Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অল্পবয়সিদের মোবাইল ছাড়িয়ে বইমুখী করতে গ্রন্থাগারগুলির উন্নয়নে উদ্যোগ

টিনএজারদের ট্রেন্ড হয়ে উঠেছে রিলস, গেম দেখা। লাইব্রেরিতে গিয়ে বই পড়া তাঁদের কাছে সেকলে হয়ে গিয়েছে।

অল্পবয়সিদের মোবাইল ছাড়িয়ে বইমুখী করতে গ্রন্থাগারগুলির উন্নয়নে উদ্যোগ
  • ১৫ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: টিনএজারদের ট্রেন্ড হয়ে উঠেছে রিলস, গেম দেখা। লাইব্রেরিতে গিয়ে বই পড়া তাঁদের কাছে সেকলে হয়ে গিয়েছে। পাঠ্যপুস্তক না পড়লেই নয়। তাই বাধ্য হয়ে তারা বইয়ের পাতা ওল্টায়। অবসর পেলেই মোবাইলে তারা বুঁদ হয়ে থাকছে। তাতে নানা সমস্যাও তৈরি হচ্ছে। এই নেশা দূর করতে গ্রামীণ এলাকার লাইব্রেরিগুলি ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। 

Advertisement

রাজ্যের গ্রন্থাগারমন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী বলেন, গ্রামীণ লাইব্রেরিগুলির পরিকাঠামা বদল করা হচ্ছে। বর্ধমান শহরের লাইব্রেরি বহু পুরানো। সেটির পরিকাঠামো বদল করা হচ্ছে। পাঠকদের যাতে ভালোভাবে লাইব্রেরিতে বসে পড়াশোনা করতে পারেন তা দেখা হবে। এছাড়া রোমাঞ্চ, অপরাধ এবং ভ্রমণমূলক বইগুলিও লাইব্রেরিতে ঠাঁই পাবে। 
তিনি আরও বলেন, বহু লাইব্রেরি কর্মীর অভাবে ঠিকমতো চলছিল না। ওই লাইব্রেরিতে কর্মী নিয়োগ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৬২০জন কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। আরও কর্মী নিয়োগ করা হবে। তার প্রস্তুতিও চলছে। রাজ্যে উচ্চ মাধ্যমিকে এবার প্রথম হয়েছে বর্ধমানের রূপায়ণ পাল। তিনি বলেন, বইয়ের কোনও বিকল্প নেই। পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি গল্পের বই পড়া আমার নেশা। সমস্ত ধরনের বইপড়া উচিত। সেক্ষেত্রে লাইব্রেরির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবাই বই কিনে পড়তে পারে না। তারা লাইব্রেরিতে গিয়ে পড়র সুযোগ পাবে।
উচ্চ মাধ্যমিকে ষষ্ঠ স্থানাধিকারী জয়দীপ পালের দাবিও একই। তিনি বলেন, বাড়ির কাছে লাইব্রেরিগুলিতে ভালো বই থাকলে অনেকেই পড়াশোনায় আরও আগ্রহী হয়ে উঠবে। রাজ্যের গ্রন্থাগারমন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ লাইব্রেরি গুলিতে বই কেনার জন্য অর্থ বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। কোনও লাইব্রেরি বন্ধ হয়ে থাকলে সেগুলি আবার খোলা হবে। নতুন প্রজন্মকে বইমুখী করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। 
পূর্ব বর্ধমান জলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার বলেন, মঙ্গলকোটের লাইব্রেরি পাঠকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা হবে। সেখানে একটি মিউজিয়াম তৈরি করা হবে। সেখানে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উদ্ধার হওয়া মূর্তি, প্রাচীন মুদ্রা সহ বিভিন্ন জিনিস চাক্ষুষ করা যাবে। পাঠকরা লাইব্রেরিতে বই পড়ার পাশাপাশি চোখের সামনে ঐতিহাসিক নিদর্শন দেখার সুযোগ পাবে। 
গ্রন্থাগার দপ্তর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বই পড়ার প্রবণতা কমলেও কেনার আগ্রহ কমেনি। গত বছর মুর্শিদাবাদ জেলায় কলকাতার পর সবচেয়ে বেশি বই বিক্রি হয়েছে। অন্যান্য জেলার বইমেলা গুলিতেও বই বিক্রি বেড়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ