নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: সস্তার জমি চড়া দামে কেনার অভিযোগ উঠেছে নাকাশিপাড়া দুবিনাগাধি কৃষি সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে। জমি কেনাকে কেন্দ্র করে লক্ষাধিক টাকার অনিয়ম সামনে এসেছে। শুধু তাই নয়, জমি কেনার প্রক্রিয়াও নাকি নিয়ম মেনে হয়নি। যা নিয়ে নাকাশিপাড়ায় ব্যাপক শোরগোল পড়েছে। অনিয়মের অভিযোগে উঠতেই প্রশাসনের অন্দরে তদন্ত শুরু হয়েছে। নাকাশিপাড়া ব্লকের সমবায় সমিতির ইনস্পেক্টরের তরফ থেকেও সংশ্লিষ্ট সমবায় সমিতিকে চিঠি করা হয়েছে। তদন্তের রিপোর্ট তৈরি করছে ব্লক প্রশাসন। খুব শিগগিরই তার রিপোর্টও জেলাস্তরে জমা পড়বে বলে জানা গিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, কেন কম দামের জমি বেশি দামে কেনা হল। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত জুলাই মাসের ৪ তারিখ নাকাশিপাড়া দুবিনাগাধি কৃষি সমবায় সমিতি বেশ কয়েকজন ব্যক্তির থেকে মোট ২২ ডেসিমেল অর্থাৎ ৯ হাজার ৫৮৩ বর্গ ফুট জমি কিনেছে। নাকাশিপাড়ার বিক্রমপুর পঞ্চায়েতের ভবানীপুরে এই জমি কেনা হয়েছে। আরিফ বিশ্বাসের থেকে ১০ ডেসিমেল, মমতাজ বেগমের থেকে ৫ ডেসিমেল, আমিনুল শেখের থেকে ৭ ডেসিমেল অর্থাৎ মোট ২২ ডেসিমেল জমি কেনা হয়েছে। প্রশাসনের ধারণা, এই জমির মূল্য খুব একটা বেশি নয়। কিন্তু ওই সমবায় সমিতি ৮৮ লক্ষ টাকা দিয়ে সেই জমি কিনেছে। এমনকী জমি কেনার প্রক্রিয়া সঠিক নয় বলে অভিযোগ উঠেছে। তা নিয়েও কয়েক সপ্তাহ আগে ওই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। মাইকিং করে অবৈধ ভাবে জমি কেনার বিষয়টি সামনে আনেন সাধারণ মানুষ। এমনকী অফিসাররা তদন্তের জন্য ওই সমিতিতে গেলে, সমিতি জমি কেনার সঠিক নথিপত্র দেখাতে পারেনি। গত ২১ জুলাই ব্লক ইনস্পেক্টরের তরফ থেকে সমবায় সমিতিকে নথিপত্র জমার নির্দেশ দেওয়া হয়। তাতে বলা হয়, জমি কেনা নিয়ে বোর্ড এবং এজিএমের অনুমতি পত্র দেখাতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জমির কত দাম হতে পারে, তার একটি সমীক্ষা রিপোর্টও জমা করতে বলা হয়েছিল। সেইসঙ্গে ২২ ডেসিমেল জমির সরকারি দাম কত, তাও জানাতে বলা হয়। সবমিলিয়ে মোট সাত রকমের নথি প্রশাসনের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছিল। সেই নিয়ে বিগত দুই সপ্তাহ ধরে তদন্ত চলছে। নাকাশিপাড়া ব্লকের সমবায় ইনস্পেক্টর সন্দীপ দাস বলেন, আমাদের কাছে জমি কেনা নিয়ে একটি অভিযোগ এসেছিল। সেইমতো আমরা তদন্ত শুরু করি। তদন্তে রিপোর্ট আমরা জেলা প্রশাসনের কাছে জমা দেব।



