হাওড়ায় চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু, এক সপ্তাহে বাঁকড়াতেই সংক্রামিত ১৯
  • ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: জমে রয়েছে আবর্জনা, তার মধ্যে জল। সেখানেই ডেঙ্গুর মশার বংশবিস্তার। তার জেরেই ডোমজুড়ের বাঁকড়ায় চিন্তা বাড়িয়েছে ডেঙ্গু। গত ১৪ থেকে ২০ অক্টোবর— এই এক সপ্তাহে এলাকায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ২৭ জন। তাঁদের মধ্যে ১৯ জনই বাঁকড়া-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা। পরিস্থিতিকে ‘আউটব্রেক’ বলে চিহ্নিত করেছে জেলার স্বাস্থ্যদপ্তর। সংক্রমণ ঠেকাতে নামানো হয়েছে ভেক্টর কন্ট্রোল টিম। চলছে মশা মারার তেল স্প্রে এবং জঞ্জাল সাফাইয়ের কাজ।

Advertisement

জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, হাওড়ায় চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা ৬২৩। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৬৪৭। বর্ষার শেষ লগ্নে নতুন করে সংক্রমণ বাড়ায় উদ্বেগে স্বাস্থ্যকর্তারা। মোট আক্রান্তের মধ্যে ৩৫০ জন হাওড়া পুরসভা এলাকার বাসিন্দা। পুর এলাকায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৭ জন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সংক্রমণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে বাঁকড়া। বাঁকড়া-১ নম্বর পঞ্চায়েতের মণ্ডলপাড়া, নিউ মণ্ডলপাড়া এবং উত্তরপাড়ায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। গত কয়েক দিনে এই তিন এলাকায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে স্বাস্থ্যদপ্তর।
হাওড়ার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ কিশলয় দত্ত জানান, বাঁকড়ায় জমে থাকা আবর্জনা এবং তার মধ্যে জল জমে থাকায় ডেঙ্গুর মশা বংশ বিস্তার করেছে। সেখান থেকেই সংক্রমণ ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘটনাস্থলে ভেক্টর কন্ট্রোল টিম পাঠানো হয়েছে। এলাকায় মশা মারার তেল স্প্রে করার পাশাপাশি জঞ্জাল সরানোর কাজও শুরু হয়েছে। ডেঙ্গুর সংক্রমণ যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে খবর, পঞ্চায়েত, জেলা প্রশাসন এবং রাজ্য প্রশাসনের তরফে কর্মী নিয়োগ করে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আবর্জনা সাফাই করা হচ্ছে। জমে থাকা জঞ্জাল সরিয়ে মশার বংশবিস্তার রোখাই এখন প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য। বর্ষার শেষ পর্যায়ে সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে বাঁকড়া সহ হাওড়ার বিভিন্ন এলাকার উপর নজর রাখা হচ্ছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগেরই চিকিৎসা চলছে হাওড়া জেলা হাসপাতালে। তবে তাঁদের মধ্যে একজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে কলকাতার আর জি কর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে তৎপরতা বাড়ানো 
হয়েছে।  নিজস্ব চিত্র