সংবাদদাতা, পতিরাম: বালুরঘাট শহরের মধ্যদিয়ে বয়ে যাওয়া আত্রেয়ী খাঁড়ি সংস্কারের দাবি দীর্ঘদিনের। এবার শুধু আত্রেয়ী খাঁড়ি নয়, আত্রেয়ী খাঁড়ির পাশাপাশি শহরের আরও তিনটি খাঁড়ির কচুরিপানা, আবর্জনা পরিষ্কার ও সংস্কার হতে চলেছে। বালুরঘাট শহরের আত্রেয়ী বা ডাঙ্গা, খিদিরপুর, ডাকরা ও রামকৃষ্ণপল্লি- এই চারটি খাঁড়িতে কচুরিপানা, শৈবাল সহ জঞ্জাল সাফাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন সূত্রের খবর, বালুরঘাট পুরসভার তরফে এমনই প্রস্তাব সেচমন্ত্রীর কাছে গিয়েছিল। সেই প্রস্তাবে সাড়া দিয়েছে সেচদপ্তর। চলতি আর্থিক বছরে সেই কাজের জন্য ১৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রতি বছর এখন থেকে ওই খাঁড়িগুলিকে সংস্কার করবে সেচদপ্তর। আগামীতে পুরসভার তরফে ওই খাঁড়িগুলিতে সৌন্দর্যায়নের কাজ করবে পুরসভা। বিশেষ করে আত্রেয়ী খাঁড়িতে দীর্ঘদিন আগে সৌন্দর্যায়নের পাশাপাশি বোট চালানো সহ নানা ধরনের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু অজানা কারণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। এবার ওই খাঁড়ি সংস্কার হলে সেই কাজেই হাত লাগাবে পুরসভা। বালুরঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান অশোক মিত্র বলেন, রাজ্যের সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়ার সঙ্গে সরাসরি কথা বলে এজন্য আর্থিক বরাদ্দের দাবি করেছিলাম। সেইমতো ১৮ লক্ষ টাকা করে প্রতি বছর দেওয়া হবে। ওই টাকায় ডাঙ্গা, রামকৃষ্ণপল্লি, খিদিরপুর ও ডাকরা খাঁড়ির কচুরিপানা ও জঞ্জাল তুলে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করবে জেলা সেচদপ্তর। এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন হলেই, আমরা ডাঙ্গা খাঁড়িকে সৌন্দর্যায়নের পাশাপাশি আরও একাধিক পরিকল্পনা করতে পারব। সেচদপ্তর সূত্রের খবর, ১৮ লক্ষ টাকা আর্থিক বরাদ্দে মূলত ওই খাড়িগুলির কচুরিপানা এবং জঞ্জাল পরিষ্কার করা হবে। খাঁড়িগুলির নাব্যতা এবং পরিবেশের সুষ্ঠু ভারসাম্য রক্ষার জন্যই কাজগুলি হবে। এবিষয়ে জেলা সেচদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, পুরসভা এই প্রস্তাব দিয়েছিল। রাজ্য থেকে তা অনুমোদন হয়েছে। দ্রুত এই কাজের টেন্ডার করা হবে। প্রসঙ্গত, বালুরঘাট শহরের মধ্যদিয়ে ডাঙ্গা খাঁড়িটি প্রবাহিত হয়ে আত্রেয়ী নদীতে মিশেছে। ওই খাঁড়িটি বালুরঘাট শহরের ডাঙ্গা বা আত্রেয়ী খাঁড়ি বলে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরেই ওই খাঁড়ি আবর্জনা ও কচুরিপানায় ভরে গিয়েছে। ফলে খাঁড়ির নাব্যতা কমে গিয়েছে। সম্প্রতি এই খাঁড়িতেই এ কে গোপালন কলোনিতে গার্ড ওয়াল দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। সম্প্রতি বালুরঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান ক্রেতা সুরক্ষামন্ত্রী বিপ্লব মিত্রের পরামর্শে সেচমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। এরপরেই এই বরাদ্দ এসেছে। নিজস্ব চিত্র



