Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিজেপির উপপ্রধান এবং পঞ্চায়েত সদস্যের মধ্যে জোর ‘ঠান্ডা লড়াই’

হাঁসখালিতে বিজেপির অন্দরে শুরু হয়েছে জোর ‹ঠান্ডা লড়াই›।

বিজেপির উপপ্রধান এবং পঞ্চায়েত সদস্যের মধ্যে জোর ‘ঠান্ডা লড়াই’
  • ১৯ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: হাঁসখালিতে বিজেপির অন্দরে শুরু হয়েছে জোর ‹ঠান্ডা লড়াই›। প্রয়াত প্রধানের কুর্সি কার দখলে যাবে, তা নিয়ে চলছে বর্তমান উপপ্রধান এবং দলীয় এক সদস্যের মধ্যে রেষারেষি। উভয়পক্ষই নিজের দিকে সমর্থন বেশি বলে দাবি করলেও শেষমেষ কী ‹কিং মেকার› হবে বিরোধী তৃণমূল? সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না স্থানীয় রাজনৈতিক মহল।

Advertisement

প্রসঙ্গত, গত ১ জুন কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে সভা করতে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা অমিত শাহ। সেই সভায় যোগ দিতে দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কলকাতায় গিয়েছিলেন হাঁসখালি ব্লকের ময়ূরহাট ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান দীপঙ্কর দাস। যদিও সভার মাঝেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও আর বাঁচানো যায়নি তাঁকে। তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুতে শূন্য হয়েছে ময়ূরহাট-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের কুর্সি। আর সেই কুর্সির দখল নিতেই আড়াআড়ি ভেঙে ময়দানে নেমে পড়েছে বিজেপিরই দু›পক্ষ। এর মধ্যে প্রথমজন বর্তমান উপপ্রধান চায়না সরকার এবং অন্যজন দলীয় পঞ্চায়েত সদস্য সমরেন্দ্র বিশ্বাস। 
বিজেপি সূত্রের খবর, দু’জনই দলের নির্দেশ চূড়ান্ত বলে দাবি করলেও ভিতরে শুরু হয়েছে দু›পক্ষের মধ্যে ‘ঠান্ডা লড়াই’। আর তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে দু›পক্ষের বক্তব্যেই। উপপ্রধানের স্বামী জন্মেঞ্জয় সরকার বলেন, সমরেন্দ্রবাবুর প্রতি দলের কারও কোনও সমর্থন নেই। আমাদের দিকে সাত জন রয়েছেন। তাছাড়া উনি দলে নতুন এসেছেন। আগে সিপিএম করতেন। অনেকে ওঁকে এখনও চেনেন না। ওঁর একটি মুদিখানা দোকান রয়েছে। ক্রেতারা ছাড়া ওঁকে আর কেউ চেনেন না। দলের বিধায়ক থেকে নেতৃত্ব প্রত্যেকেই আমাদের সমর্থন করার কথা জানিয়েছেন। 
পাল্টা সমরেন্দ্রবাবু বলেন, উনি অনেক কিছুই দাবি করতে পারেন। কিন্তু, আমি সদস্যদের থেকে সহযোগিতার আশ্বাস পেয়েই প্রধান হওয়ার আশা রাখছি। তবে, আমি দলের অনুগত সৈনিক। দলের উপর আশা রাখছি। জন্মেজয়বাবু তাঁকে বিজেপিতে নতুন বলে দাবি করার জবাবও দিয়েছেন সমরেন্দ্রবাবু। তিনি বলেন, জন্মেজয়বাবুও আদি নন। উনি তৃণমূল থেকে বিজেপিতে এসেছেন। তবে আমরা দু’জনই দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে মেনে নেব।
যদিও নদীয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি অপর্ণা নন্দী বলেন, প্রধান পদ নিয়ে দ্বন্দ্বের ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। দল যাকে চাইবে তিনিই প্রধান হবেন। 
তৃণমূল অবশ্য বিজেপির এই ‹ঠান্ডা লড়াই› নজরে রাখছে। কারণ ‹কিং মেকার› হওয়ার সুযোগ রয়েছে তাদের কাছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতা প্রমথরঞ্জন বোস বলেন, আমরা দলীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব। আপাতত বিষয়টি নজরে রাখছি।  
এবিষয়ে, হাঁসখালি ব্লকের বিডিও সায়ন্তন ভট্টাচার্য বলেন, রাজনৈতিক ব্যাপার কী হবে তা নিয়ে আমার কোনও মন্তব্য নেই। ২৪ জুন পঞ্চায়েতে প্রধান পদের নির্বাচন। যিনি বেশি ভোট পাবেন তাঁকেই প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ