সংবাদদাতা, কান্দি: কান্দি শহরের ১০০ বছরের পুরনো নিকাশি সমস্যার সমাধান হতে চলেছে। প্রায় ৪ কোটি ৬৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে শহরের ‘লাইফলাইন’ বলে পরিচিত প্রধান নিকাশিনালা স্বরূপখালের আমূল সংস্কার হচ্ছে। এছাড়া, পুরসভার তরফে প্রায় আড়াই কোটি টাকায় শহরের সমস্ত নিকাশিনালা কংক্রিটের করা হচ্ছে। পুরসভার দাবি, বর্ষার আগেই শহরের নিকাশি সমস্যার সমাধান হতে চলেছে।
বহু বছর ধরেই কান্দি শহর নিকাশি সমস্যায় জর্জরিত। সামান্য বৃষ্টিতেই শহর জলমগ্ন হয়ে পড়ে। ২০০০ সালের বন্যায় এশহর খুব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। শহরের বাসিন্দারা সপ্তাহভর জলবন্দি হয়ে পড়েছিলেন। এরপর থেকেই শহরের নিকাশি সমস্যা সমাধানের জোরালো দাবি ওঠে। অবশেষে বাসিন্দাদের সেই দাবি মিটতে চলেছে।
সেচদপ্তর জানিয়েছে, স্বরূপখালের সংস্কারের জন্য প্রায় ৪ কোটি ৬৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। কাজ অনেকটা এগিয়েছে। প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার নালা খননের পাশাপাশি দু’পাড় কংক্রিট দিয়ে বাঁধানো হচ্ছে। পাড়ের উপর রেলিং দেওয়া হবে। শহরের সমস্ত নিকাশিনালার জল যাতে স্বরূপখালে পড়তে পারে, সেজন্য দেড় মিটার গভীরতার কিছু নতুন নালাও তৈরি হচ্ছে। সেচদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, জোরকদমে কাজ চলছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত করতে কান্দি পুরসভা সবরকম সাহায্য করছে।
প্রধান নিকাশিনালার সঙ্গে শহরের সমস্ত নালাকে সংযুক্ত করার কাজ শুরু করেছে পুরসভা। সেইসঙ্গে পুরসভার তরফে শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের নিকাশিনালা পাকা করা হচ্ছে। নানা জায়গায় হাইড্রেন তৈরির পাশাপাশি পুরনো নালা সংস্কার হচ্ছে। এই প্রকল্পে ২কোটি ৩০লক্ষ ৩হাজার ৯২৮ টাকা বরাদ্দ হয়েছে।
পুর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়নে এত বড় কর্মযজ্ঞ আগে কখনও হয়নি। স্বরূপখাল সংস্কারের জন্য পুরসভার তরফে রাজ্য সরকারের কাছে বারবার আবেদন করা হয়েছিল। কয়েকমাস আগে রাজ্যের সেচমন্ত্রী পার্থ ভৌমিক এই প্রকল্প অনুমোদন ও টাকা বরাদ্দ করেন।
পুরসভার চেয়ারম্যান জয়দেব ঘটক বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডের নিকাশি ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থায় শহরের প্রতিটি নালার জল স্বরূপখালে এসে পড়বে। এতে কান্দির নিকাশি সমস্যা চিরতরে মিটে যাবে। বর্ষার আগেই নিকাশি সমস্যা মিটবে। কান্দির বিধায়ক অপূর্ব সরকার বলেন, শহরের নিকাশি সমস্যা মেটানোর চেষ্টাকে ধন্যবাদ জানাই।