হাসপাতালের অন্যায্য বিলে লাগাম টানার দাবি করলেন বিমা এজেন্টরা
  • ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশবাসীকে বিমার আওতায় আনতে চায় মোদি সরকার। তার জন্য যে ব্লু প্রিন্ট সামনে আনা হয়েছে, তা নিয়ে বিমা এজেন্টদের তরফে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে দেশজুড়ে। অভিযোগ, নতুন নিয়মে তাঁদের কমিশনে মারাত্মক কোপ পড়বে। এই পেশা ছেড়ে চলে যাবেন এজেন্টদের একটা বড়ো অংশ। এই ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন এজেন্টরা। তাঁদের বক্তব্য, বিমা সংস্থাগুলির খরচ কমানোর অজুহাত হিসাবে টার্গেট করা হচ্ছে তাঁদের কমিশনকেই। অথচ বেসরকারি হাসপাতাল বা নার্সিংহোমগুলি যেভাবে অতিরিক্ত বিল করে বিমা সংস্থার থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে, সেদিকে নজর নেই। সেখানে লাগাম টানলেই বিমা সংস্থার খরচ কমবে, মতামত তাঁদের।    

Advertisement

বিমা নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ আইআরডিএআই সম্প্রতি প্রস্তাব দিয়েছে, সমস্ত বিমা সংস্থাকে দুবছরের মধ্যে পরিচালন খরচ ২৫ শতাংশে এবং পাঁচবছরের মধ্যে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে। পাশাপাশি এজেন্টদের সর্বোচ্চ কমিশনের সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সর্বনিম্ন কত কমিশন দিতে হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা রাখা হয়নি। দেশের ১৬ লক্ষ সাধারণ বিমা এজেন্টের সর্বভারতীয় সংগঠন কনফেডারেশন অব জেনারেল ইনশিয়োরেন্স এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনস অব ইন্ডিয়ার দাবি, এই নিয়ম চালু হলে এজেন্টদের আয় প্রায় বন্ধ হয়ে যাবে, বিমা সংস্থার বহু শাখা বন্ধ হয়ে যাবে এবং শেষপর্যন্ত ভোগান্তি বাড়বে সাধারণ বিমা গ্রাহকদের। 
সংগঠনের কর্তাদের কথায়,  সাধারণ বিমা এজেন্ট গড়ে মাত্র ১২ থেকে ১৩ শতাংশ কমিশন পান। তার মধ্যে থেকেই তাঁকে গ্রামেগঞ্জে ঘুরে বিমা করা, গ্রাহককে পরিষেবা দেওয়া, দুর্ঘটনা বা হাসপাতালে ভরতির সময় ক্লেমের কাগজপত্র নিয়ে দৌড়ঝাঁপ সামলাতে হয়। তাঁদের মতে, খরচ কমানোর কঠোর নিয়ম সবচেয়ে বেশি আঘাত করবে রাষ্ট্রায়ত্ত এবং ছোটো ও মাঝারি বিমা সংস্থাগুলিকে। খরচ কমাতে তারা আধা শহর ও গ্রামের শাখা বন্ধ করে দেবে। ফলে বাজারে হাতেগোনা কয়েকটি বড়ো বেসরকারি সংস্থার একচেটিয়া কারবার তৈরি হবে। প্রতিযোগিতা কমবে, প্রিমিয়াম বাড়বে এবং গ্রাহকের হাতে বিকল্প কমে যাবে। রাষ্ট্রায়ত্ত বিমা সংস্থাগুলিকে শেষ করাই কেন্দ্রের আসল উদ্দেশ্য কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে।
সংগঠনের আহ্বায়ক কে সি লোকেশ এবং যুগ্ম আহ্বায়ক সুদীপ্ত সরকার দাবি করেন, বিমা সংস্থাগুলির প্রিমিয়াম বাবদ যা আয় করে, তার ৮৪ থেকে ৮৭ শতাংশই ক্লেম মেটাতে চলে যায়। এর প্রধান কারণ হাসপাতাল এবং গাড়ি মেরামতির কারখানাগুলির অতিরিক্ত বিল। একই চিকিৎসায় নগদে যে টাকা নেওয়া হয়, বিমার ক্ষেত্রে তার চেয়ে অনেক বেশি টাকা ধার্য করা হয়। তাই এজেন্টদের ‘শাস্তি’ না দিয়ে এই দিকগুলিতে লাগাম পরানো উচিত বলে মনে করেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, প্রথমত, সর্বোচ্চ কমিশনের অন্তত ৭৫ শতাংশ ন্যূনতম কমিশন হিসাবে ধার্য করতে হবে এবং তা ২৫০ টাকার কম হবে না। এর পাশাপাশি বিমা সুগম পোর্টালে এজেন্টদের অন্তর্ভুক্তি, তাঁদের সামাজিক সুরক্ষার দেওয়ার দাবিও করেছেন তাঁরা।