Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সুব্রতর মরদেহ নামাতে দেড় কোটি টাকা চাইল বিমা সংস্থা

এভারেস্ট শৃঙ্গ জয় করে নেমে আসার পথে হিলারি স্টেপে (উচ্চতা প্রায় ৮,৭৯০ মিটার) প্রাণ হারিয়েছেন রানাঘাটের স্কুল শিক্ষক সুব্রত ঘোষ।

সুব্রতর মরদেহ নামাতে দেড় কোটি টাকা চাইল বিমা সংস্থা
  • ২১ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও রানাঘাট: এভারেস্ট শৃঙ্গ জয় করে নেমে আসার পথে হিলারি স্টেপে (উচ্চতা প্রায় ৮,৭৯০ মিটার) প্রাণ হারিয়েছেন রানাঘাটের স্কুল শিক্ষক সুব্রত ঘোষ। গত শুক্রবার এই খবর এসে পৌঁছতেই এক লহমায় বদলে যায় সুব্রতবাবুদের বাড়ির পরিবেশ। সাফল্য উদযাপনের তোড়জোড় থেমে গিয়ে শুরু হয় কান্নার রোল। প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে এখন সুব্রতবাবুর দেহ নামিয়ে আনার উদ্যোগ নিচ্ছে পরিবার। তাঁর দাদা সুরজিৎ ঘোষ সেই কারণেই এখন নেপালের কাঠমাণ্ডুতে রয়েছেন। কিন্তু যত সময় যাচ্ছে, দেহ নামিয়ে আনার সম্ভাবনা ততই কমছে। কারণ, যে উচ্চতায় দেহ রয়েছে, সেখান থেকে নামিয়ে আনার জন্য নেপালের পেশাদার সংস্থা প্রায় দেড় কোটি টাকা দাবি করছে বলে জানান সুরজিৎবাবু। সংশ্লিষ্ট মাউন্টেনিয়ারিং সংস্থা ‘স্নোয়ি হরাইজন’-এর অন্যতম কর্তা বোধরাজ ভাণ্ডারী বলেন, ‘দেহ নামিয়ে আনা আমাদের দায়িত্ব নয়। সংশ্লিষ্ট বিমা সংস্থা ভারতীয় দূতাবাস এবং উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে কথা বলে প্রায় দেড় কোটি টাকা খরচের কথা জানিয়েছে।’ প্রসঙ্গত, এই ধরনের অভিযানে যাওয়ার আগে অভিযাত্রীরা সাধারণত বিমা করে যান। সূত্রের খবর, সুব্রতবাবুরও সেরকম একটি বিমা করা ছিল। কোনও কারণে অভিযাত্রীর মৃত্যু হলে দেহ নামিয়ে আনার ব্যবস্থা তাদেরই করার কথা। সূত্রের খবর, এক্ষেত্রে বিমা সংস্থাটি দাবি করেছে, তারা দেহ বেস ক্যাম্প থেকে নামানোর দায় নিতে পারে। এত উঁচু থেকে নামানোর খরচ অনেক বেশি। 

Advertisement

সুরজিৎবাবু জানান, তাঁরা প্রতি মুহূর্তে যোগাযোগ রাখছেন নেপালে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে। উদ্ধারের কাজে দক্ষ নেপালি পেশাদার সংস্থাগুলি কার্যত হাত তুলে নিয়েছে। এই অবস্থায় রাজ্য সরকারের কোনও উদ্যোগ বা তৎপরতা শুরু হলে আশার আলো দেখা যেতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা। এভারেস্টজয়ী বিশেষজ্ঞরাও একই কথা বলছেন। ইন্ডিয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ফাউন্ডেশন (ইস্ট জোন)-এর চেয়ারম্যান তথা এভারেস্টজয়ী দেররাজ দত্তের সঙ্গে সুব্রতবাবুর পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছরে এভারেস্ট অভিযানে গিয়ে প্রাণ হারানো একাধিক পর্বতারোহীর দেহ নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে সরকারি উদ্যোগে। দেহ এক বছর পর ফিরিয়ে আনার উদাহরণও রয়েছে। তবে সেই দেহগুলি কোনওটাই এত বেশি উচ্চতায় ছিল না। এখন বিমা কোম্পানি পুরো ৫০ লক্ষ টাকা দিলেও আরও টাকা প্রয়োজন। তাই রাজ্য সরকারের কোনও প্রতিনিধি নেপালে গিয়ে ভারতীয় দূতাবাস, সংশ্লিষ্ট মাউন্টেনিয়ারিং এজেন্সি, বিমা এজেন্সির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করলে কোনও সদর্থক পদক্ষেপ হতে পারে। আপাতত সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।’
আরেক এভারেস্টজয়ী দেবব্রত মুখোপাধ্যায়ের পরামর্শ, ‘এই ধরনের অভিযানে যাওয়ার আগে অভিযাত্রীরা যে বিমা করছেন, তার আবশ্যিক শর্ত হওয়া উচিত, মৃত্যু হলে দেহ যেখানে থাকুক না কেন, নামিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে তাদের। তা না হলে বারবার সরকারের পক্ষে এই বিপুল খরচ সম্ভব নয় বলেই মনে হয়।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ