Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

নজরে গ্রাহকের সুদ বৃদ্ধি, পিএফের টাকা লগ্নির নিয়ম বদলানোর প্রস্তাব

দেশে পিএফের সুবিধা পান প্রায় আট কোটি মানুষ। তাঁদের বেতন থেকে যে টাকা কেটে নিয়ে জমা করা হয় পিএফ খাতে, তা বিভিন্ন বন্ড ও শেয়ারবাজারে খাটানো হয়।

নজরে গ্রাহকের সুদ বৃদ্ধি, পিএফের  টাকা লগ্নির নিয়ম বদলানোর প্রস্তাব
  • ২০ অক্টোবর, ২০২৫ ১৭:১০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দেশে পিএফের সুবিধা পান প্রায় আট কোটি মানুষ। তাঁদের বেতন থেকে যে টাকা কেটে নিয়ে জমা করা হয় পিএফ খাতে, তা বিভিন্ন বন্ড ও শেয়ারবাজারে খাটানো হয়। তা থেকে যে লাভ পাওয়া যায়, তার একটি অংশ সুদ হিসেবে পান গ্রাহকরা। সম্প্রতি এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন বা ইপিএফও স্বীকার করে নিয়েছে, যে ফর্মুলায় সাধারণ গ্রাহকের সঞ্চিত টাকা বাজারে খাটানো হয়, সেখানেই খামতি থেকে যাচ্ছে। অর্থাৎ ‘ভুল’ জায়গায় টাকা খাটানোর খেসারত দিতে হচ্ছে কোটি কোটি গ্রাহককে। এবার সেই নিয়ম পরিবর্তনের জন্য উদ্যোগ শুরু হল। পিএফে জমা হওয়া টাকা কোথায় কোথায় বিনিয়োগ করা হবে, সেই হিসেব ঢেলে সাজার প্রস্তাব পাশ হয়েছে পিএফের কেন্দ্রীয় অছি পরিষদের বৈঠকে। পরবর্তী ধাপে শ্রমমন্ত্রক এই বিষয়ে ছাড়পত্রও দিয়েছে। সূত্রের খবর, বর্তমানে চূড়ান্ত ছাড়পত্রের জন্য অর্থমন্ত্রকে পাঠানো হয়েছে প্রস্তাবটি। 

Advertisement

ইপিএফও’র নিয়ম অনুযায়ী গ্রাহকের থেকে যে টাকা নেওয়া হয়, তার সর্বনিম্ন ২০ শতাংশ খাটানোর কথা কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার তরফে বাজারে ছাড়া বন্ডে। এখানে লগ্নির সর্বোচ্চ সীমা ৪৫ শতাংশ। বাস্তবে দেখা যায়, ৪৫ শতাংশ দূর-অস্ত, ২০ শতাংশ টাকা খাটানোর মতো বন্ডই বাজারে মেলে না। ফলে ওই টাকা কোথায় বিনিয়োগ হবে, তার জন্য হন্যে হয়ে বন্ড খুঁজতে হয় লগ্নিতে সাহায্যকারী সংস্থা বা পোর্টফোলিও ম্যানেজারদের। যদিও বা বন্ড মেলে, তার সুদের হার অনেক কম। তাই কেন্দ্রীয় অছি পরিষদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, এক্ষেত্রে ন্যূনতম ২০ শতাংশ লগ্নির পরিবর্তে তা ১০ শতাংশে নামানো হবে। এর ফলে গভর্নমেন্ট সিকিউরিটিজ বা সরকারি লগ্নিপত্রে আরও বেশি করে বিনিয়োগের রাস্তা খুলবে। এখন যেখানে সরকারি লগ্নিপত্রে সর্বোচ্চ ৬৫ শতাংশ লগ্নি করা যেত, তা বাড়িয়ে উর্ধ্বসীমা ৭৫ শতাংশ করা হবে। এর ফলে সাধারণ গ্রাহকের লগ্নি থেকে বেশি টাকা রিটার্ন আসবে।
কেন্দ্রীয় অছি পরিষদের সদস্য এবং টিউসিসি’র সাধারণ সম্পাদক এস পি তিওয়ারি বলেন, ‘এর আগের বৈঠকে আমরা দাবি জানিয়েছিলাম, ইটিএফে (এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড) বিনিয়োগের হার বাড়ানো হোক। কারণ, শেয়ার বাজারের লগ্নিতেই সবচেয়ে বেশি রিটার্ন আসে। যদি সেই হার বাড়ে, তাহলে ৮.৫ শতাংশ পর্যন্ত সুদ পাওয়া সম্ভব হবে গ্রাহকদের। চলতি মাসে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত অছি পরিষদের শেষ বৈঠকে আমাদের জানানো হয়েছে, এই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে অর্থমন্ত্রকে। সেখান থেকে সবুজ সংকেত এলেই লগ্নির হিসেবের পরিবর্তন সম্ভব হবে। আশা করি, খুব তাড়াতাড়ি আমরা এ বিষয়ে সদর্থক ফলাফল পাব।’

সম্পর্কিত সংবাদ