার মিটবে? আশায় দেশবাসী
  • ২৭ মার্চ, ২০২৬ ০৮:০৩
Prefer us on Google

তেহরান ও নয়াদিল্লি: হামলার জবাবে অবরোধ! আমেরিকা ও ইজরায়েলের আক্রমণের মুখে এমনই নীতি নিয়েছিল ইরান। কার্যত অবরুদ্ধ করে দেওয়া হয় বিশ্বের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালী। তাতে জোর ধাক্কা খেয়েছিল গ্যাস ও তেলের সরবরাহ। সংকট-উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল ভারতেও। তবে তা দীর্ঘায়িত হল না। কারণ, অবশেষে ‘বন্ধু’ ভারতের জন্য এই জলপথ খুলে দিল ইরান। তবে শুধু ভারত নয়, তেহরানের এমন ‘বন্ধু’ তালিকায় রয়েছে রাশিয়া, চীন, ইরাক ও পাকিস্তানের নামও। কেবলমাত্র এই পাঁচটি দেশের জন্যই হরমুজ খুলে দেওয়ার কথা বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, হরমুজ জলপথ সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। আমাদের কিছু বন্ধু দেশের জন্য এই পথ খুলে দেওয়া হয়েছে। ভারত, চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান ও ইরাকের জাহাজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করছে। তবে শত্রু ও তাদের সহযোগী দেশের জন্য এই রুট বন্ধই থাকবে।

Advertisement

তাহলে কি এবার গ্যাস ও তেলের আকাল মিটবে? আশায় বুক বাঁধছে ভারতবাসী। ইরান যুদ্ধে অংশ নেয়নি ভারত। কিন্তু, পশ্চিম এশিয়ায় অশান্তির আঁচ সরাসরি এসে পড়েছে এদেশের আম আদমির জীবনে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস হরমুজ রুটেই সরবরাহ হয়। ভারতের মোট আমদানিকৃত জ্বালানির ৬০ শতাংশ আসে এই জলপথ ধরেই। আর তাই যুদ্ধ শুরু হতে না হতে রান্নার গ্যাসের দাম বেড়ে গিয়েছে ৬০ টাকা। তারপরও সিলিন্ডার পেতে সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে ভারতবাসীকে। বুকিংয়ের পর গ্যাসের জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে আম জনতাকে। রাজ্যে রাজ্যে একাধিক পেট্রল পাম্পে জ্বালানিও অমিল। ইরানের নয়া সিদ্ধান্তে জ্বালানি সরবরাহে অচলাবস্থা কাটবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অচলাবস্থা কাটাতে বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরেই চেষ্টা চালাচ্ছিল নয়াদিল্লি। অবশেষে সেই সমস্যার সমাধান হওয়াকে বড়ো কূটনৈতিক জয় হিসেবেই দেখছে বিদেশ মন্ত্রক। তবে যুদ্ধ পুরোপুরি থামেনি। ফলে দেশবাসীর আশাপূরণ হওয়া নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন থাকছেই।
হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ রাখাকে বড়োসড়ো কৌশলগত জয় হিসেবেই দেখছে ইরান। আমেরিকা ও ইজরায়েলকে কটাক্ষ করে এদিন সেদেশের বিদেশমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ওরা ভেবেছিল, ইরান কোনোভাবেই এই পথ বন্ধ করতে পারবে না। ওদের সাহস নেই। কিন্তু, আমরা ক্ষমতা দেখিয়ে দিয়েছি। ওরা সর্বশক্তি ব্যবহার করেও আটকাতে পারেনি। হরমুজ খুলতে সাহায্য করার জন্য অন্যান্য সহযোগী দেশকেও ডেকেছিল। কিন্তু, কেউ সাড়া দেয়নি।’ উলটে নিরাপদে তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য বহু দেশ বর্তমানে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। অন্যান্য কারণেও কয়েকটি জাহাজকে সুরক্ষিতভাবে হরমুজ পার করানোর কথাও এদিন জানিয়েছেন আরাঘচি।
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ থামাতে ইতিমধ্যে মধ্যস্থতা করছে তৃতীয় পক্ষ। যদিও এসংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে আরাঘচি এদিনও স্পষ্ট জানিয়েছেন, আমেরিকার সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না। বেশ কিছু দেশের বিদেশমন্ত্রীরা যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু, ইরান নিজের অবস্থান থেকে একটুও সরছে না। কারণ, আন্তর্জাতিক মহলকে ১০০ শতাংশ ভরসা করা সম্ভব নয়। 

সম্পর্কিত সংবাদ