Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বহরমপুরে গৃহযুদ্ধে বেসামাল বিজেপি, ছেঁড়া হল অফিস নির্মাণে দাতাদের তালিকা

দলের মধ্যে ঠোকাঠুকি লেগেই ছিল। বৃহস্পতিবার সেটা প্রকাশ্যে এল একেবারে নগ্নভাবে। বিজেপির প্রাক্তন সভাপতির ডাকা সাংবাদিক বৈঠক ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা করে দলেরই একটা অংশ।

বহরমপুরে গৃহযুদ্ধে বেসামাল বিজেপি, ছেঁড়া হল অফিস নির্মাণে দাতাদের তালিকা
  • ১৮ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: দলের মধ্যে ঠোকাঠুকি লেগেই ছিল। বৃহস্পতিবার সেটা প্রকাশ্যে এল একেবারে নগ্নভাবে। বিজেপির প্রাক্তন সভাপতির ডাকা সাংবাদিক বৈঠক ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা করে দলেরই একটা অংশ। অন্যদিকে, পার্টি অফিস নির্মাণে অনুদানকারী দলীয় নেতা-কর্মীদের তালিকা ফালাফালা করে দেওয়া বলেও অভিযোগ। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের এমন জোড়া ঘটনায় বেকায়দায় মুর্শিদাবাদ জেলা বিজেপি। বছর ঘুরলেই বিধানসভা ভোট। তার আগে এই নজিরবিহীন ‘গৃহযুদ্ধ’ বেশ ভাবাচ্ছে গেরুয়া শিবিরকে।  

Advertisement

এদিন বহরমপুর সাংগঠনিক বিজেপির জেলা কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক ডেকেছিলেন প্রাক্তন সভাপতি শাখারভ সরকার। তা নিয়েই চরম দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। নির্দিষ্ট সময়ে পার্টি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, শাখারভের সাংবাদিক বৈঠকে এক্তিয়ার নিয়ে দলীয় কর্মীদের একাংশ টিপ্পনি কাটতে শুরু করেন। কানঘুষো তাঁরা বলতে থাকেন, সভাপতি না হয়েও কোন ক্ষমতার বলে জেলা পার্টি অফিসে সাংবাদিক সম্মেলন ডাকলেন শাখারভ? কার নির্দেশে  তিনি এই কাজ করলেন?শাখারভ ঢুকতেই আগুনে ঘি পড়ে। বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদিকা অনামিকা ঘোষ ও সম্পাদক লাল্টু দাসরা সরাসরি জানতে চান, এটা কেন হচ্ছে? জেলা সভাপতির আসনে বসে সাংবাদিক সম্মেলনের অনুমতি দিয়েছেন কে? জবাবে শাখারভ বলেন, ‘যথাস্থান থেকে অনুমতি নিয়ে আজকে সাংবাদিক সম্মেলন ডাকা হয়েছে।’ পরে তিনি সাংবাদিক সম্মেলন নিজের মতো করে চালিয়ে গেলেও উপস্থিত দলীয় কর্মীদের একাংশের উৎসাহ নজরে পড়েনি। সম্মেলনে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন শাখারভ। 
বহরমপুরের গেরুয়া রাজনীতিতে অনামিকা, লাল্টুরা বর্তমান সভাপতি মলয় মহাজনের অনুগামী বলেই পরিচিত। সেই কারণেই শাখারভে তাঁদের অ্যালার্জি বলে রাজনৈতিক মহলের মত। কিন্তু এভাবে প্রকাশ্যে দলের এক নেতার সাংবাদিক বৈঠক নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন, তা নজিরবিহীন বলেই মনে করা হচ্ছে। মলয়বাবু অবশ্য বলেছেন, ‘আমাকে উনি (শাখারভ) সাংবাদিক সম্মেলনের বিষয়ে বলেছিলেন। আমি বলেছিলাম, আপনি যেটা ভালো বুঝবেন, করবেন। পাশাপাশি এটাই জানিয়েছিলেন উনি নাকি কলকাতার নেতাদের অনুমতি নিয়ে প্রেসকে ডেকেছেন।’ 
যাইহোক, প্রাথমিক ধাক্কা সামলে শাখারভ সাংবাদিক বৈঠকে মনোনিবেশ করেন। বলতে থাকেন—‘বাংলাদেশের অনুপ্রবেশকারীরা যেভাবে এখানে ঢুকে বাসিন্দা হয়ে যাচ্ছে, সেটা উদ্বেগের। অনায়াসে ভোটার তালিকায় নাম তুলছে ওরা। জলঙ্গি ও সাগরপাড়া এলাকায় এইরকম বহু ভোটার রয়েছে। প্রশাসনকে জানানোর পর তারা বুথ লেভেল অফিসারের ঘাড়ে দায় চাপাচ্ছে। আমার অনুমান, ২২টি বিধানসভায় প্রায় ২ লক্ষ ৪৩ হাজার বাংলাদেশি ভোটার রয়েছে।’ 
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, শাখারভ দলের ইস্যুভিত্তিক বক্তব্য রাখলেও তা শোনার বিন্দুমাত্র আগ্রহ ছিল না বিজেপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের। সম্মেলন চলাকালীন তাঁরা বলতে থাকেন, শাখারভদা রাজ্যে চলে যাবেন। আমাদের পার্টিতে সর্বাধিক গুরুত্ব পায় সভাপতি। জেলা সভাপতিকে নিয়ে আমাদের থাকতে হবে। তাই উনি কেন এখানে এসে সাংবাদিক সম্মেলন করে আমাদের বিপদে ফেলছেন, বুঝলাম না।
এদিকে, বহরমপুর শহরে একটি নতুন পার্টি অফিস গড়ে তুলছে বিজেপি। নির্মাণকাজে অনুদান দিচ্ছেনে দলের নেতা-কর্মীরা। কে, কত টাকা দিয়েছেন, তার একটি তালিকা কে বা কারা জেলা অফিসে টাঙিয়ে দিয়েছিলেন। এতদিন পার্টি অফিস নিজের খরচেই তৈরি করছেন বলে দাবি করে আসছিলেন প্রাক্তন সভাপতি। এদিন তালিকা প্রকাশ হতেই গেরুয়া শিবিরের অন্দরে উত্তাল পরিস্থিতির তৈরি হয়। আচমকা সেই তালিকা কর্মীদের একাংশ ছিঁড়ে দেয়। এনিয়ে শাখারভের ব্যাখ্যা, ‘কারা কি উদ্দেশ্যে কিসের তালিকা টাঙিয়েছে, তা আমার জানা নেই।’ অনামিকা অবশ্য বলেন, ‘কী কারণে ওই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল জানি না। তবে, আমাদের একজন কার্যকর্তা সেটা ছিঁড়ে দিয়েছেন। সবার অনুদানে পার্টি অফিস গড়ে উঠছে, এতে অন্যায়ের কিছু নেই।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ