Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আন্তর্জাতিক নারী পাচার চক্র: চাঁইদের সন্ধানে বনগাঁয় এনআইএ, আটক দুই

নারী পাচারের এক আন্তর্জাতিক চক্রের চাঁইদের খোঁজে শনিবার ভোরে বনগাঁ মহকুমার দুই প্রান্তে হানা দেয় ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)।

আন্তর্জাতিক নারী পাচার চক্র: চাঁইদের  সন্ধানে বনগাঁয় এনআইএ, আটক দুই
  • ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও সংবাদদাতা, বনগাঁ: নারী পাচারের এক আন্তর্জাতিক চক্রের চাঁইদের খোঁজে শনিবার ভোরে বনগাঁ মহকুমার দুই প্রান্তে হানা দেয় ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে বনগাঁর পেট্রাপোল সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা এক মানি এক্সচেঞ্জারের বাড়ি ও ব্যবসা কেন্দ্র এবং গাইঘাটার ডিঙা মানিক এলাকায় এক কাপড়ের ব্যবসায়ীর বাড়িতে খানাতল্লাশিতে রাজ্য পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে যান এনআইএ’র আধিকারিকরা। মানি এক্সচেঞ্জার আমির আলি শেখ এবং কাপড়ের ব্যবসায়ী অমলকৃষ্ণ মণ্ডলকে দীর্ঘ জেরা ও কাগজপত্র খতিয়ে দেখার পর পেট্রাপোল থানায় নিয়ে আসা হয়। সেখানে টানা জেরার পর দু’জনকে আটক করে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় ওড়িশা থেকে আসা এনআইএ’র টিম। এদিনের অভিযান পর্বে বিস্তর নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। 

Advertisement

এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছরের ৯ নভেম্বর ওড়িশার কটক শহরের লিঙ্ক রোড এলাকায় উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাঘুরির সময় ১৭ বছরের এক নাবালিকাকে উদ্ধার করে স্থানীয় মধুপাটনা থানার পুলিশ। তদন্তে নেমে পুলিশ জানাতে পারে, নাবালিকার বাড়ি বাংলাদেশের টাঙ্গাইলের গোপালপুরে।  ফেসবুকে পরিচয় হওয়া এক ভারতীয় ব্যক্তি তাকে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে চোরাপথে বেনাপোল সীমান্ত পার করিয়ে এপারে নিয়ে আসে। বিক্রি করা হয় তাকে। এরপর ভুবনেশ্বরের এক পার্লারে জোর করে দেহব্যবসায় নামানো হয়। কলকাতা থেকে তাকে কে বা কারা ভুবনেশ্বরে নিয়ে এসেছিল আর কারাই বা জোর করে তাকে নোংরা কাজে নামতে বাধ্য করেছে, তার বিস্তারিত তথ্য পুলিশকে দেয় ওই নাবালিকা। ওই সময় গ্রেফতার করা হয় রাজস্থানের এক দম্পতিকে। এই পাপ কারবারের মেন্টর তারাই। ওই সূত্রটি জানিয়েছে, নারী পাচার এই চক্রের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগ থাকায় মামলার তদন্তভার নেয় এনআইএ। জানা যায়, বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশি নাবালিকাদের চোরাপথে নিয়ে আসে এই চক্রের স্থানীয় এজেন্টরা। ওড়িশা ছাড়াও তেলেঙ্গানা, কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র ও দিল্লিতে পাপ ব্যবসায় নামানো হয় ওই নাবালিকাদের। এমনকী বেশ কয়েকজনকে এখান থেকে ভারতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট বানিয়ে হংকং, থাইল্যান্ড, দুবাইয়ে মোটা টাকার বিনিময়ে পাচার করেছে ওই চক্র। 
এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, নারী পাচার চক্রের উৎস সন্ধানে গত জানুয়ারি মাসের ২২ তারিখ গঞ্জাম ও ভুবনেশ্বরের আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের জেরা করেই বনগাঁর এজেন্ট ও পাচারের অর্থ হাওলার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দিচ্ছে এমন কয়েকজনের নাম মেলে। তাদের সন্ধানেই এদিন পেট্রাপোল ও গাইঘাটায় হানা দিয়েছিল এনআইএ’র ওড়িশা ইউনিট। এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, পেট্রাপোল সীমান্তের মানি এক্সচেঞ্জার আমির আলি শেখের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ এসেছে। এ সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক ভাবে আধিকারিকদের সন্দেহ, যে ব্যক্তি ফেসবুকের মাধ্যমে বাংলাদেশি কিশোরী-তরুণীদের চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফুঁসলিয়ে ভারতে নিয়ে আসছে, সে আর কেউ নয়, গাইঘাটার ডিঙা মানিক এলাকার অমলকৃষ্ণই। এই দু’জনের বাড়ি ও ব্যবসাস্থল ছাড়াও এনআইএ টিম হানা দিয়েছিল আমির আলির ভগ্নিপতি নজরুল সরদারে দোকানেও।   

সম্পর্কিত সংবাদ