নয়াদিল্লি: আমেরিকা এবং ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালী শিরোনামে উঠে এসেছে। গত সোমবারই ইরানের এক শীর্ষ কমান্ডার এই জলপথ বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছিলেন। এর পরেই বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা দেয়। এরই মধ্যে ১৮০ ডিগ্রি ভোলবদল তেহরানের। রাষ্ট্রসংঘে নিযুক্ত ইরানীয় মিশনের তরফে এদিন এক্স হ্যান্ডলে লেখা হয়েছে, ‘ইরানের তরফে হরমুজ বন্ধ করার যে খবর ছড়ানো হচ্ছে তা ভিত্তিহীন। ইরান বরাবরই আন্তর্জাতিক আইনকে সম্মান করে এসেছে। কিন্তু, বাস্তবে আমেরিকাই হল সেই দেশ যারা আইন ভেঙেছে।’ এরপরই সরাসর ‘ফ্রিগেট ডেনা’র প্রসঙ্গ তুলে ওই পোস্টে লেখা হয়েছে, একদিন আগেই ইরানীয় উপকূল থেকে ২ হাজার মাইল দূরে ভারত থেকে মহড়া সেরে ফেরা আমাদের যুদ্ধজাহাজকে কোনও সতর্কবার্তা না দিয়েই ধ্বংস করেছে মার্কিন ডুবোজাহাজ। এই বেপরোয়া আক্রমণ আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক কাঠামো ও জলপথে যাতায়াতের স্বাধীনতাকে আঘাত করেছে।
তেল ও গ্যাস—এই দুই ক্ষেত্রেই ভারত আমদানি নির্ভর। তাই হরমুজ বন্ধের জেরে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটলে দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা দেখা করছিল দিল্লি। কিন্তু এদিনের ঘটনাক্রম ভারতের জ্বালানি তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার সোনালি সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস জানিয়েছে, ‘আন্তর্জাতিক আইন এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রস্তাবনা মেনেই যুদ্ধের সময় হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজের আনাগোনার নিয়ন্ত্রণ ইরান নিজের হাতে রাখছে।’ মঙ্গলবারই নিজেদের সমর্থক দেশ হিসাবে চীনকে হরমুজ প্রণালীর ব্যবহারে উপর ছাড়পত্র দিয়েছিল ইরান।
ইরানের এই হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব অপরিসীম। পারস্য উপসাগর থেকে পণ্যবাহী জাহাজ শুধুমাত্র হরমুজ প্রণালী দিয়েই বেরতে হতে পারে। বিশ্বের মোট তৈল বাণিজ্যের এক-পঞ্চমাংশ হয় এই পথ দিয়েই। আবার দুবাইয়ের জেবেল আলি পোর্ট রয়েছে এই বাণিজ্য পথেই। বিশ্বের দশম বৃহত্তম এই কন্টেনার টার্মিনালে অন্তত ১২টি দেশের পণ্য আদানপ্রদান হয়ে থাকে।