Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কম দামের জমি কেনা হয়েছে বেশি দামে, নাকাশিপাড়ার দুবিনাগাধি সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ

সস্তার জমি চড়া দামে কেনার অভিযোগ উঠেছে নাকাশিপাড়া দুবিনাগাধি কৃষি সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে। জমি কেনাকে কেন্দ্র করে লক্ষাধিক টাকার অনিয়ম সামনে এসেছে।

কম দামের জমি কেনা হয়েছে বেশি দামে, নাকাশিপাড়ার দুবিনাগাধি সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ
  • ৪ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: সস্তার জমি চড়া দামে কেনার অভিযোগ উঠেছে নাকাশিপাড়া দুবিনাগাধি কৃষি সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে। জমি কেনাকে কেন্দ্র করে লক্ষাধিক টাকার অনিয়ম সামনে এসেছে। শুধু তাই নয়, জমি কেনার প্রক্রিয়াও নাকি নিয়ম মেনে হয়নি।‌ যা নিয়ে নাকাশিপাড়ায় ব্যাপক শোরগোল পড়েছে। অনিয়মের অভিযোগে উঠতেই প্রশাসনের অন্দরে তদন্ত শুরু হয়েছে‌। নাকাশিপাড়া ব্লকের সমবায় সমিতির ইনস্পেক্টরের তরফ থেকেও সংশ্লিষ্ট সমবায় সমিতিকে চিঠি করা হয়েছে। তদন্তের রিপোর্ট তৈরি করছে ব্লক প্রশাসন। খুব শিগগিরই তার রিপোর্টও জেলাস্তরে জমা পড়বে বলে জানা গিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, কেন কম দামের জমি বেশি দামে কেনা হল। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত জুলাই মাসের ৪ তারিখ নাকাশিপাড়া দুবিনাগাধি কৃষি সমবায় সমিতি বেশ কয়েকজন ব্যক্তির থেকে মোট ২২ ডেসিমেল অর্থাৎ ৯ হাজার ৫৮৩ বর্গ ফুট জমি কিনেছে। নাকাশিপাড়ার বিক্রমপুর পঞ্চায়েতের ভবানীপুরে এই জমি কেনা হয়েছে। আরিফ বিশ্বাসের থেকে ১০ ডেসিমেল, মমতাজ বেগমের থেকে ৫ ডেসিমেল, আমিনুল শেখের থেকে ৭ ডেসিমেল  অর্থাৎ মোট ২২ ডেসিমেল জমি কেনা হয়েছে। প্রশাসনের ধারণা, এই জমির মূল্য খুব একটা বেশি নয়।‌ কিন্তু ওই সমবায় সমিতি ৮৮ লক্ষ টাকা দিয়ে সেই জমি কিনেছে। এমনকী জমি কেনার প্রক্রিয়া সঠিক নয় বলে অভিযোগ উঠেছে। তা নিয়েও কয়েক সপ্তাহ আগে ওই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। মাইকিং করে অবৈধ ভাবে জমি কেনার বিষয়টি সামনে আনেন সাধারণ মানুষ।‌ এমনকী অফিসাররা তদন্তের জন্য ওই সমিতিতে গেলে, সমিতি জমি কেনার সঠিক নথিপত্র দেখাতে পারেনি। গত ২১ জুলাই ব্লক ইনস্পেক্টরের তরফ থেকে সমবায় সমিতিকে নথিপত্র জমার নির্দেশ দেওয়া হয়। তাতে বলা হয়, জমি কেনা নিয়ে বোর্ড এবং এজিএমের অনুমতি পত্র দেখাতে হবে।‌ পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জমির কত দাম হতে পারে, তার একটি সমীক্ষা রিপোর্টও জমা করতে বলা হয়েছিল। সেইসঙ্গে ২২ ডেসিমেল জমির সরকারি দাম কত, তাও জানাতে বলা হয়। সবমিলিয়ে মোট সাত রকমের নথি প্রশাসনের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছিল। সেই নিয়ে বিগত দুই সপ্তাহ ধরে তদন্ত চলছে। নাকাশিপাড়া ব্লকের সমবায় ইনস্পেক্টর সন্দীপ দাস বলেন, আমাদের কাছে জমি কেনা নিয়ে একটি অভিযোগ এসেছিল। সেইমতো আমরা তদন্ত শুরু করি। তদন্তে রিপোর্ট আমরা জেলা প্রশাসনের কাছে জমা দেব। 

Advertisement

নদীয়া জেলার সমবায় আধিকারিক সজল রায় বলেন, কমদামের জমি বেশি দামে কেনা নিয়ে দুবিনাগাধি কৃষি সমবায়ের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ আসে। তৎক্ষণাৎ আমরা তদন্তের নির্দেশ দিই। আজ সোমবার ব্লক প্রশাসনের তরফ থেকে সেই নিয়ে রিপোর্ট দেওয়া হবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নদীয়া জেলা পরিষদের কৃষি ও সমবায় কর্মাধ্যক্ষ সিরাজ শেখ বলেন, এলাকার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আমি বিষয়টি শুনেছিলাম। প্রশাসন তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নিক। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ