Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পড়াশোনায় আগ্রহ কমছে, ভরতপুরের গ্রন্থাগারে সদস্য হাজার থেকে কমে ১০৯

একসময় পড়ুয়া থেকে এলাকার শিল্পী সাহিত্যিকদের আড্ডাখানা ছিল এটি। সপ্তাহের ছয়দিন খোলা রাখতে হত এই পাঠাগার।

পড়াশোনায় আগ্রহ কমছে, ভরতপুরের গ্রন্থাগারে সদস্য হাজার থেকে কমে ১০৯
  • ১২ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: একসময় পড়ুয়া থেকে এলাকার শিল্পী সাহিত্যিকদের আড্ডাখানা ছিল এটি। সপ্তাহের ছয়দিন খোলা রাখতে হত এই পাঠাগার। তবে সম্প্রতি সেই ছবি পুরোপুরি বদলে গিয়েছে। ভরতপুর ১ ব্লকের সিজগ্রাম পাবলিক লাইব্রেরির নতুন ভবন তৈরি হলেও সেখানে সদস্য সংখ্যা তলানিতে ঠেকেছে। কয়েক হাজার সদস্য থেকে বর্তমান সেই সংখ্যা মাত্র ১০৯ জন।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৬৪  সালে ওই পাঠাগারের জন্য জমিদান করা হয়েছিল। এরপর আশির দশকে সেখানে তৈরি হয় পাঠাগার। গ্রন্থাগার তৈরির পর সেটি বাসিন্দাদের কাছে প্রধান বিনোদন হয়ে দাঁড়ায়। বই সংগ্রহের জন্য এক সময় সদস্যদের লম্বা লাইনও দিতে দেখা গিয়েছে। সন্ধ্যার পরেও এই পাঠাগারে চলত শিল্পী, সাহিত্যিকদের আড্ডা। বছর দুয়েক আগে গ্রন্থাগারের পুরনো ভবনের পাশেই তৈরি হয়েছে নয়া ভবন। সেখানে রয়েছেন একজন অ্যাসিটেন্ট লাইব্রেরিয়ান। তবে লাইব্রেরিয়ান এখানে সপ্তাহে মাত্র একদিনই আসেন বলে দাবি।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, তিনবছর আগেও এই গ্রন্থাগারে হাজারের উপর সদস্য ছিল। কিন্তু অনিয়মিত গ্রন্থাগার খোলা ও বন্ধের কারণে সদস্য সংখ্যা কমতে থাকে। তার উপর ভাল বইয়েরও আকাল দেখা দিয়েছে। তাই এখন আর তেমন কাউকে গ্রন্থাগারে যেতেও দেখা যায় না বলে দাবি।
এদিকে গ্রন্থাগারের পরিচালন কমিটিও সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টায় হাল ছেড়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ। বর্তমানে এই পাঠাগারে সদস্য সংখ্যা মাত্র ১০৯জন। পরিচালন কমিটির সম্পাদক সৈয়দ রফিকুল হাসান বলেন, বইয়ের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমেছে। তাই সদস্য সংখ্যাও কমে গিয়েছে। কী আর করব, মোবাইলের যুগে বইয়ের প্রতি আর আগের মতো আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। তবে চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে সদস্য কিছুটা বাড়ানো যায়।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ওই পাঠাগারে তো কোনও বই-ই পাওয়া যায় না। তাই বাড়ির ছেলেদের গ্রন্থাগারের প্রতি টান থাকলেও কিছু করার থাকছে না। তার উপর লাইব্রেরিয়ান তো সপ্তাহে মাত্র একদিন আসেন। সঠিক সময়ে নিয়মিত গ্রন্থাগার খোলাও হয় না।  এবিষয়ে গ্রন্থাগারিক ধ্রুবজ্যোতি ঘোষ বলেন, সিজগ্রাম পাবলিক লাইব্রেরিতে ডেপুটেশনে রাখা হয়েছে আমাকে। সপ্তাহে দু’দিন ওখানে যেতে হয়। তবে অনেক সময় শনিবার ছুটির দিন থাকায় যেতে পারি না। তবে মঙ্গলবার অবশ্যই উপস্থিত থাকি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ